বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ড স্যামসাং প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে দেশেই পণ্য উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়েছে। তাদের পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করছে ফেয়ার ইলেকট্রনিকস ও ট্রান্সকম। বাজারজাতের সঙ্গে আরও যুক্ত হচ্ছে বাটারফ্লাই, র‌্যাংগস ও ইলেকট্রা ইন্টারন্যাশনাল।

জানতে চাইলে ইলেকট্রা ইন্টারন্যাশনালের বিক্রয় ও বিপণন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মো. মোবারক হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, গত বছর স্যামসাংয়ের টিভি বিক্রি করেছি ১০ হাজারের ওপরে। একই সময়ে ইলেকট্রা ও স্যামসাং ব্র্যান্ড মিলিয়ে ছয় হাজারের মতো ওয়াশিং মেশিন বিক্রি করেছি। ২০২০ সালে করোনার মধ্যে ওয়াশিং মেশিনের বিক্রি অবশ্য আরও একটু বেশি ছিল। করোনার মধ্যে ওয়াশিং মেশিন বিক্রির একটা ধুম ছিল, তা এখন নেই। তারপরও বিক্রি মোটামুটি ভালো।

বিদেশি ব্র্যান্ডের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে টিভি ও ওয়াশিং মেশিনে নতুন নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার করছে দেশীয় ব্র্যান্ডগুলোও। তাতে বিদেশি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে বাজারে শক্ত অবস্থান গড়ে তুলেছে দেশীয় কোম্পানিগুলোও। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ওয়ালটন, ভিশন, যমুনা, মিনিস্টার, কনকা, ইলেকট্রা, মাইওয়ান ও জেভিসি। বিদেশি ব্র্যান্ডের মধ্যে জনপ্রিয় সনি, স্যামসাং, সিঙ্গার, তোশিবা, টিসিএল, প্যানাসনিক, এলজি, বাটারফ্লাই, ইকো প্লাস ও শাওমি। এর মধ্যে কিছু ব্র্যান্ডের টিভির বাজারে ভালো অবস্থান, আর কারও শক্ত অবস্থান ওয়াশিং মেশিনের বাজারে।

২০২০ সালে দেশে টিভির বাজার ছিল ৫ হাজার ৭১৫ কোটি টাকার, যা ২০২১ সালে বেড়ে ৫ হাজার ৭৯২ কোটি টাকায় দাঁড়াতে পারে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এ বাজারের ৭০-৮০ শতাংশ দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ন্ত্রণ করবে বলে ওই গবেষণায় উল্লেখ করা হয়।

সরকারের নীতি সহায়তার ফলে দেশি ইলেকট্রনিকস ব্র্যান্ডগুলো বাজারে ভালো করছে বলে জানান ওয়ালটনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম মুর্শেদ। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘হোম অ্যাপ্লায়েন্সের মধ্যে আমাদের সিগনেচার পণ্য হতে যাচ্ছে ওয়াশিং মেশিন। গত (মার্চ) মাসে ওয়াশিং মেশিন বিক্রিতে বিদেশি একটা ব্র্যান্ডকে পেছনে ফেলে আমরা এক নম্বরে উঠে এসেছি। তবে টিভির বাজারে বিদেশি ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হচ্ছে। এ প্রতিযোগিতায় নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করতে আমরা গবেষণা ও মানোন্নয়নে আরও বিনিয়োগ করছি।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধীন পরিচালিত অলাভজনক প্রতিষ্ঠান মার্কেটিং ওয়াচ বাংলাদেশের গত বছরের এক জরিপের তথ্য বলছে, দেশের টিভির বাজারে ৫২ শতাংশ দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর দখলে, যার বড় ভাগটা ওয়ালটনের—২৫-২৭ শতাংশ। এরপর যথাক্রমে সিঙ্গার ৯ শতাংশ, মিনিস্টার ৪ শতাংশ, ভিশন ৩ শতাংশ, যমুনা ও নোভা ২ শতাংশ বাজারের অংশীদার।

জরিপের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে দেশে টিভির বাজার ছিল ৫ হাজার ৭১৫ কোটি টাকার, যা ২০২১ সালে বেড়ে ৫ হাজার ৭৯২ কোটি টাকায় দাঁড়াতে পারে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এ বাজারের ৭০-৮০ শতাংশ দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ন্ত্রণ করবে বলে ওই গবেষণায় উল্লেখ করা হয়। দেশের আটটি বিভাগে দুই হাজারের বেশি মানুষের সাক্ষাৎকার গ্রহণের মাধ্যমে এ জরিপ করা হয়।

দেশের ইলেকট্রনিক বাজারে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও নিত্য নতুন ডিজাইন-মডেলের পণ্য যেমন আসছে, তেমনি এ ব্যবসার বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে ব্যাপ্তিও বাড়ছে। বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান সনির সঙ্গে ব্যবসা করছিল র‌্যাংগস ইলেকট্রনিকস। সম্প্রতি সনি বাংলাদেশে স্মার্ট টেকনোলজিস (বিডি) লিমিটেডের সঙ্গে ব্যবসায়িক যাত্রা শুরু করেছে। এখন থেকে প্রতিষ্ঠানটি সনির সব ধরনের পণ্য বাংলাদেশে বিপণনে কাজ করবে।

প্রতিষ্ঠানটির উপ–মহাব্যবস্থাপক(বিপণন) আজাদ রহমান প্রথম আলোকে বলেন, এ ধরনের চুক্তির মাধ্যমে নতুন বিনিয়োগ আসে। প্রযুক্তি বিনিময় হয়। এতে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো আরও সমৃদ্ধ হয়। সনির সঙ্গে এই ব্যবসায়িক যাত্রা স্মার্ট টেকনোলজিসের সঙ্গে ক্রেতাদের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করবে বলে আশা তাঁর।

গুণগতমানের টিভি ও ওয়াশিং মেশিন প্রস্তুত ও বিপণনে দেশীয় ব্র্যান্ড ভিশন এরই মধ্যে ক্রেতাদের বেশ আস্থা অর্জন করেছে। প্রতিষ্ঠানটির বিপণন বিভাগের প্রধান রাকিব আহমেদ বলেন,বর্তমানে সব ধরনের হোম অ্যাপ্লায়েন্সের ক্ষেত্রে দেশে ভিশনের বাজার ১৫ শতাংশের মতো, যা প্রতিবছর ৩০ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশের বাজারে আমরাই প্রথম ফার ফিল্ড ভয়েস কন্ট্রোল, গুগল সার্টিফায়েড ও অফিশিয়াল অ্যান্ড্রয়েড টিভি নিয়ে এসেছি, যা রিমোট ছাড়াই কথার মাধ্যমে কাজ করে।’

প্র বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন