বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এলডিসি উত্তরণের পর আমাদের অনেক প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হতে হবে। সে জন্য এখন থেকে আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে। আমাদের মানবসম্পদের দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত উন্নয়নে জোর দিতে হবে। এখন পর্যন্ত আমরা শুধু বিদেশি প্রযুক্তি ব্যবহার করেছি। কিন্তু নিছক ব্যবহারের মধ্যে সীমিত থাকলে চলবে না, আমাদের নতুন প্রযুক্তি তৈরি করতে হবে। সেটা হলে আমরা মূল্য সংযোজন করতে পারব।

সরকার তথ্য–প্রযুক্তির উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু আমাদের সব তৎপরতা সঠিক পথে এগোচ্ছে, তা বলা যাবে না। এখন পর্যন্ত আমাদের রপ্তানি খাত অতিমাত্রায় তৈরি পোশাক খাত–নির্ভর। এতে অনেক মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। দারিদ্র্য বিমোচনে বড় ভূমিকা পালন করেছে এই খাত, এ ব্যাপারে কারও দ্বিমত থাকার অবকাশ নেই। কিন্তু এই খাতের শ্রমিকদের মজুরি বাড়েনি। তাঁদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন হয়নি। চীনে এক সময় তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের মজুরি আমাদের শ্রমিকদের প্রায় সমান ছিল। কিন্তু তারা এখন সেই অবস্থায় নেই। গত ১০ বছরে তাদের শ্রমিকদের মজুরি প্রায় ১০ গুণ বেড়েছে। আমাদের শ্রমিকদের ক্রয়ক্ষমতা না বাড়লে অর্থনীতিতে গতি আসবে না। আবার এই খাতে আমরা মূলত নিম্ন দক্ষতার কাজ করে থাকি। সেখান থেকেও বেরিয়ে আসার চেষ্টা করতে হবে। আমাদের যেমন উচ্চ প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে, তেমনি উচ্চ প্রযুক্তি তৈরিও করতে হবে।

একই সঙ্গে আমাদের মানবসম্পদের দক্ষতা বিকশিত করা জরুরি। সেটা না হলে উন্নত জীবনমান অর্জন করা সম্ভব হবে না। এ জন্য আমাদের মানসিকতা পরিবর্তন জরুরি। দেশের তরুণদের এখন স্বপ্ন হচ্ছে বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে সরকারি চাকরি করা। এই বিসিএস পরীক্ষার জন্য দেশের তরুণেরা অনেক সময় অপচয় করেন। যাঁরা সরকারি চাকরি পান না, তাঁরা হতাশ হয়ে পড়েন। অথচ কারখানায় উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন কর্মী পাওয়া যায় না। এটা জাতির জন্য বড় অপচয়। ভারতের একজন প্রযুক্তি স্নাতক গুগল ও ফেসবুকের মতো কোম্পানির প্রধান নির্বাহী হওয়ার স্বপ্ন দেখেন। তাঁরা আইআইটি থেকে পাস করে বৈশ্বিক পরিসরে প্রতিযোগিতা করেন। আমাদের এখন ঠিক সেই মানসিকতা দরকার। বিসিএসের মোহ থেকে বেরিয়ে আসা এখন সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে।

এই বাস্তবতায় আমরা বিজয়ের ৫০ বছর উদ্‌যাপন করলাম। এখন পরবর্তী ধাপে যেতে আমাদের বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ পেরোতে হবে। বিষয়টি হলো, আমাদের নিজের অবস্থা বুঝতে হবে। গত ৫০ বছরে আমাদের অর্জন অনেক, কিন্তু তা নিয়ে আত্মতুষ্টিতে ভোগার অবকাশ নেই। সংখ্যাগত অর্জন নিয়ে বেশি মাতামাতি করলে ভুল পথে পরিচালিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। সঠিক নীতি প্রণয়ন করতে আমাদের মোহমুক্ত হতে হবে।

মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন করতে হবে, এটাই সবচেয়ে বড় কথা। সব উন্নয়ন ঢাকাকেন্দ্রিক হওয়ায় জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে গেছে। ঢাকায় অভিবাসন করার কারণে অনেকের আয় বেড়েছে, কিন্তু এক জায়গায় এত মানুষ থাকার কারণে বাসস্থানসহ সবকিছুর ব্যয় বেড়ে গেছে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, নগর দরিদ্রদের জীবন সবচেয়ে অরক্ষিত। অর্থাৎ নগরের শ্রমজীবী ও দরিদ্র মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন হচ্ছে না, বৈষম্য আরও বেড়ে গেছে। এ দুরবস্থা নিরসনে সবকিছু বিকেন্দ্রীকরণের বিকল্প নেই। দেহের সব রক্ত মুখে জড়ো হওয়া যেমন স্বাস্থ্যের লক্ষণ নয়, তেমনি দেশের সবকিছু ঢাকায় কেন্দ্রীভূত করাও ভালো নীতির পরিচায়ক নয়।

মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন করতে হবে, এটাই সবচেয়ে বড় কথা। সব উন্নয়ন ঢাকাকেন্দ্রিক হওয়ায় জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে গেছে। ঢাকায় অভিবাসন করার কারণে অনেকের আয় বেড়েছে, কিন্তু এক জায়গায় এত মানুষ থাকার কারণে বাসস্থানসহ সবকিছুর ব্যয় বেড়ে গেছে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, নগর দরিদ্রদের জীবন সবচেয়ে অরক্ষিত। অর্থাৎ নগরের শ্রমজীবী ও দরিদ্র মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন হচ্ছে না, বৈষম্য আরও বেড়ে গেছে। এ দুরবস্থা নিরসনে সবকিছু বিকেন্দ্রীকরণের বিকল্প নেই। দেহের সব রক্ত মুখে জড়ো হওয়া যেমন স্বাস্থ্যের লক্ষণ নয়, তেমনি দেশের সবকিছু ঢাকায় কেন্দ্রীভূত করাও ভালো নীতির পরিচায়ক নয়।

প্র বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন