বিজ্ঞাপন

করোনা সংকট মোকাবিলায় এই মুহূর্তে ব্যাপক হারে পরীক্ষা আর আইসোলেশন (নিজেকে বিচ্ছিন্ন রাখা) দরকার। করোনা পজিটিভ হলে সবার হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নিতে হয় না। তাঁদের স্বাভাবিক নিয়ম মেনে চলা ও কিছু ওষুধপথ্য সেবনের পাশাপাশি আইসোলেশনে থাকাই যথেষ্ট। দেশের প্রায় সব হাসপাতালের আশপাশেই স্কুল আছে। দেশের স্কুলগুলো এখন বন্ধ। সরকার যদি সিদ্ধান্ত নেয়, আগামী ছয় মাস সব স্কুল বন্ধ রাখা হবে, তাহলে সেগুলোকে ভাড়া নিয়ে আইসোলেশন কেন্দ্র বানাতে পারে। এর ফলে কাউকে হাসপাতালে নেওয়ার প্রয়োজন হলে সঙ্গে সঙ্গে তা করা সম্ভব হবে। স্কুলগুলো ভাড়া নিতে বাজেটে বড় বরাদ্দ দিতে হবে। এতে স্কুল কর্তৃপক্ষের আয় হবে, তারাও আর্থিকভাবে বেঁচে যাবে। অস্ট্রেলিয়ায় এভাবেই করোনা মোকাবিলা করা হচ্ছে।

এ ছাড়া করোনার সময়ে হাসপাতালগুলোতে কোন ধরনের চিকিৎসাসামগ্রী দরকার, তা জানতে মাঠপর্যায়ের চাহিদা জানতে হবে। কিন্তু নীতিনির্ধারকেরা সেদিকে নজর দেন না। প্রতিবছরের মতো কিছুটা বাজেট বাড়িয়ে দেন মাত্র।

সার্বিকভাবে গত কয়েক বছরে স্বাস্থ্য খাতের মৌলিক অবকাঠামো উন্নয়নে বড় কোনো বিনিয়োগ হয়নি। সরকারি হাসপাতালে যে ধরনের ওষুধ রাখা হয়, সেগুলোর দাম বেশ কম। যেমন ভিটামিন এ, ভিটামিন ডি ইত্যাদি। এসব ওষুধ রোগীরা সহজেই বাজার থেকে কিনতে পারেন। কিন্তু অ্যান্টিবায়োটিক কিংবা দামি ওষুধ রাখা হলে গরিব মানুষকে চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি সহজে ওষুধও দেওয়া সম্ভব হতো। তাই দামি ও প্রয়োজনীয় ওষুধ সংগ্রহে বাজেট বাড়ানো উচিত। এ ছাড়া শহর এলাকায় সরকারি হাসপাতালগুলোতে যত চিকিৎসক আছেন, সেই তুলনায় শয্যা কম। সে জন্য শয্যা বাড়ানো গেলে আরও বেশি চিকিৎসাসেবা দেওয়া যাবে। একই সঙ্গে গ্রামাঞ্চলেও সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক ও শয্যা—দুটোই বাড়ানো দরকার। তা করতে বাড়তি অর্থের প্রয়োজন।

করোনার সময়ে অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতার চিত্র দেখা গেছে। দেশের বেশির ভাগ মানুষ দিন এনে দিন খান। তাই কয়েক দিন সবকিছু বন্ধ থাকলে তাঁরা বিপদে পড়ে যান। লকডাউনের মতো বিধিনিষেধ দেওয়া হলে তখন বিপদে পড়া এসব মানুষের খাওয়া-পরার ব্যবস্থা করতে বাজেটে বরাদ্দ রাখতে হবে। আবার করোনার কারণে গত এক বছরে বহু মানুষ নতুন করে গরিব হয়ে গেছেন। এই নতুন দরিদ্রদের জন্যও আগামী অর্থবছরের বাজেটে নীতিসহায়তার পাশাপাশি নগদ প্রণোদনাও দেওয়া উচিত।

গত এক বছরে ব্যবসা-বাণিজ্য খারাপ গেছে। ব্যবসায়ীদের আয় কমেছে। চাকরি হারিয়েছেন বহু মানুষ। বলা যায়, দেশের মধ্যবিত্ত ধ্বংস হয়ে গেছে। অনেকেই এখন নিত্যপণ্য কিনতে ওএমএসের লাইনে দাঁড়াচ্ছেন। এই অবস্থায় নতুন বাজেটে কোনোভাবে নতুন কর আরোপ করা উচিত নয়, বরং বিদ্যমান কর ব্যবস্থায় ছাড় দেওয়া উচিত।

প্র বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন