বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

অনেকেই আবার ভাবতে পারেন, এটা শুধু বেসরকারি ব্যাংকের ক্ষেত্রেই সম্ভব। কিন্তু বাস্তবতা হলো, দেশের সবচেয়ে বড় ও বৃহৎ নেটওয়ার্কের রাষ্ট্রমালিকানাধীন সোনালী ব্যাংক ও অগ্রণী ব্যাংকের হিসাব থেকে বিকাশ হিসাবে টাকা আনা এবং বিকাশ হিসাব থেকে এই দুই ব্যাংকের হিসাবে টাকা জমা দেওয়ার দ্বিমুখী সেবা চালু হওয়ায় প্রত্যন্ত অঞ্চলের গ্রাহকেরাও উপকৃত হচ্ছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘খরচ ছাড়াই বিকাশের গ্রাহকদের কাছে পৌঁছাতে পারছে ব্যাংকগুলো। এতে ব্যাংক সেবার নতুন দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। এই সুযোগ পুরোপুরি ব্যবহার করা গেলে একসময় সবাই ব্যাংক সেবার আওতায় আসবে। এতে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি হবে।’

ঋণ বিতরণে নতুন সম্ভাবনা

ব্যাংকের সঙ্গে বিকাশের এই আন্তলেনদেন সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে বলে মনে করেন আর্থিক খাতসংশ্লিষ্টরা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো বিকাশের গ্রাহকদের কাছে সহজে পৌঁছে যেতে আরও সৃজনশীল ও সময়োপযোগী সেবা ও পণ্য চালু করতে পারে। বিকাশ গ্রাহকদের জন্য সিটি ব্যাংকের ঋণ সেবার পাইলট প্রকল্প এমনই এক উদাহরণ। এই পরীক্ষামূলক কার্যক্রমে বিকাশের ১৮ হাজার গ্রাহককে ঋণ দিয়েছে সিটি ব্যাংক। এই প্রকল্পে খেলাপি ঋণ ১ শতাংশের কম। এখন অন্য ব্যাংকগুলো চাইলে নিজেদের সেবা নিয়ে বিকাশের গ্রাহকদের কাছে সহজেই পৌঁছে যেতে পারে।

সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘বিকাশের সঙ্গে আমাদের তিন ধরনের অভিজ্ঞতা। আমাদের গ্রাহকেরা সহজেই বিকাশে টাকা নিতে পারছেন। বিকাশ থেকে আমাদের ব্যাংকে ও কার্ডে টাকা জমা করা যাচ্ছে। আবার বিকাশ গ্রাহকদের আমরা ঋণ দিয়েছি। এটা অন্য রকম অভিজ্ঞতা। কারণ, গ্রাহকেরা ছিল বিকাশের, ঋণ দিয়েছে সিটি ব্যাংক। প্রায় সব গ্রাহক সময়মতো টাকা ফেরত দিয়েছে। বিকাশের যে বিপুল গ্রাহক সম্প্রদায়, তাদের কাছে পৌঁছানো এখন অনেক সহজ হয়েছে।’

বিকাশের বিশালসংখ্যক গ্রাহককে বিবেচনায় রেখে ব্যাংকগুলো ঋণের মতো আরও সৃজনশীল এবং সময়োপযোগী পণ্য আনতে পারে। বিকাশ মনে করছে, বাড়তি খরচ ছাড়া বিকাশের মাধ্যমে এসব গ্রাহকের কাছে সেবা পৌঁছানোর সুযোগ আছে তাদের।

বিকাশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কামাল কাদীর বলেন, ‘প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রতিনিয়ত সৃজনশীল ও উদ্ভাবনী সেবা দিয়ে গ্রাহকের চাহিদা পূরণ সম্ভব। ‘লাস্ট মাইল সল্যুসন্স প্রোভাইডার’ হিসেবে বিকাশকে ব্যবহার করে ব্যাংকগুলো বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের জন্য আরও উপযোগী ও কার্যকর সেবা নিয়ে আসতে পারবে।’

এ অবস্থায় বিকাশের গ্রাহকেরা ব্যাংকের জন্য নতুন ব্যবসার সুযোগ তৈরি করেছে।

গ্রাহকসেবার নতুন দিগন্ত

২০১৮ সালে মাস্টারকার্ড থেকে এবং ঢাকা ব্যাংকের ইন্টারনেট ব্যাংকিং ও অ্যাপ থেকে বিকাশ হিসাবে অ্যাড মানি সেবা চালু হয়। অল্প সময়ে এই সেবায় আরও অনেক ব্যাংক যুক্ত হয়। করোনাভাইরাসের প্রকোপের মধ্যে এই সেবার সর্বোচ্চ ব্যবহার করেছেন গ্রাহকেরা।

সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আতাউর রহমান প্রধানের বক্তব্যেও গ্রাহক সুবিধার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। তিনি বলেন, ‘সারা দেশে আমাদের শাখা ছড়িয়ে আছে। এরপরও গ্রাহকেরা যাতে আরও সহজে আর্থিক সেবা নিতে পারে, সে জন্য বিকাশের সঙ্গে দ্বিমুখী লেনদেন সেবা চালু হয়েছে। এর ফলে আমাদের গ্রাহকেরা সহজেই বিকাশ হিসাবে টাকা স্থানান্তর করতে পারছেন। এতে তাঁদের ছোট ছোট লেনদেন ও আর্থিক চাহিদা পূরণ হচ্ছে।’

এ ছাড়া বিকাশ সেবা শুধু অন্যের হিসাবে টাকা পাঠানোর মধ্যে আর সীমাবদ্ধ নেই। সময়ের সঙ্গে এখন ঘরে বসেই আর্থিক লেনদেন করা যাচ্ছে বিকাশে। যেকোনো ধরনের বিল পরিশোধ, অনলাইনে কেনাকাটা, মোবাইল ফোন রিচার্জ করা, স্কুলের বেতন পরিশোধ, নিবন্ধন ফি পরিশোধ, কর পরিশোধ, রাইড শেয়ারিং সেবার পেমেন্ট, বিভিন্ন ধরনের সরকারি সেবার মাশুল পরিশোধ করা, বিমান-ট্রেন-বাস-লঞ্চসহ সব ধরনের যানবাহনের টিকিট কেনা, বিমা প্রিমিয়াম দেওয়াসহ নানা ধরনের সেবা মিলছে বিকাশ গ্রাহকদের। এতে মানুষের জীবনের সঙ্গে একভাবে মিশে গেছে বিকাশ।

সুবিধা পাচ্ছেন যেসব ব্যাংকের গ্রাহকেরা

বর্তমানে সরকারি-বেসরকারি ২৯টি ব্যাংকের গ্রাহকেরা বিকাশ হিসাবে টাকা আনতে পারছেন। ব্যাংকগুলো হলো সোনালী ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, ইস্টার্ণ ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, প্রাইম ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক, কমিউনিটি ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, মিডল্যান্ড ব্যাংক, মধুমতি ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক, এনআরবি ব্যাংক, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, এসবিএসি ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক, সীমান্ত ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক। এসব ব্যাংকের ইন্টারনেট ব্যাংকিং ও অ্যাপ থেকে সহজেই নিজের বা প্রিয়জনের বিকাশ হিসাবে টাকা আনা যাচ্ছে। এর পাশাপাশি সারা দেশে ছড়িয়ে থাকা তিন লাখ বিকাশ এজেন্টের কাছ থেকেও বিকাশ হিসাবে টাকা জমা করা যাচ্ছে।

বিকাশ হিসাব খুলতে এখন আর ছবি ও জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে এজেন্টদের কাছে যেতে হয় না। গ্রাহক নিজের ছবি তুলে এবং জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে হিসাব খুলতে পারছেন।

প্র বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন