default-image

করোনাভাইরাস শুরুর পর যখন সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়, তখন মীনা বাজারসহ সব সুপারশপ সমস্যায় পড়ে। ২৬ মার্চের পর ৪০-৫০ শতাংশ কর্মী বাড়ি চলে যায় কিংবা আতঙ্কে কাজে আসা বন্ধ করে দেয়। তবে যারা কাজে আসছিল, তারা সাহসের সঙ্গে গ্রাহকসেবা দেয়। তারাই আসলে ফ্রন্ট লাইনার। ওই সময়ে মানুষ কাঁচাবাজারে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিল, ফলে আমাদের ওপর চাপ বেড়ে যায়। ঢাকায় সব সুপারশপের প্রায় ২০০ আউটলেট আছে, তারাই ওই সময়ে গ্রাহকের চাহিদা মিটিয়ে আসছিল। ওই সময়ে আমাদের সরবরাহের পুরো ব্যবস্থা ঠিক রাখতে হয়েছে। এ জন্য বড় ধরনের চাপ গেছে, আবার অভিজ্ঞতাও হয়েছে।

ওই সময়ে আমাদের প্রধান দায়িত্ব ছিল কর্মীদের নিরাপত্তা সুরক্ষা নিশ্চিত করা। করোনা শুরুর পর মীনা বাজারের সব কর্মীর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কেউ অসুস্থ হলে তাকে বিচ্ছিন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। বাসায় যাওয়া-আসার জন্য সবার পরিবহনের ব্যবস্থা করা হয়। ওই সময়ে কর্মীদের যাতায়াতের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সিটি করপোরেশনের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা করতে হয়।

করোনা শুরুর পর পণ্যের চাহিদা হঠাৎ করে বেড়ে যায়। বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের চাহিদা। এ জন্য তেল, চিনি, চাল, ডালের সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়। পণ্যের যাতে ঘাটতি না হয়, এ জন্য আগে থেকেই প্রস্তুতি নিতে হয়। এর ফলে প্রথম দেড় মাস আমরা কোনো পণ্যের দাম বাড়াইনি। এর সুফল পেয়েছে পুরো দেশের মানুষ। এর কারণ, দেশে পণ্যের দাম স্থিতিশীল ছিল। ভাইরাস আসার পর অনলাইন ও মোবাইল ফোনে অর্ডার অনেক বেড়ে যায়। ওই সময়ে পণ্য দ্রুত পৌঁছানোর জন্য পাঠাও, ইভ্যালি, ফুডপান্ডার মতো প্ল্যাটফর্ম আমাদের ব্যবহার করতে হয়।

বিজ্ঞাপন
default-image
মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে বাংলাদেশ যেখানে যেতে চাইছে, তাই এ খাতকে গুরুত্ব দিতেই হবে। ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশে দুই হাজারের বেশি সুপারশপ আছে। আমাদের সরকারের এসব নিয়ে কোনো পরিকল্পনা নেই। খাতটি বড় করার জন্য সরকারকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করতে হবে।
মীনা বাজারের পরিচালক ও বাংলাদেশ সুপারমার্কেট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কাজী ইনাম আহমেদ

করোনা শুরুর পরই ফলমূল বিক্রি কমে গিয়েছিল। তবে প্যাকেটজাত পণ্যের বিক্রি বেড়েছিল। এর প্রভাব এখনো রয়ে গেছে। এখন আবার রাস্তায় রাস্তায় ভ্যানগাড়িতে ফলমূল বিক্রি হচ্ছে। জুলাই-আগস্ট থেকে ফলমূল বিক্রি ৪০-৫০ শতাংশ কমে গেছে।
করোনা শুরুর পর ব্যবসা বাড়লেও এখন আবার কমতে শুরু করেছে। সব মিলিয়ে আগের বছরের তুলনায় বিক্রি ২৫-৩০ শতাংশ কমে গেছে। আমাদের বড় সমস্যা হলো ৫ শতাংশ ভ্যাট। সুপারশপের যে পণ্যের দাম ৫২৫ টাকা দিতে হয়, বাইরে তা ৫০০ টাকায় পাওয়া যায়। এটা কেন হবে? পৃথিবীর কোনো দেশে এমন নিয়ম নেই। এমন নিয়মের কারণে সুপারশপ খাতের কোনো উন্নতি হবে না। মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে বাংলাদেশ যেখানে যেতে চাইছে, তাই এ খাতকে গুরুত্ব দিতেই হবে। ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশে দুই হাজারের বেশি সুপারশপ আছে। আমাদের সরকারের এসব নিয়ে কোনো পরিকল্পনা নেই। খাতটি বড় করার জন্য সরকারকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করতে হবে।

করোনার দ্বিতীয় ধাপ আসতে পারে। এ জন্য আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে। করোনার শুরুতে শপ বন্ধ থাকলেও ভ্যানগাড়িতে করে পণ্য বিক্রি করা হয়েছে। এমনকি লকডাউন এলাকাতেও আমরা পণ্য সরবরাহ করেছি। সামনে কী হবে জানি না, তবে আমাদের প্রস্তুতি আছে। আমাদের জনবল, ব্যবস্থাপনা ও অভিজ্ঞতা দিয়ে আমরা বাসায় পণ্য সরবরাহ করতে পারব।

মন্তব্য পড়ুন 0