বিজ্ঞাপন

নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, একবার ঋণের জন্য একটি ব্যাংকের শাখায় গেলাম। ব্যবসা শুরু করার জন্য আমি ব্যাংকে ঋণের জন্য আবেদন করলাম। তখন ব্যাংক থেকে আমাকে বলা হলো, ব্যাংকে তিন বছরের লেনদেন দেখাতে হবে। আমার তো সেটি নেই, আমি কীভাবে দেখাব। আমি তখন কেবল ব্যবসা শুরু করতে যাচ্ছি। তাই বলে আমি ঋণ পাব না? যাক, শেষ পর্যন্ত ওই শাখায় আমার অভিজ্ঞতা সুখকর হয়নি।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, একজন নারী যদি ব্যবসা শুরু করতে চান, তাহলে তিনি কীভাবে ব্যাংকের সঙ্গে তিন বছরের লেনদেন দেখাবেন? এটাই নারী উদ্যোক্তাদের ব্যবসা শুরু করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা। এই শর্ত প্রত্যাহার করে নেওয়া উচিত। নারী উদ্যোক্তাদের জন্য অর্থের জোগান নিশ্চিতে আমার প্রস্তাব হচ্ছে, সরকার বাজেটে ১৮০ কোটি টাকার একটা প্যাকেজ রাখতে পারে, যা থেকে তাঁরা কোনোরকম হয়রানি ছাড়া ঋণ নিয়ে সহজেই নতুন ব্যবসা শুরু করতে পারেন।

সরকার এখন বাজেটে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখছে। কিন্তু আমি যতটুকু জানি, সেখান থেকে সহজেই ঋণ পাওয়া যায় না। শর্ত অনেক কঠোর। যাঁরা ব্যবসা শুরু করতে চান, তাঁদের পক্ষে এসব শর্ত পূরণ করা কঠিন। শর্তগুলো শিথিল করা দরকার।

আমি মনে করি, নারীদের জন্য সুদের হার কিছুটা কমানোসহ ব্যাংকিং পদ্ধতি আরও সহজ করা উচিত। ঋণের সুদের হার এখন ৯ শতাংশ আছে। বিদেশে এই হার ২ থেকে ৪ শতাংশ। এটা সরকারকে বিবেচনায় রাখতে হবে।

আমি কাগজে-কলমে এইচএস কোড দিয়েই চীন থেকে কাঁচামাল আমদানি করি। তারপরও চট্টগ্রাম বন্দরে শুল্ক কর্মকর্তাদের কাছে প্রায়ই আমাদের হয়রানির শিকার হতে হয়। গত দুই বছরে আমার সঙ্গে অন্তত তিনবার এ রকম ঘটনা ঘটছে। এইচএস কোডের বিপরীতে পণ্য আমদানির প্রমাণ করতে হয়েছে। ব্যাখ্যা দিতে হয়েছে। এসব করতে গিয়ে সময়মতো পণ্য ডেলিভারি নিতে পারি না। এতে পণ্য বিক্রির আদেশ বাতিল হয়ে যায়। তাই আমাদের শুল্ক বিভাগকে আরও আন্তরিক হতে হবে। তা না হলে নতুন নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যবসা করা কঠিন হয়ে যাবে।

অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের পাশাপাশি সিলেটে আমাদের ‘ট্রি টপ অ্যাডভেঞ্চার’ নামে একটা রিসোর্ট আছে। রিসোর্টটি করতে গিয়ে আমার মনে হয়েছে, বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে অবকাঠামোগত সমস্যা। সরকার অনেক কাজ করছে। তা সত্ত্বেও পর্যটন খাতে বিশেষ নজর দেওয়ার প্রয়োজন আছে। কারণ, বাংলাদেশে যেটা দেখলাম, যেকোনো হোটেল কিংবা রিসোর্টে যেতে মারাত্মক কষ্ট হয়। কোথাও কোথাও তো সংযোগ সড়কও থাকে না।

ধরুন, আপনি সিলেটের রাতারগুল যেতে চান। কিন্তু সেখানে যাওয়ার রাস্তা অত্যন্ত নাজুক। রাস্তাগুলো যদি ঠিক থাকত, সেখানে পর্যটনের বিকাশ ঘটত। প্রচুর মানুষের কর্মসংস্থানও হতো। সার্বিকভাবে দেশেরই উন্নতি ঘটত। বাংলাদেশ অনেক সুন্দর দেশ বলে এখানে পর্যটনের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এর মাধ্যমে সরকার প্রচুর টাকা আয় করতে পারে। কিন্তু সেই সম্ভাবনা কাজে লাগানো যাচ্ছে না।

প্র বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন