default-image

দেশের সঞ্চয়কারীদের জন্য আকর্ষণীয় এক বিনিয়োগক্ষেত্রের নাম তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র। মেয়াদ শেষে এর মুনাফার হার ১১ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ, যা বহাল আছে ২০১৫ সালের ২৩ মে থেকে। যেকোনো শ্রেণি-পেশার নাগরিকই এ সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করতে পারেন।

দেশে তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র চালু করা হয় ১৯৯৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে। ব্যক্তিপর্যায়ের যে কেউ এ সঞ্চয়পত্র কিনতে পারলেও অটিস্টিকদের নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নতুন করে সুযোগ দিয়েছে সরকার। মাত্র চার মাস আগে গত বছরের ২৫ নভেম্বর বিদ্যমান সঞ্চয়পত্র বিধি, ১৯৭৭ (সংশোধিত ২০১৫) সংশোধন করে সুযোগটি তৈরি করা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি) এ জন্য একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। দেশে প্রথমবারের মতো এমন সুযোগ তৈরি হয়।

চার ধরনের মূল্যমানের তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র রয়েছে। এগুলো হচ্ছে ১ লাখ, ২ লাখ, ৫ লাখ ও ১০ লাখ টাকা। এ সঞ্চয়পত্রের মেয়াদ তিন বছর। তবে মেয়াদ পূর্তির আগেও নগদায়ন করা যায়। সে ক্ষেত্রে মুনাফার হার কম। জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর এ ব্যাপারে একটি তালিকাও করে রেখেছে।

বিজ্ঞাপন

যেমন তিন বছর শেষে মুনাফার হার ১১ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ, দুই বছর শেষে ১০ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং এক বছর শেষে ১০ শতাংশ। তিন বছর শেষে প্রতি এক লাখ টাকায় আসলসহ মুনাফা ১ লাখ ৩৩ হাজার ১২০ টাকা, দুই বছর শেষে ১ লাখ ২১ হাজার টাকা এবং এক বছর শেষে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা। এ তো গেল বছরওয়ারি মুনাফার হার ও পরিমাণ।

আবার মূল্যমান অনুযায়ী এ সঞ্চয়পত্রের তিন মাস অন্তর মুনাফার পরিমাণও নির্ধারণ করে রেখেছে সঞ্চয় অধিদপ্তর। যেমন ১ লাখ টাকায় তিন মাস অন্তর মুনাফা ২ হাজার ৭৬০ টাকা। এ ছাড়া ২ লাখ টাকায় ৫ হাজার ৫২০ টাকা, ৫ লাখ টাকায় ১৩ হাজার ৮০০ টাকা এবং ১০ লাখ টাকায় ২৭ হাজার ৬০০ টাকা।

তবে মুনাফা থেকে প্রযোজ্য উৎসে কর কেটে রাখবে ব্যাংক, যা পরে সরকারকে দেবে। ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে উৎসে কর ৫ শতাংশ। আর ৫ লাখের ওপরে গেলেই উৎসে কর ১০ শতাংশ। একক নামে ৫০ লাখ অথবা যৌথ নামে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত এ সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করা যায়।

একক নামে ৫০ লাখ টাকার বিষয়টি এ রকম—অন্য কোনো সঞ্চয়পত্র কেনা না থাকলে কেউ একক নামে ৫০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করতে পারবেন। কেউ যদি পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র কেনেন ২০ লাখ টাকার, আবার পরিবার সঞ্চয়পত্র কেনেন ১০ লাখ টাকার, তাহলে ওই গ্রাহক আর ২০ লাখ টাকার তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র কিনতে পারবেন।

সঞ্চয় অধিদপ্তরের ২০২০ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী চালু সব সঞ্চয়পত্রের মধ্যে ২০ শতাংশই বিক্রি হয় তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র। ২০১৯-২০ অর্থবছরে মোট বিক্রি ১৬ হাজার ৯৬৮ কোটি টাকা। এ অর্থবছরে নিট বিক্রি হয়েছে ৮ হাজার ৩৮ কোটি টাকা আর মুনাফা পরিশোধ করা হয়েছে ৮ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। মোট বিক্রির মধ্যে সঞ্চয় ব্যুরো ও ডাকঘরের মাধ্যমে যা বিক্রি হয়েছে, তার তিন গুণ বেশি বিক্রি হয়েছে ব্যাংকের মাধ্যমে।

তবে আগের অর্থবছরে মোট বিক্রির পরিমাণটি প্রায় দ্বিগুণের কাছাকাছি ছিল। মোট ছিল ২৭ হাজার কোটি টাকা। মুনাফা ছিল ৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা আর নিট বিক্রি ছিল ১৬ হাজার কোটি টাকা।

প্রতিষ্ঠানের জন্য বিনিয়োগ সুযোগ

যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অটিস্টিকদের জন্য গড়ে উঠেছে, গত নভেম্বর থেকে সেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক তিন বছর মেয়াদি সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করতে পারছে। আগে প্রতিষ্ঠানের জন্য এ সুযোগ ছিল না।

শুধু অটিস্টিকদের জন্য গড়ে ওঠা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, যেসব প্রতিষ্ঠান অটিস্টিকদের সহায়তায় কাজ করে, তাদের জন্যও এই সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করার সুযোগ তৈরি করা হয়েছে।

ব্যক্তির ক্ষেত্রে একক নামে ৫০ লাখ বা যৌথ নামে ১ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র কেনার সুযোগ থাকলেও অটিস্টিকদের জন্য গড়ে ওঠা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য বিনিয়োগের কোনো সীমা বেঁধে দেওয়া হয়নি। তবে যে প্রতিষ্ঠানই এই সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করতে যাবে, তার আগে সে প্রতিষ্ঠানকে জেলা সমাজসেবা কার্যালয় থেকে প্রত্যয়নপত্র নিতে হবে।

দেশে অটিস্টিকদের কতটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে, তা জানা সম্ভব হয়নি। সমাজসেবা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে বেসরকারিভাবে পরিচালিত প্রতিবন্ধীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কথা উল্লেখ রয়েছে। তাতে দেখা যায়, সুইড বাংলাদেশ পরিচালিত ৪৮টি বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী বিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী ফাউন্ডেশন পরিচালিত ৭টি ইনক্লুসিভ বিদ্যালয় এবং বেসরকারি সংস্থা প্রয়াস পরিচালিত একটি অটিস্টিক শিশুদের বিদ্যালয় রয়েছে।

বিজ্ঞাপন
প্র বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন