default-image

করোনার মধ্যেও দেশে স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিকেল (এসইউভি) গাড়ির বিক্রিতে ততটা ভাটা পড়েনি, যতটা কমেছে অন্য গাড়ির বিক্রি। দেশে চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে ১ হাজার ১৩৭টি এসইউভির নিবন্ধন দিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), যা স্বাভাবিক সময়ে মাসিক গড় বিক্রির চেয়ে ২১ শতাংশ বেশি।

বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো জানিয়েছে, এখন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে সাধারণ গাড়ির বদলে এসইউভি কেনার দিকে ঝোঁক বেশি। সরকারি ও বিভিন্ন বাহিনীর কর্মকর্তারাও এসইউভি কিনছেন বেশি। আরেকটি কারণ হলো, এখন পুরোনো বা রিকন্ডিশন গাড়ির দামেই এসইউভি পাওয়া যায়।

অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান তাদের একটু উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের গাড়ি কিনে দেয়। তেমনই এক প্রতিষ্ঠান বার্জার বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রূপালী চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা ক্রেতার মানসিকতার দিক দিয়ে বড় ধরনের একটি পরিবর্তন দেখছি। তরুণ কর্মকর্তারা এখন এসইউভি চাইছেন।’ তিনি বলেন, এর একটা কারণ হতে পারে এসইউভি নিয়ে দূরপাল্লার পথে স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করা যায়। এখন নতুন এসইউভি যে দামে পাওয়া যাচ্ছে, তা কেনা কোম্পানির জন্যও লাভজনক।

দেশে চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে ১ হাজার ১৩৭টি এসইউভির নিবন্ধন দিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), যা স্বাভাবিক সময়ে মাসিক গড় বিক্রির চেয়ে ২১ শতাংশ বেশি।
বিজ্ঞাপন
বিআরটিএর হিসাবে, ২০২০ সালে দেশে ১২ হাজার ৪০৩টি প্রাইভেট কার বিক্রি হয়, যা আগের বছরের চেয়ে ৪ হাজার ৩৭৬টি কম। নিবন্ধন কমেছে ২৬ শতাংশ। একই সময়ে এসইউভি বিক্রির হার কমার চিত্র তুলনামূলক কম ছিল। ২০২০ সালে এসইউভি নিবন্ধিত হয় ৪ হাজার ৯১১টি, যা আগের বছরের চেয়ে ১৩ শতাংশ কম।

গাড়ি বিক্রেতারা জানান, দেশের বাজারে এখন আট-নয়টি ব্র্যান্ডের এসইউভি বেশি জনপ্রিয়। এর মধ্যে জাপান, চীন, কোরিয়া, ভারতীয় ও জার্মান ব্র্যান্ড রয়েছে। করোনার বছর ২০২০ সালে সব গাড়ির বিক্রিই কমেছে।

বিআরটিএর হিসাবে, ২০২০ সালে দেশে ১২ হাজার ৪০৩টি প্রাইভেট কার বিক্রি হয়, যা আগের বছরের চেয়ে ৪ হাজার ৩৭৬টি কম। নিবন্ধন কমেছে ২৬ শতাংশ। একই সময়ে এসইউভি বিক্রির হার কমার চিত্র তুলনামূলক কম ছিল। ২০২০ সালে এসইউভি নিবন্ধিত হয় ৪ হাজার ৯১১টি, যা আগের বছরের চেয়ে ১৩ শতাংশ কম।

বাংলাদেশে এসইউভি জিপ নামেই পরিচিত। যদিও জিপ একটি ব্র্যান্ডের নাম। এসইউভি একটু উঁচু হয়ে থাকে, মানে হলো গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স বেশি থাকে। দূরের পথে উঁচু আসনে বসে নিরাপদ যাত্রার জন্য গাড়িগুলো সারা পৃথিবীতেই সুনাম কুড়িয়েছে।
বাজার ভালো দেখে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের মধ্যেও এসইউভির চীনা ব্র্যান্ড হাভালের বাংলাদেশের পরিবেশক এইস অটোস নতুন দুটি মডেলের এসইউভি নিয়ে এসেছে। ১২ এপ্রিল গাড়ি দুটির বাজারজাতকরণ উদ্বোধন করা হয়। এর মডেল নাম এইচ২ জলিয়ন ও এইচ৬। এইস অটোস জানিয়েছে, এগুলো হাভালের বিক্রিতে শীর্ষে থাকা দুই মডেল। নতুন দুই গাড়ির দাম ৩৫ লাখ টাকা থেকে শুরু।

default-image
করোনার মধ্যে মানুষের একটি অংশের আয় কমেছে, এটা ঠিক। তবে উচ্চ আয় ও উচ্চমধ্যবিত্তের গাড়ি কেনার সামর্থ্য আছে। এ কারণে বিক্রিও ভালো হচ্ছে।
এইস অটোসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আজহারুল ইসলাম

এইস অটোসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আজহারুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, করোনার মধ্যে মানুষের একটি অংশের আয় কমেছে, এটা ঠিক। তবে উচ্চ আয় ও উচ্চমধ্যবিত্তের গাড়ি কেনার সামর্থ্য আছে। এ কারণে বিক্রিও ভালো হচ্ছে। তিনি বলেন, ছুটির দিনে ঢাকার বাইরে যাওয়া ও একটু বাড়তি স্বাচ্ছন্দ্য পেতে মানুষ এসইউভি কিনতেই বেশি পছন্দ করেন। ব্যাংকঋণের সুদ কমে যাওয়া এবং সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি কেনার ঋণ এসইউভির বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

বাংলাদেশে জাপানি পুরোনো গাড়ির বাজারই বড়। সেখানেও এসইউভির হিস্যা বাড়ছে। পুরোনো জাপানি গাড়ির বিক্রেতারা জানিয়েছেন, টয়োটা, নিশান, হোন্ডাসহ জাপানি ব্র্যান্ডের পুরোনো বিভিন্ন এসইউভি বাংলাদেশে আমদানি হয়। বিক্রিও বেশ ভালো। দাম মোটামুটি ৩২ লাখ টাকা থেকে শুরু। তবে ৩৫ লাখ থেকে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত দামের এসইউভি বিক্রি হয়।

গাড়ি বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান অটো মিউজিয়ামের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাবিব উল্লাহর মতে, ক্রেতারা নিরাপত্তার দিকটি বিবেচনায় নিয়ে এসইউভি বেশি কিনছেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, এখন অনেককেই ঢাকার বাইরে কারখানায় যেতে হয়। দূরের পথে এসইউভিতে যাত্রায় তাঁরা নিরাপদ বোধ করেন।

সার্বিকভাবে গাড়ির ব্যবসা কেমন যাচ্ছে, জানতে চাইলে হাবিব উল্লাহ বলেন, ‘গাড়ির চাহিদা বাড়ছিল। আমরা মন্দা কাটিয়ে উঠছিলাম। এর মধ্যে আবার লকডাউন শুরু হলো।’

বিজ্ঞাপন
প্র বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন