default-image

করোনার সময় এক দিনের জন্যও আমার কারখানার উৎপাদন বন্ধ ছিল না। উৎপাদন সচল রাখতে বেশির ভাগ কর্মীকে পুরোটা সময় আমরা কারখানা অভ্যন্তরে রেখে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করেছি। এতে আমরা দারুণ সুফল পেয়েছি। একদিকে আমাদের উৎপাদন কার্যক্রম সচল ছিল, অন্যদিকে কর্মীরা ছিলেন নিরাপদ। পৃথিবীজুড়ে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো যেমন ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, করোনায় আমরাও হয়েছি। ব্যবসা করেই ব্যবসার ক্ষতি পোষাতে হবে। আর ব্যবসার ক্ষতি পোষাতে হলে দরকার আগের চেয়ে বেশি বিক্রি।

নতুন নতুন ব্যবসায়িক উদ্যোগের মাধ্যমেই সেই কাজটি করতে হবে। এ কাজটি করবেন কর্মীরাই। তাই কর্মীদের চাঙা রেখেই আমরা ব্যবসা বাড়ানোর পথে হাঁটছি। আমি মনে করি, কর্মীর সুযোগ-সুবিধা কমালে তাতে হয়তো সাময়িকভাবে প্রতিষ্ঠান আর্থিকভাবে কিছুটা লাভবান হয় কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি হয় তাতে। তাই করোনার শুরু থেকে এখন পর্যন্ত আমরা আমাদের কোনো কর্মীর সুযোগ-সুবিধা এতটুকু কমাইনি। তাই কর্মীরা ব্যবসার ক্ষতি পোষাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন।

করোনার ক্ষতি মোকাবিলায় সরকারের পক্ষ থেকে বেশ কিছু প্রণোদনার পাশাপাশি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ঘোষণা করা হয়েছে। একজন শিল্পোদ্যোক্তা হিসেবে আমি মনে করি, এগুলো ঠিকই আছে।
প্রিমিয়ার সিমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আমীরুল হক

করোনার শুরুতে আমাদের কাছে ব্যবসার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল জীবন। কারণ, জীবন থাকলে তারপরই জীবিকার প্রশ্ন। তাই শুরুতে প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের সুরক্ষিত রাখতেই কারখানায় থাকার উদ্যোগ নিয়েছিলাম। এতে উৎপাদন যেমন সচল ছিল, তেমনি কর্মীরাও ছিলেন সুরক্ষিত। দুই দিক থেকেই আমরা তাই সুফল পেয়েছি। ভবিষ্যতেও করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের কারণে পরিস্থিতি যদি খারাপের দিকে যায়, তবে প্রথম ধাক্কার অভিজ্ঞতা আবারও কাজে লাগানো যাবে।

বিজ্ঞাপন
default-image

করোনার ক্ষতি মোকাবিলায় সরকারের পক্ষ থেকে বেশ কিছু প্রণোদনার পাশাপাশি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ঘোষণা করা হয়েছে। একজন শিল্পোদ্যোক্তা হিসেবে আমি মনে করি, এগুলো ঠিকই আছে। এসব সুযোগ-সুবিধা বহাল থাকলে খুব শিগগির দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতি আগের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে যাবে বলে আমার বিশ্বাস। ব্যবসার স্বাভাবিক সুযোগ থাকলে ব্যবসায়ীরা তাঁদের ক্ষতি ধীরে ধীরে পুষিয়ে নিতে পারবেন। করোনায় আমাদের প্রতিষ্ঠানের যে ক্ষতি হয়েছে, তা কয়েক বছরে পুনরুদ্ধার করার পরিকল্পনা করেছি আমরা। আমরা যারা উৎপাদনমুখী শিল্পকারখানার সঙ্গে জড়িত, সেখানে পণ্য উৎপাদন হয় মেশিনে, কিন্তু বাজারজাত থেকে শুরু করে বাকি সব কাজের সঙ্গে যুক্ত মানুষ। তাই মানবসম্পদ ও উৎপাদিত পণ্যের মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়ে ব্যবসার ক্ষতি মোকাবিলা করতে হবে।

আমরা যারা শিল্পকারখানা ও বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত, তাদের ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট বা আপত্কালীন ব্যবস্থাপনা শিখিয়েছে করোনা। একদিকে প্রতিষ্ঠান বাঁচানো, অন্যদিকে ব্যবসায়িক ক্ষতি মোকাবিলা—এ দুইয়ের শিক্ষা দিয়েছে করোনা। আবার একজন ব্যবসায়ী হিসেবে সামাজিক দায়বদ্ধতা পালনের ক্ষেত্রেও একটি বড় সুযোগ তৈরি করে দিয়েছিল। ব্যবসা করতে গেলে লাভ-লোকসান থাকবেই। সেই ক্ষতি মাথায় রেখেই আমাদের আগামী দিনের প্রস্তুতি নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। একজন শিল্পোদ্যোক্তা হিসেবে যেমন বসে থাকার সুযোগ নেই, তেমনি আমাদের কর্মীদেরও ঘরে বসে থাকার সুযোগ নেই। নিজ নিজ তাগিদেই আমাদের জীবন ও জীবিকার মধ্যে সমন্বয় ঘটাতে হবে।

মন্তব্য পড়ুন 0