বিজ্ঞাপন

একসময়, এই চিন্তাই তাঁর মাথায় আটকাল। তাঁর মনে হলো, তিনি যদি ছোটবেলার পছন্দের এই পানীয়কে আরেকটু পরিবর্তন করে এখানে চালু করেন, তাহলে কেমন হয়? অল্প চিনি ও উদ্ভিজ্জ উৎস থেকে আসা দুধের মিশ্রণে এই চা তৈরির কথা ভাবলেন তিনি। তবে কঠিন পরিস্থিতিটা এল পরে। যেহেতু আগে কখনো এই খাতে কাজ করেননি, আবার পরিবারের কেউই এই খাতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না, তাই কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না টিনার। এ কারণে খুব ছোট পরিসরেই কাজ শুরু করেন টিনা। অনলাইন থেকে রেসিপি নিয়ে বাসায় বসেই শুরু হলো তাঁর কাজ।

লন্ডনের মতো জায়গায় তিনি ছিলেন একা। পরিবারের কোনো সদস্য ছিল না। টিনা একজন অংশীদার খুঁজতে থাকলেন। তবে এমন কাউকেই পেলেন না, যে কিনা তাঁর মতো পুরোটা ঢেলে দেবেন। তাই পণ্য বানানো, বিক্রি সবই একাই করতেন টিনা। সেন্ট্রাল লন্ডনে একটি মার্কেটের সামনে নিজে স্টল খোলেন। রাতে তিনি অন্য একটি বাণিজ্যিক কিচেনে তাঁর পণ্য বানাতেন, বোতলজাত করতেন, সবই হতো হাতে। পরে সকালে স্টলে নিয়ে বিক্রি করতেন এই চা।

টিনার তখন ঘুম হতো খুব কম। তিনি বুঝতে পারছিলেন, নিজের ওপর অবিচার করছেন, যা একজন নতুন উদ্যোক্তার জন্য মোটেও ঠিক নয় বলে মনে করেন টিনা। তাই নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য টিনার পরামর্শ হলো, সুস্থ থাকতে হবে, নিজের যত্ন নিয়ে কাজ করতে হবে। পথচলায় নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয় টিনাকে। কোম্পানির নাম নিয়ে কপিরাইট সমস্যায় পড়েন। এসব প্রতিবন্ধকতায় খুব কান্না পেত টিনার। কান্না থামাতে যে কত কিছু করতেন!

তবে একসময় বুঝতে পারেন, কান্না তাঁর আবেগ প্রকাশে সাহায্য করছে। কান্না করার পর ভালো অনুভব করতেন তিনি। কান্নার কারণে তাঁর ভেতর আবেগ জমে থাকত না। এ কারণে টিনা মনে করেন, ব্যবসায় সফলতার জন্য কান্নাও জরুরি। এ বছর একটি সফল ক্রাউড ফান্ডিং ক্যাম্পেইনের পর তিনি তাঁর ‘হিউম্যানি টি’ উৎপাদনকে নিয়ে গেছেন কারখানা পর্যায়ে। এরই মধ্যে দুজন কর্মীও নিয়োগ দিয়েছেন।

বিবিসি অনলাইন অবলম্বনে শাকিলা হক

প্র বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন