দেশে ক্রেডিট কার্ড ব্যবসায় শীর্ষে বেসরকারি খাতের সিটি ব্যাংক। সিটি ব্যাংকের রিটেইল ব্যাংকিং প্রধান মোহাম্মদ অরুপ হায়দার প্রথম আলোকে বলেন, গত বছরের তুলনায় ব্যক্তিগত ঋণে ৩০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। একইভাবে কেনাকাটার ক্ষেত্রে ক্রেডিট কার্ডের ঋণও বেড়েছে। গ্রাহকেরা এখন কেনাকাটা আগের চেয়ে বেশি করছে, যার ইঙ্গিত দিচ্ছে লেনদেন বাড়ার চিত্র।

সব ব্যাংকেরই ভোক্তাঋণ সেবা রয়েছে। তবে এ ঋণে দেশীয় ব্যাংকগুলোর মধ্যে ব্র্যাক, দি সিটি, ডাচ্-বাংলা, প্রাইম, ইস্টার্ন, ইউসিবিএল, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ও ঢাকা ব্যাংক এগিয়ে। পাশাপাশি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোও গৃহস্থালি যন্ত্রপাতি কেনার ক্ষেত্রে ভোক্তাঋণ সুবিধা দিচ্ছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইপিডিসি এসব যন্ত্রপাতি কিনতে তাৎক্ষণিক ঋণ দিচ্ছে।

আগে ভোক্তাঋণে কড়াকড়ি থাকলেও অর্থনীতিতে চাহিদা তৈরিতে ২০২০ সালের অক্টোবরে ভোক্তাঋণের বিপরীতে ব্যাংকের নিরাপত্তা সঞ্চিতি সংরক্ষণে ছাড় দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আগে সব ধরনের অশ্রেণীকৃত ভোক্তাঋণে ৫ শতাংশ হারে সঞ্চিতি রাখতে হতো, যা ওই সময় কমিয়ে ২ শতাংশ করা হয়। এ ছাড়া ক্রেডিট কার্ড ছাড়া অন্য ভোক্তাঋণে সুদহার ৯ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়। এরপর থেকে ভোক্তা খাতে ঋণ বিতরণে বেশ আগ্রহ দেখাচ্ছে ব্যাংকগুলো। অন্যদিকে সুদের হার কমে আসায় সংকট উত্তরণে সাধারণ মানুষও এই ঋণ নিচ্ছেন।

ব্র্যাক ব্যাংকের রিটেইল ব্যাংকিং বিভাগের প্রধান মো. মাহীয়ুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, হোম অ্যাপ্লায়েন্স খাতের জন্য আলাদাভাবে খুব বেশি ঋণের প্রস্তাব আসে না। গ্রাহকেরা ব্যক্তিগত ঋণ দিয়ে এসব কেনাকাটা করে। আর ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে ইলেকট্রনিক হোম অ্যাপ্লায়েন্স কেনা দিনে দিনে বাড়ছে। এতে কোনো নথিপত্র লাগছে না। বিনা সুদে কিস্তিতে এক বছর পর্যন্ত টাকা পরিশোধ করা যাচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংক খাতে ভোক্তাঋণের পরিমাণ ছিল ৮১ হাজার ৯৮৮ কোটি টাকা, যা ২০২১ সালের ডিসেম্বরে বেড়ে দাঁড়ায় ৯৫ হাজার ৪১৯ কোটি টাকা। সেই হিসাবে গত এক বছরে ভোক্তা খাতে ঋণ বেড়েছে ১৩ হাজার ৪৩১ কোটি টাকা। প্রবৃদ্ধির হার প্রায় সাড়ে ১৬ শতাংশ। অথচ একই বছরে বেসরকারি খাতে সার্বিক ঋণের প্রবৃদ্ধি ছিল ১০ দশমিক ৬৮ শতাংশ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের মার্চে ভোক্তাঋণের মোট গ্রাহক ছিলেন ২৫ লাখ ৯ হাজার ৮৯৪ জন, ২০২১ সালের ডিসেম্বরে এ সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২৮ লাখ ১০ হাজার ৪৭২। আবার ক্রেডিট কার্ডের বিপরীতেও ঋণ নেওয়ার পরিমাণ বেশ বেড়েছে। ২০২০ সালের মার্চে ক্রেডিট কার্ডের বিপরীতে ঋণ নেওয়ার পরিমাণ ছিল ৫ হাজার ৪৪৯ কোটি টাকা। গত বছরের ডিসেম্বরে তা বেড়ে হয়েছে ৬ হাজার ৯২৬ কোটি টাকা।

ঢাকা ব্যাংকের রিটেইল ব্যবসা বিভাগের প্রধান এইচ এম মোস্তাফিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, করোনার সময়ের তুলনায় এখন কার্ডে লেনদেন ৫৫ শতাংশ বেড়েছে। বর্তমানে কার্ড দিয়ে বাকিতে কেনাকাটা আগের চেয়ে বেশি হচ্ছে। কারণ, কার্ডে কেনাকাটায় মিলছে নানা ছাড়। আবার পণ্য কেনার পর মাসিক কিস্তিতে টাকা পরিশোধের সুযোগ রয়েছে। এ জন্য ভোক্তারা এখন সহজেই গৃহস্থালি নানা যন্ত্রপাতি ও সামগ্রী কিনতে পারছেন। এতে ভোক্তারা যেমন উপকৃত হচ্ছেন, তেমনি ব্যাংকেরও এ খাতে ঋণ বাড়ছে।

প্র বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন