default-image

করোনা সংক্রমণ হঠাৎ বেড়ে গেছে। সে কারণে সরকার লকডাউনের মতো ব্যবস্থায় গেছে, যদিও তৈরি পোশাকসহ অন্য শিল্পকারখানা বিধিনিষেধের আওতার বাইরে রয়েছে। আমরা বুঝতে পারছি, অন্য ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিপুল লোকসানের মুখে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু বর্তমানের চেয়ে যদি বেশি খুলে দেওয়া হয়, তাহলে সংক্রমণের হারটা অনেক বেড়ে যাবে। সে কারণে লকডাউনের মধ্যে সরকার যতটুকু খোলা রেখেছে, সেটির চেয়ে আমি বেশি কিছু চাই না।

সংক্রমণ তৈরি পোশাক খাতের বাইরে বেশি হচ্ছে। আমাদের কাছে রেকর্ড অনুযায়ী, গত ৩১ মার্চ পর্যন্ত এক বছরে ৭০৯ পোশাকশ্রমিক করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। আমাদের শ্রমিকদের বেশির ভাগের বয়স ১৮-৩৫ বছরের মধ্যে। গড় বয়স ২৩ দশমিক ৯ বছর। সে জন্য আমাদের শিল্পে আক্রান্ত একেবারেই নগণ্য। আমাদের শিল্পের শ্রমিকদের মধ্যে যেন সংক্রমণ না বাড়ে, সে জন্য আমরা যেসব শ্রমিক হাঁটাপথের দূরত্বে থাকেন, তাঁদের দিয়ে কারখানাগুলো চালাতে চাই। বৃহত্তর স্বার্থেই আমরা সরকারকে সহায়তা করতে চাই।

বিজ্ঞাপন

সরকারের বিধিনিষেধের কারণে বৈশাখের ব্যবসা মার খেল। তারপরও সরকার বৈশাখের আগের পাঁচ দিন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখার সুযোগ দিয়েছে। এতে অনেক মানুষ বিপণিবিতানে ভিড়ও করেছেন। পয়লা বৈশাখে যেটুকু ব্যবসা হয়েছে, তার চেয়ে বেশি দেওয়ার সুযোগ ছিল না।

বর্তমানে ঈদকেন্দ্রিক ব্যবসা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে এক সপ্তাহে যদি সংক্রমণ খুব বেশি না বাড়ে, তাহলে সরকার হয়তো আরও কিছুটা ছাড় দেবে। কারণ, জীবন-জীবিকার সমন্বয়টা খুবই জরুরি। জীবিকার জন্য যদি অনেক বেশি জীবন চলে যায়, তাহলে সেটিও কাম্য নয়। সংক্রমণ বেড়ে গেলে সরকার আরও শক্ত হবে।

আমাদের প্রতিযোগী দেশ ভিয়েতনাম করোনা মহামারিকে ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছে। সে কারণে গত এক বছরে দেশটিতে মাত্র ৬৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের এক দিনও কারখানা বন্ধ রাখতে হয়নি। আসলে দেশটির জনগণ প্রথম থেকেই স্বাস্থ্যবিধি শক্তভাবে মেনেছেন। সেই তুলনায় আমাদের দেশে সচেতনতা কম। আমরা এখনো মাস্ক পরি না। নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষ স্বাস্থ্যবিধি একেবারেই মানছেন না। সরকার চেষ্টা করছে। তবে আমাদের মতো ঘনবসতিপূর্ণ দেশে স্বাস্থ্যবিধি মানানো খুব কঠিন। সবাইকেই দায়িত্ব নিতে হবে।

করোনার কারণে গত এক বছরে তৈরি পোশাকের ব্যবসা অনেকটা কমে গেছে। বর্তমানে চলমান লকডাউন যদি দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে ব্যবসা আরও কমবে। ক্রয়াদেশ দেওয়া কমিয়ে দেবে ক্রেতা প্রতিষ্ঠান। ক্রয়াদেশ পেলেও উৎপাদন করতে পারব না।

করোনার কারণে গত এক বছরে তৈরি পোশাকের ব্যবসা অনেকটা কমে গেছে। বর্তমানে চলমান লকডাউন যদি দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে ব্যবসা আরও কমবে। ক্রয়াদেশ দেওয়া কমিয়ে দেবে ক্রেতা প্রতিষ্ঠান। ক্রয়াদেশ পেলেও উৎপাদন করতে পারব না। ইউরোপের অনেক দেশে লকডাউন চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থা কিছুটা ভালো। তবে সেখানেও আবার করোনা সংক্রমণ বাড়ছে। সেই জায়গায় আমাদের লকডাউন বাড়লে সব ব্যবসাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

সাত দিন পর সংক্রমণ না কমলে হয়তো সেটিকে আরও এক সপ্তাহ বাড়াতে হবে। তবে তারপর অবশ্যই অর্থনীতি খুলে দিতে হবে। তখন স্বাস্থ্যবিধি মানাতে সরকারকে প্রয়োজনে আরও কঠোর হতে হবে। আমাদের কাছে জীবন গুরুত্বপূর্ণ। সেই জীবনকে ভারসাম্যপূর্ণ করার জন্য জীবিকারও অনেক প্রয়োজন। বর্তমান পরিস্থিতিতে আমরা চাচ্ছি টিকা দেওয়ার বিষয়টি কতটা দ্রুত করা যায়। টিকা দেওয়া হলে পরিস্থিতির অনেক উন্নতি হবে। এ ক্ষেত্রে আমেরিকা ভালো উদাহরণ।

বিজ্ঞাপন
প্র বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন