default-image

করোনার শুরুর দিকে আমাদের আট লাখ ডলারের ক্রয়াদেশ স্থগিত করে ক্রেতারা। ভাইরাস সংক্রমণ রোধে ভালুকায় শুনিভার্স ফুটওয়্যারের পরিবেশবান্ধব কারখানার উৎপাদন বন্ধ রাখতে হয় এক মাস। ১ হাজার ২০০ কর্মীর বেতন-ভাতা পরিশোধ এবং স্থগিত হওয়া ক্রয়াদেশের কাঁচামাল নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে যাই।

অবশ্য দ্রুতই আমরা সিদ্ধান্ত নিই, কারখানা লে-অফ করব না। কর্মীদের বেতন-ভাতা যেভাবেই হোক, আমরা শতভাগ পরিশোধ করব। কারণ, ব্যবসা দীর্ঘমেয়াদি খেলা। এক–দুই মাসের লোকসানের কারণে কর্মী ছাঁটাই করলে ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। অন্যদিকে সরকার দ্রুতই করোনার কঠিন সময় মোকাবিলায় প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে। সেই তহবিল থেকে আমরা ঋণও পেয়েছি। ফলে কর্মী ব্যবস্থাপনার বিষয়টি সহজ হয়ে যায়। প্রথম মাসে তহবিলের ঋণ পেতে দেরি হওয়ায় আমরা নিজেদের পুঁজি থেকেই কর্মীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করি।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে ২৫ এপ্রিল আমাদের কারখানায় উৎপাদন শুরু হয়। শ্রমিকেরা করোনার ঝুঁকি নিয়ে কাজে যোগ দেন। আমিও ঘরে বসে থাকিনি। কারখানায় গিয়েছি। কারখানা বন্ধকালীন ক্রেতারা আমাদের ক্রয়াদেশের জুতা সীমিত সময়ের মধ্যে রপ্তানি করার সুযোগ দেয়। সেই সময়সীমা ধরতে হলে আমাদের অতিরিক্ত কাজ করাতে হবে। সে জন্য শ্রমিকদের সঙ্গে আমরা কথা বললাম। তারা তখন প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে বিনে পয়সায় দিনে দু–তিন ঘণ্টা ওভারটাইম করতে রাজি হয়। শ্রমিকদের যুক্তি ছিল, এক মাস কোনো কাজ না করেই তারা মজুরি পেয়েছে। ফলে প্রতিষ্ঠানের লোকসান কমাতে এতটুকু ছাড় দিতে তাদের আপত্তি নেই। অবশ্য পরের দিকে ওভারটাইমে আগের মতোই অর্থ দেওয়ার বিধান চালু করা হয়।

বিজ্ঞাপন
default-image
আগামী ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত আমাদের কারখানায় ভরপুর ক্রয়াদেশ আছে। তারপরের মাসগুলোর জন্য ক্রয়াদেশ পেতে আমরা আলাপ–আলোচনা করছি। আশা করছি, চলতি অর্থবছরে আমাদের জুতার রপ্তানি ২৪-২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে।
শুনিভার্স ফুটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রিয়াদ মাহমুদ

করোনাকালে আমরা কর্মীদের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। কারণ, বিপদে তাদের পাশে দাঁড়ালে তারাও প্রতিষ্ঠানকে নিজের মনে করে। তাতে শেষ বিচারে প্রতিষ্ঠানেরই লাভ হয়। সেই ফল আমরা হাতেনাতে পেয়েছি। কারখানা খোলার পর বাড়তি কাজ করে কর্মীরা সব ক্রয়াদেশের পণ্য রপ্তানিতে সহায়তা করেছে। তাতে আমাদের কোনো ক্রয়াদেশ বাতিল হয়নি।

শুনিভার্স ফুটওয়্যার সিনথেটিক জুতা রপ্তানি করে। বর্তমানে বৈশ্বিক মোট জুতার ৬৫ শতাংশই সিনথেটিক। প্রথমে আমরা চামড়ার জুতা উৎপাদনের জন্য কারখানা করলেও সেটি পরিবর্তন করি। কারণ, চামড়ার জুতার চাহিদা দিন দিন কমছে। তবে সিনথেটিক জুতা উৎপাদনের কারণে করোনাকালেও নতুন চারটি ক্রেতা প্রতিষ্ঠান আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। আশা করছি, তিনটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে শিগগিরই ক্রয়াদেশ পাব।

আগামী ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত আমাদের কারখানায় ভরপুর ক্রয়াদেশ আছে। তারপরের মাসগুলোর জন্য ক্রয়াদেশ পেতে আমরা আলাপ–আলোচনা করছি। আশা করছি, চলতি অর্থবছরে আমাদের জুতার রপ্তানি ২৪-২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। যদিও পরিবেশবান্ধব কারখানা হিসেবে জুতার দাম পাওয়া যাচ্ছে না।

করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা রয়েছে। সে কারণে আমরা কারখানায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর ব্যাপকভাবে জোর দিয়েছি। যদিও আগে থেকেই স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে। সেটিকে আরও শক্ত করা হচ্ছে। যদিও করোনার দ্বিতীয় ঢেউ না আসাটা আমাদের জন্য হবে বোনাস।

মন্তব্য পড়ুন 0