default-image

দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে ২৬ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটি শুরুর পর আমাদের কারখানা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। খোলা হয় ১১ মে থেকে। ওই সময় মোটরসাইকেল বিক্রি হয়নি বললেই চলে। যখন সাধারণ ছুটি শিথিল করে কারখানা খোলার সুযোগ দেওয়া হলো, তখন আমরা স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিভিন্ন ব্যবস্থা নিয়ে কাজ শুরু করি। কারখানায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে নানা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আমাদের কর্মীর সংখ্যা এক হাজারের মতো। এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে সংক্রমিত কর্মীর সংখ্যা উদ্বেগজনক নয়।

করোনাকালে টিভিএস কোনো কর্মী ছাঁটাই করেনি, পূর্ণ বেতন ও ভাতা দিয়েছে। পাশাপাশি যাঁরা আক্রান্ত, যাঁরা আক্রান্ত হয়েছেন, তাঁদের চিকিৎসা ব্যয় বহন করেছে কর্তৃপক্ষ।

পরিস্থিতি তখনই স্বাভাবিক হবে, যখন মানুষ টিকা পাবে এবং কোনো উদ্বেগ ছাড়া ঘর থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে। এখনো কিন্তু মানুষের মধ্যে জড়তা রয়ে গেছে।
টিভিএস অটো বাংলাদেশের সিইও বিপ্লব কুমার রায়
বিজ্ঞাপন

মোটরসাইকেল বিক্রি জুলাই-আগস্ট সময়ে ভালো ছিল। তখন সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে বাসে চড়া এড়ানোর জন্য অনেকে মোটরসাইকেল কিনতে আগ্রহী হন। গত দুই মাস আবার মোটরসাইকেল বিক্রিতে মন্দাভাব দেখা যাচ্ছে। এর কারণ কয়েকটি হতে পারে। প্রথমত, অনেক এলাকায় বন্যা ও অতিবৃষ্টির কারণে বিক্রি কম হয়েছে। দ্বিতীয়ত, মানুষের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি একটু খারাপ হয়েছে। যার প্রভাব পড়েছে মোটরসাইকেল বিক্রিতে।

default-image

করোনার কারণে বৈশ্বিক সরবরাহের ব্যবস্থা বিঘ্নিত হয়েছে। যেসব দেশ থেকে বাংলাদেশ মোটরসাইকেলের যন্ত্রাংশ আমদানি করে, সেসব দেশে উৎপাদন বিঘ্নিত হয়। ফলে তারা যথাসময়ে পণ্য দিতে পারেনি। এখন কিন্তু বেশির ভাগ মোটরসাইকেল কোম্পানির কাছে মোটরসাইকেলের মজুত কম।

করোনাভাইরাস নতুন স্বাভাবিক অবস্থা তৈরি করেছে। নতুন স্বাভাবিক পরিস্থিতি আমাদের কাছে নতুন। এখন আমরা ৮০ শতাংশের মতো কর্মীর উপস্থিতিতে কাজ করি। যাঁরা একটু বয়স্ক এবং আগে থেকেই বিভিন্ন রোগে ভুগছেন, তাঁদের অফিসে আসা নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। কারও মধ্যে কোনো লক্ষণ দেখা গেলে তৎক্ষণাৎ তাঁকে ১৪ দিনের জন্য সঙ্গনিরোধ বা কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হচ্ছে। স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিভিন্ন ব্যবস্থা এখনো কারখানায় ও অফিসে রয়েছে।

পরিস্থিতি তখনই স্বাভাবিক হবে, যখন মানুষ টিকা পাবে এবং কোনো উদ্বেগ ছাড়া ঘর থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে। এখনো কিন্তু মানুষের মধ্যে জড়তা রয়ে গেছে। করোনাকালের শুরুতে সরকার অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কর্মসূচি নিয়েছে। ব্যাংকের ঋণ শোধের ক্ষেত্রে সময়সীমা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এটা কোম্পানিগুলোর খুব কাজে লেগেছে। ব্যবসা প্রথম ধাক্কায় টিকে গেছে। মোটরসাইকেল কোম্পানিগুলো মাঝে কয়েক মাস ভালো বিক্রির মুখও দেখেছিল। ফলে অসুবিধা হয়নি। তবে বছর শেষে মোটরসাইকেল বিক্রি সার্বিকভাবে গত বছরের চেয়ে কম দাঁড়াবে।

করোনাকালে অনেকে কর্মহীন হয়েছেন। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ছাঁটাই ও বেতন কর্তনের ঘটনা ঘটেছে। অর্থনীতি ও ব্যবসা–বাণিজ্যের ওপর এর একটা প্রভাব আরও অনেক দিন থাকতে পারে। এখন ভবিষ্যতের রাস্তা একটাই। ব্যবসা স্বাভাবিক থাকলে কোম্পানিগুলো টিকে যাবে। এ জন্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্বাভাবিক রাখার ওপর জোর দিতে হবে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0