default-image

করোনার মধ্যে কেউ ভালো নেই। সবার যেন মন খারাপ। দৈনন্দিন জীবনে মন খারাপকে ছুটি দিতে আমরা কত কিছুই না করি। করোনা সংকট বিশ্বজুড়েই প্রায় প্রতিটি মানুষের ওপর শারীরিক ও মানসিক চাপ সৃষ্টি করেছে। ভালো থাকার সুযোগ যেন হারিয়ে যাচ্ছে। আপনি শারীরিক ও মানসিকভাবে ভালো থাকতে পারলে আপনার চেয়ে সুখে কেউ আর থাকবে না। শরীর ও মনের প্রশান্তিই সবকিছু।

আপনার ভালো থাকার বিষয়টি শুধু আপনার আয়ের ওপর নির্ভর করে না। নাগরিকদের ভালো রাখার জন্য দেশে দেশে নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করা হয়। আবার ভালো থাকতে পকেট উজাড় করে খরচও করেন আপনি। এগুলোই ভালো থাকার অর্থনীতি। আপনি সাজগোজ করলেন, আপনি বেড়াতে গেলেন, এমনকি আপনার সুন্দর কাজের পরিবেশও আপনার মানসিক প্রশান্তি আনবে। এমনকি ওজন কমানোও ভালো থাকার উপায়।

রূপচর্চা, ঘুরে বেড়ানো, সুস্বাস্থ্য—এসব সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে দেশে দেশে নানা শিল্প খাত তৈরি হয়েছে। আপনি কি জানেন, ভালো থাকার অর্থনীতির আকার কত? না জানারই কথা। সম্প্রতি এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুট (সেপ্টেম্বর) প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে করোনা পরিস্থিতি বিবেচনা করে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি ভালো থাকার অর্থনীতির আকার, ভালো থাকার উৎস—এসব সম্পর্কে নানা ধরনের তথ্য দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
default-image

গ্লোবাল ওয়েলনেস ইনস্টিটিউটের হিসাবের উদ্ধৃতি দিয়ে এডিবি বলেছে, ২০১৮ সালের হিসাব অনুযায়ী, সারা বিশ্বের ভালো থাকার অর্থনীতির আকার সাড়ে ৪ লাখ কোটি ডলার। এর মানে, ওই বছর শুধু ভালো থাকতে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করা হয়েছে, যা অর্থনীতিতে যোগ হয়েছে। বিশ্বজুড়ে ওই বছর যত পণ্য উৎপাদন বা সেবা সৃষ্টি করা হয়েছে, এর সাড়ে ৫ শতাংশই মানুষের ভালো থাকার জন্য। দিন দিন ভালো থাকার অর্থনীতি বাড়ছে। পাঁচ বছরের ব্যবধানে ভালো থাকার অর্থনীতির আকার বেড়েছে প্রায় ১ লাখ কোটি ডলার। ২০১৩ সালে ভালো থাকার অর্থনীতির আকার ছিল ৩ লাখ ৪০ হাজার কোটি ডলার।

বাংলায় প্রবাদ আছে—স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল। সেটিই যেন আবার নতুন করে ফিরে এসেছে। পাড়া-মহল্লায় জিম বা ব্যায়ামাগার তৈরি হয়েছে। আবার এসব জিমে নানা ধরনের যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয়।

এবার দেখা যাক, কোন কোন খাতের ওপর ভালো থাকার বিষয়টি নির্ভর করে। গ্লোবাল ওয়েলনেস ইনস্টিটিউট ভালো থাকার অর্থনীতি নির্ধারণ করতে ১০টি খাত চিহ্নিত করেছে। এগুলো হলো ব্যক্তিগত সুরক্ষা ও সৌন্দর্যচর্চা; শারীরিক পরিশ্রম; পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ ও ওজন কমানো; পর্যটন; সুস্বাস্থ্য; ঐতিহ্যবাহী ও প্রাচীন আমলের চিকিৎসা নেওয়া; বাড়িঘর বানানো-সাজানো; স্পা অর্থনীতি; বাসাবাড়িতে গরম পানি ও প্রাকৃতিক পানিসুবিধা থাকা এবং কর্মপরিবেশে ভালো থাকা। এসব খাতে বিনিয়োগের পাশাপাশি মানুষের সেবা গ্রহণের মাধ্যমেই এই অর্থনীতির আকার নির্ধারণ করা হয়।
আপনি ব্যক্তিগত সুরক্ষা ও রূপচর্চার জন্য ত্বকের যত্ন নেন, নখের যত্ন নেন। নানা ধরনের প্রসাধনী ব্যবহার করেন। এ জন্য নানা ধরনের শিল্পকারখানা গড়ে ওঠেছে। এ ধরনের পণ্য উৎপাদন ও সেবা একটি দেশের অর্থনীতির আকার আরও সম্বৃদ্ধ করছে।

বাংলায় প্রবাদ আছে—স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল। সেটিই যেন আবার নতুন করে ফিরে এসেছে। পাড়া-মহল্লায় জিম বা ব্যায়ামাগার তৈরি হয়েছে। আবার এসব জিমে নানা ধরনের যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয়। সেসব যন্ত্রপাতি তৈরির কারখানাও আছে। এসব ব্যবসা এখন ভালো থাকার অর্থনীতিতে যুক্ত হয়ে গেছে। আপনি যে পুষ্টিকর খাবার কিনে খান, তা–ও ভালো থাকার অর্থনীতি।

বিজ্ঞাপন
default-image

পরিবার-পরিজন, বন্ধুবান্ধব নিয়ে দেশে–বিদেশে বেড়াতে গিয়ে দেদার খরচ করেন। আবার পর্যটকদের জন্য হোটেল-মোটেলসহ নানা ধরনের বিনোদন পার্ক তৈরি হয়েছে। সবই ভালো থাকার অর্থনীতির অংশ।

একটি বাড়ি বা ফ্ল্যাটের স্বপ্ন কে না দেখে। নিজের একটি বাড়ি বা ফ্ল্যাটের মধ্যেই যেন সব সুখ লুকিয়ে আছে। বাড়ি বা ফ্ল্যাট নির্মাণে আপনাকে জমি, রড, সিমেন্টসহ নানা ধরনের সামগ্রী কিনতে হয়। এসব কিনতে আপনি যে খরচ করেন, তা ভালো থাকার অর্থনীতিতে যোগ হয়ে যায়। এমনকি বাসাবাড়িতে বাড়তি সুযোগ হিসেবে গরম পানির সংযোগ নেন। এটাও সুখের অর্থনীতি।

‘স্পা’ এখন অভিজাত শ্রেণি পেরিয়ে উচ্চমধ্যবিত্তের জীবনে ঢুকে গেছে। নিয়মিত স্পা নিতে খরচের পরিমাণও নেহাত কম নয়। স্পা সেবা দেওয়ার জন্য কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া, পরামর্শক নিয়োগ, বিনিয়োগ, প্রচার-প্রচারণা করতে হয়। এটা স্পা অর্থনীতি।
করোনার সময় অফিস–আদালতে কর্মীদের ব্যক্তিগত সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দেদার খরচ করা হচ্ছে। এই খরচ ভালো থাকার অর্থনীতিতে যুক্ত হয়ে যাচ্ছে। আবার কর্মীর দক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এ ছাড়া কর্মীদের নানা ধরনের প্রাপ্য সুযোগ–সুবিধা নিশ্চিত করা হয়। সবই করা হয় যাতে কর্মীরা ভালো থাকেন।

বিজ্ঞাপন
default-image

ভালো থাকার অর্থনীতি সব দেশের মোট জাতীয় আয়ে যুক্ত হয়ে যায়। অর্থাৎ ভালো থাকার অর্থনীতি ওই মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) বাড়িয়ে দেয়, প্রবৃদ্ধি বাড়ায়। এডিবি বলছে, এশিয়ায় ভালো থাকার অর্থনীতি ক্রমেই বড় হচ্ছে। এক দশক ধরেই এশিয়ার মোট জিডিপির ১০ শতাংশের বেশি আসে ভালো থাকার অর্থনীতি থেকে।

চীন, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম, ফিজির ভালো থাকার অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি দুই অঙ্কের ঘরে। মালয়েশিয়ায় এই প্রবৃদ্ধি সর্বোচ্চ ১৩ শতাংশ। এর মানে, মালয়েশিয়ার নাগরিকেরা ভালো থাকতে অনেক খরচ করেন। ভালো থাকার চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। ফলে ওই দেশের নাগরিকদের ভালো রাখার জন্য বিনিয়োগ হচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশে ভালো থাকার অর্থনীতির আকার কত, সে সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি।

মন্তব্য পড়ুন 0