default-image

আমরা হঠাৎ অপ্রত্যাশিত এক পরিস্থিতিতে পড়েছি। এই পরিস্থিতির আগে চতুর্থ শিল্পবিপ্লব নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল। কীভাবে শিক্ষার পরিবর্তন হচ্ছে, তা নিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমরা কথা বলছিলাম। পরিবর্তনের কথা শুনেই হয়তো পৃথিবী ভাবল, ‘পরিবর্তন কেমন হয়, সেটা দেখাচ্ছি।’ এরপরই এল করোনাভাইরাস। আমাদের সামনে এমন এক পরিস্থিতি এল, যার মুখোমুখি আমরা আগে কখনো হইনি। এ পরিস্থিতির আগে আমরা ভাবছিলাম কীভাবে সবকিছু পরিবর্তন করতে হবে। করোনাভাইরাস পরিবর্তন বাস্তবায়নের পরীক্ষা হিসেবে এল। এটি প্রমাণ করেছে আমরা এখনো কতটা অপ্রস্তুত। তবে এর থেকে বোঝা গেছে আমাদের মধ্যে কতটা আন্তসংযোগ রয়েছে। বিশ্বের এক অংশের কোনো ঘটনা পুরো বিশ্বকে প্রভাবিত করতে পারে। আমরা বলতে পারি না যে ‘এটি তোমার সমস্যা, তুমি সমাধান করো’। এই পরিস্থিতি আমাদের দেখিয়েছে প্রমাণভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং একসঙ্গে কাজ করাটা সংকট মোকাবিলার ক্ষেত্রে একমাত্র সমাধান। সুতরাং বঙ্গোপসাগর ইস্যুতে আমরা সহযোগিতা ও প্রমাণভিত্তিক সিদ্ধান্তের দিকটি কাজে লাগাতে চাই। বিআইএমআরএডি—বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব মেরিটাইম রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট নামে একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। দেশের টেকসই উন্নয়নে, সামুদ্রিক অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে এবং সমুদ্র গবেষকদের সংগঠিত করার জন্য এটি একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে।

default-image

জলবায়ু পরিবর্তন এবং উন্নয়নের আন্তর্জাতিক একটি প্রতিষ্ঠান হলো আইসিসিসিএডি। বাংলাদেশের জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে কাজ করা শীর্ষস্থানীয় গবেষণা সংস্থা এটি। পুরো বিষয়টি আয়োজন করছে আইইউবি। এ তিনটি প্রতিষ্ঠান একত্র হয়েছে এবং আমরা সম্প্রতি বিআইএমআরএডির সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছি। আইসিসিসিএডি আইইউবির একটি অংশ। সুতরাং আমরা একসঙ্গে গবেষণা করব এবং তার ফলাফল সবাইকে জানাবো। এর মাধ্যমে নীতিনির্ধারকেরা যথাযথ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারবে।

বিজ্ঞাপন
default-image

অ্যাডমিরাল (অব.) নিজামউদ্দিন আহমেদ

চেয়ারম্যান, বিআইএমআরএডি

বাংলাদেশ সমুদ্র গবেষণা ইনস্টিটিউট, আইইউবি ও আইসিসিসিএডি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে। বাংলাদেশ একটি সামুদ্রিক দেশ এবং বিস্তৃত অঞ্চল। আমরা মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে আমাদের সমুদ্র বিরোধগুলো সমাধান করেছি। এখন আমাদের নিজস্ব ১, ১৮, ১১৩ বর্গকিলোমিটার সমুদ্র অঞ্চল রয়েছে। এখন সমুদ্রের ওপর গবেষণা, পরিবেশগত পরীক্ষা ও গবেষণা পরিচালনা করা প্রয়োজন। প্রশান্ত মহাসাগর এবং ভারত মহাসাগরের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে ইন্দো প্রশান্ত মহাসাগরে কৌশলগত প্রতিযোগিতার একটি প্রধান অঞ্চল হয়ে উঠছে বঙ্গোপসাগর। ভারত, চীন, জাপান ও এশিয়ান দেশগুলোতে আধিপত্য বিস্তারের একটি কৌশলগত কেন্দ্রবিন্দু এটি।

default-image

এ মতিন চৌধুরী

চেয়ারম্যান, আইইউবি বোর্ড অব ট্রাস্টি

রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের বয়স ৫০। কিন্তু বেসরকারি শিক্ষা মূলত চালু হয়েছিল ৩০ বছর আগে। এই ৩০ বছর আমরা একা কাজ করেছি এবং আজ এ পর্যন্ত এসেছি। তবে একা কাজ করা আমাদের খুব বেশি দূর নিয়ে যায়নি। আমাদের নতুন লক্ষ্যগুলো পূরণ হবে যদি আমরা সম্মিলিতভাবে কাজ করতে পারি। এটি খুব সাহসী উদ্যোগ, যা বাস্তবায়নের জন্য সহযোগী ইউনিয়ন গঠিত হচ্ছে আইসিসিসিএডি, বিআইএমআরএডি এবং আইইউবি নিয়ে। আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলব, অপরিচিতদের সঙ্গে কাজ করা সহজ নয়। সুতরাং আমাদের সমস্যা হবে। এবং এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে প্রথম সমস্যাটি হলো একে অপরকে দোষারোপ করা এবং এ প্রকল্পটিকে হত্যা করা। আমরা প্রত্যেকে একে অপরের সমস্যা দেখতে পাব, তবে আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে এবং এটি সফল করতে হবে। আইইউবির চেয়ারম্যান হিসেবে আমি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যে আইইউবি এই প্রকল্পটিতে শেষ পর্যন্ত থাকবে এবং আমি নিশ্চিত বিআইএমআরএডি আমাদের সঙ্গে থাকবে এবং পরিচালনা করবে। ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, আমি যে শিল্পে রয়েছি সেটি শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের সঙ্গে জড়িত। প্রচুর সীমাবদ্ধতা, দুর্নীতি ও অদক্ষতা নিয়ে এটি পরিচালিত হচ্ছে। তবে আমরা এসব রোধ করতে পেরেছি। কারণ, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অর্থনৈতিক, স্বাস্থ্য, দরিদ্র লোকদের সহায়তা ইত্যাদি বিষয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন। তাই আমরা গর্বের সঙ্গে বলতে পারি এই পুরো মহামারিতে কেউ ক্ষুধায় মারা যায়নি। এখন সময় এসেছে আমাদের একসঙ্গে কাজ করার। গবেষণাটি এই প্রকল্পের মাধ্যমে আরও জোরদার হবে এবং বিআইএমআরএডির মাধ্যমে গবেষণাটি বিশ্বব্যাপী যাওয়ার একটি সুযোগ পাবে। প্রত্যেককে আমি বলব, ধৈর্য ধরুন। হাল ছাড়বেন না। আমরা সবাই এটির জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং আমরা এগিয়ে চলেছি। আমি নিশ্চিত, এটি ভালো ফল আনবে।

বিজ্ঞাপন
default-image

মাসুদ বিন মোমেন

পররাষ্ট্রসচিব

করোনা মহামারি আমাদের জীবনের সবকিছুকে প্রভাবিত করেছে এবং সবকিছু নিয়ে আমাদের আবারও ভাবতে বাধ্য করেছে। প্রতিটি মানুষই করোনাভাইরাস দ্বারা বা এর সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিণতি দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে। মহামারিটি বিশ্বব্যাপী শিল্পক্ষেত্রে বিরূপ প্রভাব ফেলেছে। আজ আমরা কথা বলব করোনা–পরবর্তী বিশ্ব নিয়ে। বঙ্গোপসাগর ও উপসাগরগুলোর সঙ্গে যুক্ত দেশগুলো বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক স্থানান্তর থেকে উত্থাপিত হবে না। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় বঙ্গোপসাগরের ভূতাত্ত্বিক গুরুত্ব বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। বঙ্গোপসাগর ভারত এবং প্রশান্ত মহাসাগরকে সংযুক্ত করে। বঙ্গোপসাগর বিশ্বের বৃহত্তম উপসাগর। এই অঞ্চলে সভ্যতা, পরিবেশগত, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পর্যায়ে এর তাৎপর্য রয়েছে। বঙ্গোপসাগর ভারত মহাসাগর অঞ্চলের একটি প্রধান অংশ। পাশাপাশি এটি ভারত মহাসাগর এবং প্রশান্ত মহাসাগরের সংযোগকারী হওয়ার কারণে আঞ্চলিক ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। এ অঞ্চলটি মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা, ভারত, বাংলাদেশ, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চল, ভুটান ও নেপালজুড়ে রয়েছে। ২ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার সম্মিলিত জিডিপিসহ ঘনবসতিপূর্ণ বঙ্গোপসাগরের গড় বার্ষিক বৃদ্ধির হার ৩ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। বঙ্গোপসাগর শুধু সমুদ্র নয়, এটি বাণিজ্যিক, অর্থনৈতিক, ব্যক্তি, ব্যবসা এবং করপোরেট স্বার্থের শ্বাসপ্রশ্বাস। বঙ্গোপসাগরের ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক অবস্থানটি আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ২০২০ সালের শেষে এসে আমরা এখন দেখছি জ্ঞান, প্রযুক্তি, বাণিজ্য, অর্থনীতি ও সুরক্ষা—সবকিছু জুড়ে আধিপত্যের জন্য একটি সভ্য প্রতিযোগিতায় বঙ্গোপসাগর প্রভাব ফেলতে পারে। বঙ্গোপসাগর বিশ্বের মোট মাছের প্রায় ১৫ শতাংশ মজুত করে, যা বছরে প্রায় ৯০ লাখ টন। তবে বঙ্গোপসাগরের এ সমৃদ্ধ ভান্ডারও এখন হুমকির মুখে। মাদক, অস্ত্র, আদম পাচার, প্রাকৃতিক সম্পদের অবৈধ শোষণ, সীমানা ও সীমান্তবিরোধ, শরণার্থী, ক্রমবর্ধমান প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং জলবায়ু পরিবর্তন এ হুমকির কারণ। সমুদ্রপৃষ্ঠের পানি মাত্র ১ মিটার বৃদ্ধি পেলে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ২ কোটি লোকের স্থানচ্যুতি হবে। সময় এসেছে ভূরাজনৈতিক, ভূতাৎপর্য এবং ভূ-অর্থনৈতিক সুবিধাগুলোকে সর্বাধিকতর করার জন্য আশপাশের দেশগুলোর মধ্যে বঙ্গোপসাগর জোটকে আরও জোরদার করা।

বিজ্ঞাপন
default-image

অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান

বিশেষ ফেলো সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ

আমরা যখন আঞ্চলিকীকরণ নিয়ে কথা বলি, তখন এর অর্থ হলো বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে আমরা বেশি বাণিজ্য করছি, কারণ আশপাশের দেশগুলো বাণিজ্য উন্মুক্ত করছে। এটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া, তবে এ প্রক্রিয়াকে আরও বেশি এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। আমরা কীভাবে স্বল্পোন্নত, স্বল্প আয়ের দেশ হিসেবে আমাদের স্বার্থকে রক্ষা করি, আমি মনে করি, এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। এটি একটি কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গিও হবে, যা সম্পর্কে আমাদের ভাবতে হবে। বঙ্গোপসাগর আমাদের পরবর্তী ফ্রন্টিয়ার, যেখানে বিশেষ করে এর মৎস্যসম্পদ কেমন করে কাজে লাগানো যায়, সেটা ভাবা দরকার। আমাদের অনেক দ্বিপক্ষীয় চুক্তি করতে হবে। বর্তমানে ভারত প্রায় ৫০০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করছে। চীন ২ হাজার ২০০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করছে। সিপিডি থেকে আমরা দেখেছি ওরা অনেক কিছু আমদানি করছে, যা আমরা রপ্তানি করছি। কিন্তু ওরা আমাদের থেকে নিচ্ছে না। এ পরিস্থিতি থেকে ফিরে আসতে হবে।

default-image

অধ্যাপক ইমতিয়াজ এ হুসাইন

প্রধান, আইইউবির গ্লোবাল স্টাডিজ অ্যান্ড গভর্ন্যান্স

যখন আপনার সামাজিক দূরত্ব ও পিছুটান রয়েছে তখন এটি সরবরাহকারী এবং ভোক্তার ওপর বোঝা চাপিয়ে দেয়। গত বছর আমরা ১৮ বিলিয়ন আয় করেছি। এ বছর এর ৩ ভাগের ১ ভাগ আয় করাটাও কঠিন হবে, খুব কঠিন হবে। এ বছর জুন পর্যন্ত আমরা আমাদের জিডিপির ৩ দশমিক ৭ শতাংশ ব্যয় করেছি, যা প্রায় ১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি। ২ লাখ অভিবাসী ফিরে এসেছে এবং সংখ্যাটি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। কীভাবে আমরা তাদের ব্যবহার করতে পারি? সেটি ভাবতে হবে। বঙ্গোপসাগরের গতিশীলতা অবশ্যই বহুমাত্রিক হয়ে উঠতে হবে এবং নীতিমালাও অবশ্যই তৈরি করতে হবে। আমাদের বঙ্গোপসাগরের সীমানা প্রশস্ত করা নিয়েও ভাবতে হবে। এতে আশপাশের দেশের বাজার আমাদের হাতে আসবে এবং তা হবে আমাদের জন্য অর্থনৈতিক উন্নয়ন।

বিজ্ঞাপন
default-image

ইতো নাওকি

বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত

বঙ্গোপসাগর অঞ্চলকে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা সুবিধাজনক। বর্তমানে বিশ্ব অর্থনীতির মাধ্যাকর্ষণ কেন্দ্রটি এশিয়ার দিকে, বঙ্গোপসাগরের দিকে সরে যাচ্ছে। ৫ আগস্ট জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হাসিনাকে বলেছিলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নে ইন্দো প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সামগ্রিক স্থিতিশীলতায় ভূমিকা রাখবে। আমরা বিশ্বাস করি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনারও একই ধারণা রয়েছে। ১৯৭৩ সালের অক্টোবরে জাপান সফরকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাপান প্রেসক্লাবে বলেছিলেন, ‘আমরা ঘোষণা করছি ভারত মহাসাগর অঞ্চল অবশ্যই একটি মুক্ত ও শান্তিপূর্ণ অঞ্চল হবে। আমরা শান্তি চাই, যেন এ অঞ্চলের উন্নয়ন হয়।’ বঙ্গোপসাগর শিল্প প্রবৃদ্ধি উদ্যোগ, যা ২০১৪ সালে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যৌথভাবে চালু করেছিলেন। আঞ্চলিক শান্তি ও স্থায়িত্ব, যা সীমানা ছাড়িয়ে মানুষের সুরক্ষা অর্জন করতে পরিচালিত হয়। আমি মনে করি, বঙ্গোপসাগরজুড়ে দারিদ্র্যমুক্ত আর্থসামাজিক বিকাশ অঞ্চল, দুর্যোগ প্রতিরোধ, জলবায়ুসংক্রান্ত বিষয় ও মানবিক সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ পূর্বশর্ত। মানবসুরক্ষা নিশ্চিত করতে আমাদের প্রয়োজন মানুষকে রক্ষা করা, মানবসম্পদ তৈরি করা এবং ক্ষমতা বৃদ্ধির সুযোগ প্রদান করা।

default-image

মো. শহীদুল ইসলাম

জেনারেল সেক্রেটারি, বিআইএমএসটিইসি

করোনা–পরবর্তী সময়ে, নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে সমুদ্রের পরিবহন রুটগুলো আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। বিআইএমএসটিইসি বর্তমানে এ অঞ্চলের মধ্যে সামুদ্রিক বাণিজ্যের সুবিধার্থে উপকূলীয় পরিবহন চুক্তি নিয়ে আলোচনা করছে। বিআইএমএসটিইসি বঙ্গোপসাগরকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের স্থান হিসেবে দেখছে। বঙ্গোপসাগর ঘিরে প্রায় ২০০ মিলিয়ন মানুষের বসবাস। তাদের বেশির ভাগেরই জীবিকার নির্ভর করে সাগরের ওপর। বিআইএমএসটিইসি বঙ্গোপসাগরকে একটি সুরক্ষিত স্থান হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে, যা অবৈধভাবে মাছ ধরা, ডাকাতি, মাদক, অস্ত্র এবং মানব পাচারসহ অপ্রচলিত সুরক্ষা হুমকির মুখোমুখি। এ বছরের শুরুর দিকে, বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এই অঞ্চলে অর্থনৈতিক যোগাযোগ উন্নয়নের জন্য বিআইএমএসটিইসি উপকূলীয় পরিবহন চুক্তিটির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছিলেন।

বিজ্ঞাপন
default-image

অধ্যাপক গওহর রিজভী

প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক উপদেষ্টা

আমরা সবাই জানি, বঙ্গোপসাগর আমাদের জন্য অসাধারণ একটি সুযোগ। তবে এর বাস্তবতা এবং বর্তমান অর্থনৈতিক সুযোগ সম্পর্কে আমরা আসলে খুব কম জানি। দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে, আমরা সব সময় গবেষণা এবং জ্ঞান গঠনের গুরুত্বটি ভুলে যাই। আমরা যা করব, তা তথ্যের মান ও বিশ্লেষণের মানের ওপর নির্ভর করবে, যা এই বঙ্গোপসাগরের এই উদ্যোগটি বাস্তবায়নের জন্য সহায়তা করবে। আমরা সত্যিই এখানে তিনটি ভালো প্রতিষ্ঠান পেয়েছি। এটি একটি অর্জন। তবে এখন আমাদের জন্য সামনে সমস্যা দ্বিগুণ। সেটি হলো সঠিক ব্যক্তিদের পাওয়া। মনে রাখতে হবে, প্রতিষ্ঠান মানুষকে তৈরি করে না, মানুষ প্রতিষ্ঠানকে তৈরি করে। সুতরাং আমরা যদি উজ্জ্বল প্রতিভাবানদের খুঁজে পেতে পারি, তবে আজকের দিনে বাংলাদেশ হবে ভাগ্যবান। আমাদের একটি নতুন প্রজন্ম আছে, তাঁদের মধ্যে অনেকেই বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে উচ্চ প্রশিক্ষিত এবং তাঁরা এ দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে মুখিয়ে আছেন। এ গবেষণার ফলাফলগুলো হবে সুদূরপ্রসারী এবং আনন্দদায়ক। আসলে সবকিছুই আপনার কাজের মানের ওপর নির্ভর করে। প্রায়ই নীতি গবেষণার কথা বলার সময় দেখা যায়, নীতিনির্ধারক বা প্রশাসন কী চায়, তা অনুমান করার একটি প্রবণতা রয়েছে গবেষকদের মধ্যে। আপনি জানেন না যে তারা কী চায়। আপনার কাজের ফলাফল তারা কাজে লাগায়। সুতরাং প্রতিষ্ঠান শুধু যথাযথ গবেষণা ও গবেষণার অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে ফলাফল দেবে। যদি আপনি সঠিক গবেষণার ফলাফল সরবরাহ করতে পারেন, তবে নীতিনির্ধারকেরা পরামর্শ এবং তথ্যের জন্য আপনার দরজায় কড়া না নাড়ানোর কোনো কারণ নেই। আমার জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি যে শেষ পর্যন্ত গবেষণার মানের বিষয়টি খুব গুরুত্বপূর্ণ।

default-image

তারিক এ করিম

সাবেক রাষ্ট্রদূত ও আইইউবির বে অব বেঙ্গল ইনস্টিটিউট প্রজেক্টের জ্যেষ্ঠ ফেলো

বঙ্গোপসাগরের প্রতিবেশ ও পরিবেশগত ভূমিকা, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও আঞ্চলিক গুরুত্বের ওপর যে আলোচনার সূত্রপাত আজ হলো সেটি এগিয়ে নিতে হবে। এনিয়ে আরও চারটি ওয়েবিনার হবে। আমাদের প্রত্যাশা থাকবে, এসব আলোচনার মধ্য দিয়ে আমরা নিজেদের অবস্থান ঠিক করার ক্ষেত্রে সমন্বিতভাবে পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে কিছু সুপারিশ পাব। যা আমাদের এগিয়ে নেবে।

অধ্যাপক ড. মিলান পাগন: উপাচার্য (ভারপ্রাপ্ত) আইইউবি, ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ

মন্তব্য পড়ুন 0