বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

একটি ফ্ল্যাট থাকলে...

টিআইএন ছাড়া আপনি একটি ফ্ল্যাটের মালিক হতে পারবেন না। কারণ, ফ্ল্যাটের নিবন্ধন নিতে আপনাকে আগে টিআইএন নিতে হবে। এখানেই শেষ নয়, ফ্ল্যাটের বিভিন্ন ধরনের পরিষেবা যেমন পানি, বিদ্যুতের সংযোগ নিতেও টিআইএন লাগবে। আবার ফ্ল্যাটের মালিক হলে আপনাকে প্রতিবছর রিটার্ন দাখিলের সময় সম্পদের বিবরণী জমা দিতে হবে। আপনি ফ্ল্যাট ভাড়া দেবেন, তাহলেও ২৫ হাজার টাকার বেশি ভাড়া ব্যাংকের মাধ্যমে নিতে হবে, যেন বছর শেষে আয়কর রিটার্নের জন্য নেওয়া ব্যাংকের হিসাব বিবরণীতে ভাড়া বাবদ আয়ের চিত্র উঠে আসে।


‘শূন্য রিটার্ন’ মানে শূন্য নয়

প্রায়ই একটি কথা শোনা যায়, শূন্য রিটার্ন বা জিরো রিটার্ন জমা দেওয়া যায়। শূন্য রিটার্নের কথা শুনলেই মনে হয় যেন রিটার্ন ফরমে নাম, ঠিকানা, টিআইএন নম্বর লিখে বাকি সব ঘর শূন্য রাখা। কিন্তু বাস্তবে তা নয়। যথারীতি প্রতিবছর আপনি যেভাবে রিটার্ন দেন, সেভাবেই দেবেন। ব্যাংক হিসাবসহ যেসব কাগজপত্র জমা দেওয়া দরকার, সবই দেবেন। আয়-ব্যয়ের হিসাব–নিকাশ করে যদি দেখেন, আপনার আয় করযোগ্য নয়, অর্থাৎ তিন লাখ টাকার কম, তাহলে আপনি শুধু রিটার্ন জমা দেবেন। কোনো কর দিতে হবে না। এটিই হলো শূন্য রিটার্ন জমা দেওয়া। তবে আপনার আয় করমুক্ত আয়সীমার ওপরে থাকলে আপনাকে এলাকাভেদে ন্যূনতম তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকা কর দিতে হবে।

সব দান করমুক্ত নয়

আপনি বছরজুড়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও উপাসনালয়ে দান করেছেন। দান করেন না, এমন লোক পাওয়া দুষ্কর। স্থানীয়ভাবে সম্পদশালী ও প্রভাবশালীরা বছরজুড়েই দান করেন। এটি এ দেশের মানুষের দানের সংস্কৃতি। সব দানই মানুষের কল্যাণে করা হয়। কিন্তু সব দান করমুক্ত নয়। বছর শেষে করের হিসাব-নিকাশ করার সময় দানে কর ছাড়ের খাতগুলো দেখে অনেকেই হতাশ হন। যেমন পাড়ামহল্লার মসজিদ-মন্দিরে দান করমুক্ত নয়।

সরকার নির্ধারিত ১৩টি খাতেই শুধু দান করলে কর ছাড় মেলে। এগুলো হলো জাতির জনকের স্মৃতি রক্ষার্থে নিয়োজিত জাতীয় পর্যায়ের প্রতিষ্ঠান, জাকাত তহবিল, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) অনুমোদিত দাতব্য হাসপাতাল, প্রতিবন্ধীদের কল্যাণে স্থাপিত প্রতিষ্ঠান, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, আগা খান ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্ক, আহসানিয়া ক্যানসার হাসপাতাল, ঢাকা আহসানিয়া মিশন ক্যানসার হাসপাতাল, এশিয়াটিক সোসাইটি, আইসিডিডিআরবি, সিআরপি, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি রক্ষার্থে নিয়োজিত জাতীয় পর্যায়ের প্রতিষ্ঠান এবং সরকার অনুমোদিত জনকল্যাণমূলক বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

খরচের ফর্দ যখন বাধ্যতামূলক

করদাতার আয় তিন লাখ টাকা পেরোলেই কর দিতে হয়। মনে রাখতে হবে, শুধু কর দেওয়া নয়, আপনি সারা বছর কোথায় কত টাকা খরচ করলেন, তা–ও জানাতে হবে। এ জন্য বার্ষিক আয়কর বিবরণী জমার সময় আলাদা ফরমে জীবনযাত্রার খরচ দেখাতে হয়। আসলে কর কর্মকর্তারা আপনার জীবনযাত্রার সঙ্গে আয়ের সংগতি দেখতে চান। তাই সন্তানকে কোথায় পড়াচ্ছেন; প্রতিবছর কোথায় ঘুরতে যান; কটি পার্টির আয়োজন করেন; কাকে কী উপহার দিচ্ছেন—এসব খতিয়ান দেখতে চান কর কর্মকর্তারা। এমনকি গাড়িচালক, গৃহকর্মীর বেতন–ভাতা কত, তা–ও থাকতে হবে জীবনযাত্রার বিবরণীতে। এমনকি স্যাটেলাইট চ্যানেল সাবস্ক্রিপশন বিল, ময়লার বিলও বাদ যাবে না।

প্র বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন