টিভি, ফ্রিজ ও এসির মতো গৃহস্থালি ছোট ছোট ইলেকট্রনিক পণ্যের বাজারও বড় হচ্ছে। সে জন্য ব্লেন্ডার, মিক্সচার, রাইসকুকার, ইলেকট্রিক কেটলি, জুসার, টোস্টার, কফি মেকার, প্রেশারকুকার, আয়রন, ভ্যাকুয়াম ক্লিনার ইত্যাদি পণ্য উৎপাদনে নজর দিয়েছে দেশীয় কোম্পানিগুলো। তাতে আমদানি যেমন কমেছে, তেমনি আগের চেয়ে কিছুটা সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য পাচ্ছেন ভোক্তারা।

একাধিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দেশের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ছে। আর শহরে থেকে প্রত্যন্ত এলাকায় পৌঁছে গেছে বিদ্যুতের সংযোগ। আবার নগরজীবনে ব্যস্ততাও বেড়েছে। সব মিলিয়ে তাই গৃহস্থালি ইলেকট্রনিক পণ্যের চাহিদা বাড়ছে। বর্তমানে দেশে এসব পণ্যের প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার বাজার রয়েছে। প্রতিবছর ২০-২৫ শতাংশ হারে গৃহস্থালি ইলেকট্রনিক পণ্যের বাজারটি বড় হচ্ছে। সম্ভাবনা থাকায় ওয়ালটন, ভিশন, যমুনা, কিয়াম, মিনিস্টারসহ কয়েকটি দেশীয় প্রতিষ্ঠান গৃহস্থালি ইলেকট্রনিক পণ্য উৎপাদনে মনোযোগী হয়েছে। সরকারও এ খাতে নীতিসহায়তা দিচ্ছে।

যমুনা ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড অটোমোবাইলসের পরিচালক (বিপণন) সেলিম উল্যা বলেন, ২০১০ সালে বাংলাদেশের হোম অ্যাপ্লায়েন্সের বাজারের ৮০ শতাংশ বিদেশি ব্র্যান্ডের দখলে ছিল। আর বর্তমানে ৮০ শতাংশই দেশি ব্র্যান্ডের দখলে।

চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে ইলেকট্রনিক পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে উৎসাহ দিতে নানা রকম ছাড় দিয়েছে সরকার। দেশীয় ইলেকট্রনিক পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন পণ্যে উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট অব্যাহতি পেয়েছে। পণ্যগুলো হচ্ছে ব্লেন্ডার, জুসার, মিক্সচার, গ্রাইন্ডার, ইলেকট্রিক কেটলি, রাইসকুকার, মাল্টি কুকার, প্রেশারকুকার, ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওয়েভ ওভেন ও ইলেকট্রিক ওভেন। এ ছাড়া রেফ্রিজারেটর, ফ্রিজার ও তার কমপ্রেসরের উৎপাদনে ভ্যাট অব্যাহতির সুবিধা আরও এক বছর বেড়েছে। এয়ার কন্ডিশনার ও তার কমপ্রেসরের উৎপাদনে ভ্যাট অব্যাহতির সুবিধা আরও তিন বছর বৃদ্ধি করা হয়েছে। এ ছাড়া কিছু হোম ও কিচেন অ্যাপ্লায়েন্স পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য কর অবকাশের সুযোগ দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।

গৃহস্থালি ইলেকট্রনিক পণ্যের চাহিদা বাড়ছে। বর্তমানে দেশে এসব পণ্যের প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার বাজার রয়েছে। প্রতিবছর ২০-২৫ শতাংশ হারে গৃহস্থালি ইলেকট্রনিক পণ্যের বাজারটি বড় হচ্ছে।

ইলেকট্রনিক পণ্যে দেশীয় ব্র্যান্ডের মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে ওয়ালটন। ১৯৯৯ সালে চীন থেকে আমদানি করা টেলিভিশন বিক্রির মাধ্যমে ওয়ালটন ইলেকট্রনিকের বাজারে যাত্রা শুরু করে। ২০০৫ সালের শেষ দিকে তারা গাজীপুরের কালিয়াকৈরে নিজস্ব জমিতে কারখানা নির্মাণ শুরু করে। বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয় ২০০৮ সালে, ফ্রিজ দিয়ে। ওয়ালটনের বার্ষিক উৎপাদনসক্ষমতা ৪২ লাখ ইউনিট ফ্রিজ। পরে ধীরে ধীরে অন্যান্য ইলেকট্রনিক পণ্য উৎপাদনে যায় প্রতিষ্ঠানটি।

জানতে চাইলে ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজের চিফ বিজনেস অফিসার (হোম অ্যাপ্লায়েন্স) আল ইমরান প্রথম আলোকে বলেন, ‘দেশে হোম অ্যাপ্লায়েন্সের বড় বাজার রয়েছে। সে কারণে আমরা এসব পণ্যের ওপর আগের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। উৎপাদন সক্ষমতাও বৃদ্ধি করেছি। বর্তমানে ব্লেন্ডার ও গ্রাইন্ডারের বাজারের শীর্ষ স্থান ওয়ালটনের দখলে। রাইসকুকার ও গ্যাস বার্নারেও বড় বাজার নিতে সক্ষম হয়েছি। দেশীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে ওয়ালটন ব্লেন্ডার, রাইসকুকার, গ্যাস বার্নার, আয়রন, ওভেনসহ বিভিন্ন ধরনের গৃহস্থালি ইলেকট্রনিক পণ্য পার্শ্ববর্তী ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, দক্ষিণ আফ্রিকাসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করছে বলেও জানান তিনি।

প্র বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন