বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

পারলে জি ছিল ভারতের সাধারণ মানুষের জন্য তৈরি প্রথম বিস্কুট। ১৯২৯ সালে পারলে কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন মোহন লাল দয়াল। তিনি ছিলেন মূলত রেশম ব্যবসায়ী। তবে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে একসময় ঠিক করলেন বেকারির ব্যবসা খুলবেন। লজেন্স, মিষ্টিজাতীয় পণ্য ইত্যাদি বানাবেন। পারলে কোম্পানিতে প্রথমে ক্যান্ডি তৈরি করা হতো। ভারতে তখন যেসব বিদেশি ক্যান্ডি বিস্কুট ছিল, তা বিক্রি হতো অনেক চড়া দামে। ব্রিটিশ কোম্পানিগুলোই কেবল সে সময় বিস্কুট ক্যান্ডির মতো পণ্য আমদানি করত। ইউনাইটেড বিস্কুট, হান্টলি অ্যান্ড পালমারস, ব্রিটানিয়া এগুলো ছিল তখনকার নামি দামি বিস্কুটের ব্র্যান্ড।

এ অবস্থা মোটেও পছন্দ ছিল না মোহন লাল দয়ালের। স্বদেশি আন্দোলনে উদ্বুদ্ধ ছিলেন তিনি। তাই ভারতে ক্যান্ডি তৈরির সিদ্ধান্ত নিলেন, যাতে ভারতীয় ভোক্তারাও সেই ক্যান্ডি কিনে তাঁদের পরিবারের সঙ্গে উপভোগ করতে পারেন। পরিকল্পনা নিয়েই বসে থাকেননি মোহনলাল। পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য জার্মানিতে গিয়ে ক্যান্ডি বানানোর প্রশিক্ষণ নিয়ে আসেন। প্রশিক্ষণ শেষে সেই সময়ে ৬০ হাজার রুপি খরচ করে ক্যান্ডি মেশিন কিনে দেশে আনেন। তারপর বর্তমানের মুম্বাইয়ে একটি নতুন ব্যবসা শুরু করেন। মুম্বাইয়ের ইরলা এবং পারলা দুই গ্রামের মধ্যে অবস্থিত একটি পুরোনো কারখানা কিনে নেন তিনি। পারলে নামটি এসেছে সেই এলাকার নাম থেকে, যেখানে কারখানাটির শুরু। শুরুতে কোম্পানিটিতে মাত্র ১২ জন কর্মী ছিলেন। তাঁদের কাজ শিখিয়েছিলেন মোহন লাল দয়াল। সেই সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা।

প্রথম পারলে কোম্পানির পণ্য ছিল কমলালেবুর ক্যান্ডি। মজার বিষয় হচ্ছে ভারতে এটি এখন পর্যন্ত বেশ জনপ্রিয় ক্যান্ডি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সংকটের সময়, প্রথম পারলে গ্লুকো বিস্কুট তৈরি শুরু করেন মোহন লাল। বিস্কুটটি সেই সময় দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং খুব সহজে বাজার দখল করে নেয়। দেখতে ভালো, খেতেও ছিল বেশ মজা। পারলের জেরে সব ব্রিটিশ কোম্পানি সেই সময়ে লোকসান দিতে শুরু করে। একসময় পারলে গ্লুকো একটি বড় ব্র্যান্ডে পরিণত হয়েছিল। শুধু এ দেশের মানুষ নয় ব্রিটিশদের মধ্যেও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল এই বিস্কুট। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যে সৈনিকেরা উপমহাদেশ থেকে গিয়েছিল, তাদের জন্যও বিস্কুট বানিয়েছিল মোহন লালের কোম্পানি। ব্রিটিশদের টেক্কা দিয়ে স্বদেশি পণ্যকে জনপ্রিয় করে ফেলেন মোহন লাল।

১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার পরপর কিছুটা বিপাকে পড়ে মোহন লালের ‘পারলে’ কোম্পানি। সে সময় গমের সংকট তৈরি হওয়ায় উৎপাদন কিছুদিনের জন্য বন্ধ রাখতে হয়। গমের সরবরাহ ঠিক না হওয়া পর্যন্ত বার্লি বিস্কুট তৈরি করে তারা। তবে পারলে বিস্কুটের অভাব বোধ করতে শুরু করে মানুষ। অল্প কিছুদিন পরেই আবার উৎপাদনে আসে পারলে। ১৯৮২ সালে পারলে গ্লুকোকে পারলে জি–তে পরিবর্তন করা হয়, কারণ, কোম্পানিটির গ্লুকো শব্দের পেটেন্ট ছিল না। পারলে গ্লুকো হলো পারলে জি। জি মানে জিনিয়াস।

বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৪০ কোটি পারলে জি বিস্কুট উৎপাদিত হচ্ছে। প্রতিবছর ১৪ হাজার ৬০০ কোটি বিস্কুটের প্যাকেট বিক্রি হয়। এমনকি এই করোনার সময় অনেক কোম্পানি ব্যবসায় ব্যাপক লোকসান করলেও পারলের ওপর তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি। করোনার সময় ভারতের অন্যতম বিক্রীত পণ্য হিসেবে রয়েছে পারলে জির নাম।

প্র বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন