বিজ্ঞাপন

টাকার নিরাপত্তা দেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক—ভুঁইফোড় কোনো বাণিজ্যিক ব্যাংক নয়। ব্যাপারটা হলো, রেস্তোরাঁয় খেয়ে বিল দেবেন বা ভগ্নহৃদয় আত্মীয়কে সহযোগিতা করতে অনলাইনে কমান্ড বা এসএমএসের এজেন্টের কাছে যেতে হবে না, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মাধ্যমেই তা পাঠানো যাবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক এভাবে ধীরে ধীরে ধরায় নেমে আসবে, সেই প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। বিশ্বের ৫০টি মুদ্রানীতি প্রণয়নকারী সংস্থা এখন ডিজিটাল মুদ্রা প্রবর্তনের চিন্তা করছে। বাহামা দ্বীপপুঞ্জ ইতিমধ্যে ডিজিটাল মুদ্রা ছেড়েছে। চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ই-ইউয়ানের পাইলটিং শুরু করেছে—পাঁচ লাখ মানুষের মধ্যে এই মুদ্রা ছেড়েছে তারা। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ২০২৫ সালের মধ্যে ভার্চ্যুয়াল ইউরো নিয়ে আসতে চায়। ব্রিটেন টাস্কফোর্স গঠন করেছে। আর বিশ্বের আর্থিক ব্যবস্থার শিরোমণি হাইপোথেটিক্যাল ই-ডলার ছেড়েছে।

সরকারি ডিজিটাল মুদ্রার ধারণার পেছনে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ভয়ও কাজ করছে। এখন দেখা যায়, কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুদ্রানীতির প্রভাব বৃদ্ধিতে ব্যাংকিং ব্যবস্থা কাজে লাগায়। পেমেন্ট, আমানত ও ঋণ ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে বেসরকারি ডিজিটাল জগতে চলে গেলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষে অর্থনৈতিক চক্র বজায় রাখা কঠিন হবে। সংকটের সময় তারা ব্যাংকিং ব্যবস্থায় টাকা ঢুকিয়ে যেভাবে তা মোকাবিলা করে, তা করা আরও কঠিন হবে। এ ছাড়া অনিয়ন্ত্রিত ডিজিটাল জগৎ জালিয়াতির স্বর্গরাজ্য হয়ে উঠতে পারে, এমন আশঙ্কা মোটেও অমূলক নয়।

তবে ডিজিটাল মুদ্রার কল্যাণে আর্থিক খাতের উন্নয়ন হতে পারে। আদর্শিকভাবে মূল্য সংরক্ষণের খুবই নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হচ্ছে অর্থ, তাতে যেমন হিসাব রাখা সুবিধা, তেমনি পেমেন্টের সুবিধাজনক মাধ্যম। টাকার ব্যাপারে মানুষের প্রতিক্রিয়া মিশ্র। ব্যাপারটা হলো, ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থের বিমা না থাকলে ব্যাংক পড়ে গেলে মানুষের টাকাও হারিয়ে যাবে। বিটকয়েন সবখানে গৃহীত হয় না। আর ক্রেডিট কার্ড তো হাতি পালার মতো ব্যাপার। সে কারণে সরকারি ডিজিটাল মুদ্রা হালে পানি পাবে, এমন সম্ভাবনাই বেশি।

সব মিলিয়ে বলা যায়, সরকারি ডিজিটাল মুদ্রার কল্যাণে বৈশ্বিক আর্থিক খাতের পরিচালন ব্যয় কমতে পারে। দ্য ইকোনমিস্ট–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ব্যয় পৃথিবীর সব মানুষের মাথাপিছু বার্ষিক ৩৫০ ডলার। বিশ্বের ১৭০ কোটি মানুষের ব্যাংক হিসাব নেই, এই বেঁচে যাওয়া টাকা দিয়ে তাঁদের আর্থিক খাতের আওতায় নিয়ে আসা যায়। এ ছাড়া ডিজিটাল মুদ্রা থাকলে সরকার তাৎক্ষণিকভাবে জনগণকে টাকা পাঠাতে পারে এবং সুদহার কমিয়ে শূন্যের নিচে নামিয়ে আনতে পারে। আর মানুষের কাছে ডিজিটাল মুদ্রার আবেদন তো চিরন্তন—তাৎক্ষণিক, নিরাপদ ও সর্বজনীন।

আবার ঠিক এ কারণেই ডিজিটাল মুদ্রা বিপদ ঘটাতে পারে। নিয়ন্ত্রণহীন এই মুদ্রা খুব তাড়াতাড়ি অর্থায়নের মূল উৎস হয়ে যাবে। নেটওয়ার্কের কারণে মানুষের পক্ষে এই নেটওয়ার্ক থেকে বেরিয়ে আসা কঠিন হয়ে উঠলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হবে। এতে ব্যাংকিং ব্যবস্থা অস্থিতিশীল হয়ে যেতে পারে।

দ্য ইকোনমিস্ট অবলম্বনে প্রতীক বর্ধন

প্র বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন