default-image

খুলে দেওয়া হয়েছে শপিং মল। সরকারের এই সিদ্ধান্তে হাঁপ ছেড়ে বেঁচেছেন বাংলাদেশের স্থানীয় ফ্যাশনশিল্প খাতের উদ্যোক্তারা। আপাতত তাঁরা অন্তত ২০ দিন পাচ্ছেন ঈদের আগে। এই সময়টুকুতেই পুষিয়ে নিতে চান এ খাতের উদ্যোক্তারা।

করোনার কারণে গত বছর বৈশাখ এবং ঈদেও ব্যবসা হয়নি। এবার সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ছিল প্রতিটি ব্র্যান্ডের। এমনকি ডিসেম্বর থেকে পরিস্থিতির উন্নতিতে আশাবাদী হয়ে অতিরিক্ত বিনিয়োগও করে প্রতিটি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু নতুন করে লকডাউন শুরু হলে তারা একপ্রকার দিশেহারা হয়ে পড়ে। এর আগে শিথিল লকডাউনের টানাপোড়েনে জমেনি বৈশাখের বিক্রি। এই পরিস্থিতিতে খড়কুটো আঁকড়ে ধরার মতো সবাই নির্ভর করতে থাকেন অনলাইনে বিক্রির ওপর। ভার্চ্যুয়াল শপিংয়ের পরিসর এবং পরিমাণের ক্রমবৃদ্ধি সত্ত্বেও সেটা কোনোভাবেই সশরীর গিয়ে কেনাকাটার সঙ্গে কোনোমতেই তুলনীয় নয়। বরং একে ‘মরুতে শিশিরবিন্দু’ বলছেন ব্র্যাক এন্টারপ্রাইজেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তামারা আবেদ।

বর্তমানে ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রির বার্ষিক কেনাকাটা প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা। এর অন্তত ৫০ শতাংশই আসে ঈদে। গেলবার ব্যবসা না হওয়ায় আর্থিক সংকট মেটাতে অনেক প্রতিষ্ঠানই শাখা কমিয়েছে। এই শিল্প খাতে কর্মী ছাঁটাই হয়েছে কমপক্ষে ৩০ শতাংশ। কিছু প্রতিষ্ঠান ছাঁটাই না করে কমিয়েছে বেতন। আবার সংকট সত্ত্বেও কিছু ব্র্যান্ড বেতন হ্রাস কিংবা ছাঁটাই কোনোটাই করেনি। কিন্তু এবার ঈদে ব্যবসা না হলে তারাও সে পথ অনুসরণে বাধ্য হবে বলে আশঙ্কার কথা শুনিয়েছে।

শেষ পর্যন্ত দোকানপাট খুলে দেওয়ায় সরকারকে সাধুবাদ জানিয়ে তামারা আবেদ বলেন, এই সিদ্ধান্ত বিপুল ক্ষতির হাত থেকে এই শিল্প বাঁচাবে। তবে প্রতিষ্ঠান খোলা রাখার সময় নিয়ে বিবেচনা করা যায় কি না, সেটা ভেবে দেখার অনুরোধে রয়েছে বেশির ভাগ উদ্যোক্তার পক্ষ থেকে। কারণ, সময়সীমা সংকুচিত না করলে ভিড় এড়ানো যাবে। এই প্রসঙ্গে সেইলরের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা রেজাউল কবীর পরিসংখ্যান দিয়ে বলেন, মানুষ সকালে শপিংয়ে বের হয় না। শিথিল লকডাউনে দুইটা পর্যন্ত ক্রেতা-উপস্থিতি ছিল মাত্র ১৫ শতাংশ। অথচ ৩টা-৫টা পর্যন্ত ছিল ৮৫ শতাংশ। তাই সময় বেশি পেলে স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করে ক্রেতা ব্যবস্থাপনা সম্ভব হয়।

গতবার ঈদের আগে কয়েক দিনের জন্য সব খুলে দেওয়া হলে প্রতিটি প্রতিষ্ঠান সাধ্যমতো চেষ্টা করেছে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের। এবারও সবাই সেটা করবে বলে বিশ্বাস করেন কে ক্র্যাফটের পরিচালক খালিদ মাহমুদ খান।

তবে ধর্মঘটই হোক বা অতিমারি, আমাদের দেশে প্রথম খাঁড়াটা গিয়ে পড়ে খুচরা বা রিটেইল ব্যবসা আর পরিবহনের ওপর। এই দুটো খাতের ওপরই অনেক বেশি মানুষ নির্ভর করে থাকেন, খেদ নিয়ে বললেন অঞ্জন’সের প্রধান নির্বাহী শাহীন আহম্মেদ। তবে লকডাউন শিথিল করায় কিছুটা স্বস্তি অনুভব করছেন বলেও জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন
default-image

ক্রয়-কৌতূহল থেকে কেনা: ব্যবধান বিস্তর

লকডাউনের কারণে গতবারের মতো এবারও সবাই গৃহবন্দী ছিলেন। তবে অনেকে আবার দোকান খোলার অপেক্ষায় না থেকে কিছু কেনাকাটা সেরে ফেলছেন ডিজিটাল মাধ্যমে। নানা ব্র্যান্ডের নির্দিষ্ট গ্রাহকদের পাশাপাশি অনিয়মিত গ্রাহকেরাও ক্রয়-কৌতূহল দেখিয়েছেন। কিন্তু তাঁদের মধ্যে কিনেছেন ব্র্যান্ডভেদে ১৫ থেকে ৪০ শতাংশ।

জানা গেছে, ক্রেতাদের একটা বড় অংশই ছাড় বা অফারে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। কারণ, বেশি দামের পণ্য তাঁরা কম পেতে চান। অনেকে আবার ক্রয়-কৌতূহলী ক্রেতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে তাঁদের কাঙ্ক্ষিত পণ্য সম্পর্কে বুঝিয়ে অর্ডার নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছেন। তবে বেশির ভাগ ক্রেতা অনলাইনে খোঁজখবর করে দোকান খোলার প্রতীক্ষায় আছেন বলেই বেশির ভাগেরই পর্যবেক্ষণ।

ফিজিক্যাল বনাম ডিজিটাল

গত কয়েক বছরে অনলাইনে কেনাকাটা বেড়েছে। গত বছর এই বৃদ্ধি ছিল উল্লেখযোগ্য। অনলাইনে ঈদে আড়ংয়ের আয় ছিল ২০১৯ সালের তুলনায় দ্বিগুণ। অন্য ব্র্যান্ডগুলোর অভিজ্ঞতাও ইতিবাচক। কিন্তু এই বিক্রি কোনোভাবেই আউটলেটে বিক্রির সমকক্ষ নয়। এটা বরং ব্র্যান্ডভেদে মোট টার্নওভারের মাত্র ২ থেকে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ।

‘এই উদাহরণই বলে দেয় অনলাইন সেল দিয়ে প্রতিষ্ঠান চালানো সম্ভব নয়। কারণ, এক দিনে যে পরিমাণ বিক্রি হয়, তা আমার একটা মাঝারি শাখার বিক্রিরও সমান নয়,’ বললেন শাহীন আহম্মেদ।

অর্থনৈতিক ভারসাম্যহীনতার দরুন ই-কমার্সের অগ্রগতি আশাব্যঞ্জক নয় বলে মনে করেন রেড অরিজিনের সেলস অ্যান্ড মার্কেটিংয়ের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ এস এম সাইফুল কবির।

তবে এবার অনলাইনে কেনাকাটায় উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো প্রবাসী বাঙালিদের সংখ্যা বৃদ্ধি। আড়ং বেশ কিছুদিন হলো যুক্তরাষ্ট্রে বাজার সম্প্রসারণ করেছে। সেই তালিকায় মাসখানেক হলো যোগ হয়েছে যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া। তিন দেশ থেকেই তাঁদের সাড়া আশাব্যঞ্জক, বলে জানিয়েছেন তামারা আবেদ।

কিন্তু যাঁদের সেটাও নেই, তাঁদের বিপাক সীমাহীন। মাত্র একটি বা দুটি আউটলেট। সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে বছর পার করেন। এখনো নির্ভর করেন দোকানের ওপর। নেই ভার্চ্যুয়াল ব্যবস্থা। এই তালিকায় থাকা ফ্যাশন হাউস শতাব্দীর কর্ণধার কে বি আল আজাদ প্রমাদ গুনছেন ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার।

default-image

কারা কিনছেন, কী কিনছেন

এই সময়ে কারা কিনছেন আর কীই-বা কিনছেন তাঁরা, এমন প্রশ্ন জাগাটাই স্বাভাবিক। বেশির ভাগই বলেছেন, এখনকার ক্রেতারা তুলনায় তরুণ। ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী। সংখ্যাটাতে নগণ্য মাঝবয়সীরাও আছেন। তবে সবার মধ্যেই রয়েছে সতর্কতা।

প্রায় প্রত্যেকেই বলছেন, এই সময়ে ব্যতিক্রম কিছু বড় অঙ্কের শপিং ছাড়া বেশির ভাগই কেনাকাটা করেছেন দুই হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকার মধ্যে। উৎসব পোশাক নয়, তাঁদের কেনার তালিকায় আছে মৌলিক পোশাক। যেমন শার্ট বা প্যান্ট। অভিভাবকেরা সব সময়ই বাচ্চাদের পোশাক আগে কিনে থাকেন। উৎসব হোক বা না হোক, তাদের আনন্দ যাতে ম্লান না হয়, তাই আগেভাগেই কিনে রাখছেন তাঁরা, জানিয়েছেন রাইজের সিনিয়র মার্কেটিং অফিসার সৈয়দ হেলাল হোসেন।

সাধারণত ১৫ রোজার পরে গিয়েই পাঞ্জাবি নিয়ে মাথা ঘামান ক্রেতারা। কারণ, বাচ্চাদের পর মেয়েদের কেনাকাটা শেষে পুরুষেরা কিনে থাকেন। তবে এবার পাঞ্জাবির ব্যাপারে এখন থেকেই আগ্রহ কোনো কোনো ব্র্যান্ডকে আশাবাদী করছে।

অনুষঙ্গ কেনা কিংবা সে ব্যাপারে জানার আগ্রহ ক্রেতাদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে না। যদিও সেটা আবার মেলে না আড়ংয়ের সঙ্গে। বরং আড়ংয়ের বিক্রি তালিকায় বিভিন্ন ধরনের পোশাক ছাড়াও আছে অনুষঙ্গ। তবে পোশাক বিক্রির পরিমাণ ৭০ শতাংশ বলেই জানা গেছে।

ডিজাইনার ব্র্যান্ড হাউস অব আহমেদের কো-ওনার তানজিলা এলমা অবশ্য বলেছেন তাঁদের পাঞ্জাবি, শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ সবই বিক্রি হচ্ছে।

নতুন ক্রেতাগোষ্ঠী

এবার ঢাকা ছাড়া চট্টগ্রাম বা সিলেটের মতো বিভাগীয় শহর নয়, বরং এই সময়ের কেনাকাটা সেরে ফেলছেন মফস্বল শহরের ক্রেতারাও। খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, সাতক্ষীরা, চুয়াডাঙ্গা, পাবনাসহ বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকেও আসছে ভার্চ্যুয়াল অর্ডার।

সরবরাহ ব্যবস্থাপনা

অনলাইনে বিক্রির সমান্তরালে আছে ক্রেতাকে যথাসময়ে পৌঁছে দেওয়া। কিন্তু এখনো যথাযথ সরবরাহ ব্যবস্থাপনা গড়ে ওঠেনি। প্রতিষ্ঠান অনেক থাকলেও সবার ওপর আস্থা রাখা সম্ভব নয়। আবার কোনো প্রতিষ্ঠানের পক্ষে নিজের সরবরাহ ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলাও সম্ভব নয়। ফলে আস্থা রাখা যায়, এমন হাতে গোনা প্রতিষ্ঠানের ওপর চাপ বাড়ছে। তারাও হিমশিম খাচ্ছে। এতে করে যথাসময়ে ক্রেতাও পাচ্ছেন না কাঙ্ক্ষিত পোশাক।

তবে মজার বিষয় হলো, ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম কিংবা কক্সবাজারে পণ্য পাঠাতে যে সময় লাগে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে তার চেয়ে কম সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য পাঠানো যাচ্ছে বলে জানিয়েছে আড়ং।

শক্তিশালী সরবরাহ খাত গড়ে না ওঠায় অভিন্ন সংকটে এখন সবাই। কারণ, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে প্রাধান্য পাচ্ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য। তবে ই-কমার্স যত শক্তিশালী হচ্ছে, এর পরিধি যত বাড়ছে, শক্তিশালী সরবরাহ শৃঙ্খলের চাহিদা তৈরি হচ্ছে। সময়ের সঙ্গে এটা একটা সম্ভাবনাময় খাত হিসেবেই চিহ্নিত হচ্ছে বলে বাজার বিশ্লেষকদের মন্তব্য।

রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

সরকার এই সময়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব আয় করে থাকে এই খাত থেকে। ঈদের কেনাকাটা হিসাব করলে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা ভ্যাট এই সময়ে সরকারি কোষাগারে জমা হয়। এর বাইরে আয়কর তো আছেই। কিন্তু দোকানপাট খোলা না থাকলে সেই সম্ভাবনা তিরোহিত হয়।

বিদেশি পণ্যের দাপট

এই করোনাকালেও রয়েছে বিদেশি পণ্যের দাপট। বিক্রি হচ্ছে ফেসবুকের মাধ্যমে। অনেকেরই প্রশ্ন, কীভাবে এসব পণ্য এই সময়ে দেশে ঢুকছে? ডেকো-ইশো গ্রুপের পরিচালক মায়মুনা হোসেন বলেছেন, সবাই যেন বর্তমান বাস্তবতায় দেশি পণ্য কিনতে উৎসাহিত হন। দেশে তৈরি একটি পোশাকের সঙ্গে একাধিক পরিবার জড়িয়ে থাকে। কাপড় তৈরি থেকে ডিজাইন, সেলাই থেকে বিক্রি—প্রতিটি পর্যায়ে রয়েছে দেশের মানুষের সম্পৃক্ততা। তাঁরা সবাই রয়েছেন সংকটে।

সহযোগী সরবরাহ

রোজার মাসে অন্তত ৫০ লাখ টাকার ইফতার কেনার পরিকল্পনা ছিল একটি বড় ফ্যাশন হাউসের। কারণ, নিয়মিত কর্মচারীদের সঙ্গে খণ্ডকালীন কর্মী যোগ হওয়ার কথা। এই পরিকল্পনা ছিল সব হাউসেরই। এমনকি শপিং ব্যাগ সরবরাহকারী থেকে পরিবহনসহ ছোট ছোট অনেক ব্যবসায়ী সারা বছর অপেক্ষায় থাকেন। গত বছর তাঁদের ব্যবসা একেবারেই হয়নি। এবারও প্রথম ১০ দিন তাঁরা বাধ্য হয়েছেন নিশ্চুপ বসে থাকতে। লকডাউন শিথিল হওয়ায় কিছুটা হলেও তাঁদের মুখে হাসি ফুটবে। তবে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানই এই মুহূর্তে ব্যয়ের ব্যাপারে কিছুটা সতর্ক থাকবে।

এই প্রসঙ্গে উল্লেখ প্রয়োজন, করোনা পরিস্থিতিতে ফ্যাশন খাতের সঙ্গে জড়িত মডেল, কোরিওগ্রাফার, মেকআপ আর্টিস্ট, বিউটিশিয়ান, ফটোগ্রাফার—প্রত্যেকেই বিপাকে পড়েছেন।

বিজ্ঞাপন
default-image

রিভেঞ্জ বায়িং, রিভেঞ্জ শপিং

করোনা আমাদের প্রতিনিয়ত নানা কিছুর সঙ্গে পরিচিত করাচ্ছে। আমরা শিখছি নতুন নতুন টার্ম। এই যেমন গেল বছর চীনে লকডাউন উঠে গেলে মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়ে শপিং মলগুলোতে। বিশেষজ্ঞরা এই পরিস্থিতিকে তখন ব্যাখ্যা করেন রিভেঞ্জ শপিং হিসেবে। এটাকে পরে অনেকে বলে থাকেন রিভেঞ্জ বায়িং, প্রতিশোধের কেনাকাটা। অবরুদ্ধ অবস্থায় হাঁপিয়ে ওঠা মানুষ এভাবে যেন প্রতিশোধ নেন অমিতব্যয়ী হয়ে।

লকডাউন উঠে গেলেও প্রথম দিনে বাজার পর্যবেক্ষণে ছবিটা স্পষ্ট হয়নি। এ নিয়ে অবশ্য দ্বিধাবিভক্ত উদ্যোক্তারা। লা রিভের প্রধান নির্বাহী পরিচালক মন্নুজান নার্গিস মনে করেন, মানুষ ততটা ভীত নন। তাই লকডাউন উঠে গেলে তাঁরা বের হবেন এবং শপিং করবেন। অন্যদিকে নিজের ক্রেতাদের ক্রয়-কৌতূহলের নিরিখে গ্রামীণ ইউনিক্লোর ম্যানেজার মার্কেটিং মো. শরিফুল ইসলামের আশাবাদ, মানুষ রিভেঞ্জ শপিংয়ে যাবেন। কারণ, গত বছর তাঁরা সেভাবে কিছুই কিনতে পারেননি।

মানুষের মন ভালো নেই, তাই সবাই কতটা কিনতে আগ্রহী হবেন, সে ব্যাপারে সন্দিহান খালিদ মাহমুদ খান। তাঁর মতোই মিথের ব্র্যান্ড ম্যানেজার মো. সাব্বির নেওয়াজ মনে করেন, মানুষ কিনবে সতর্কতার সঙ্গে। কারণ, দ্বিতীয় ধাক্কায় আক্রান্তদের বেশির ভাগেরই অবস্থার দ্রুত অবনতি হচ্ছে। এবার চিকিৎসা ব্যয়ও অনেক বেশি। তাই মানুষ খরচে সংযমী হবেন।

একটি শিল্প খাতের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে ছোট ছোট অনেক শিল্প খাত। সামনের কয়টা দিন ভালো ব্যবসার আশা করছেন প্রত্যেকে। কারণ, গেল বছরের ক্ষতি পোষাতে কত দিন বাস্তবিকই লাগবে, তা এখনই আন্দাজ করা যাচ্ছে না। উপরন্তু এই খাত পায়নি কোনো ধরনের প্রণোদনা। ফলে ঈদের বিক্রি তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে অন্ধের যষ্টি হবে। বাংলাদেশের ফ্যাশনশিল্প খাতে এই মুহূর্তে রজতরেখা হলো করোনার কারণে ভিনদেশে গিয়ে ঈদ শপিংয়ের সুযোগটা থাকছে না। ফলে সবাইকে দেশেই কেনাকাটা করতে হবে। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে নতুন করে জাগ্রত হোক আমাদের দেশি পণ্য কেনার দেশাত্মবোধ।

প্র বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন