default-image

দেশের অধিকাংশ ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃত্ব নির্বাচনে ভোট হচ্ছে না। এমন প্রেক্ষাপটে ভোটের মাধ্যমে পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচনের পথে রয়েছে বিজিএমইএ। সাধারণ সদস্যদের ভোটে পরিচালনা পর্ষদ গঠিত হলে কী লাভ হবে?

সর্বশেষ ২০১৩ সালে বিজিএমইএতে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হয়েছিল। নেতৃত্ব নির্বাচনে ভোট দেওয়া সংগঠনের সদস্যদের একটি গণতান্ত্রিক অধিকার। আমাদের সংগঠনের গঠনতন্ত্রেও নেতৃত্ব নির্বাচনে ভোটের নিয়ম আছে। ভোট হলে সাধারণ সদস্যরা নিজেদের পছন্দের প্রার্থীদের নির্বাচিত করতে পারেন। তা ছাড়া নেতৃত্বের মধ্যেও জবাবদিহি করার মনোভাব থাকে। কারণ, দুই বছর পর প্রার্থীদের আবার ভোটারের কাছেই যেতে হয়। আরেকটি জিনিস হলো, সাধারণ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিতরা জনগণ, আন্তর্জাতিক সংস্থা, এনবিআর, কাস্টমস, পুলিশসহ সব জায়গায় প্রাপ্য সম্মানটি পান।

ভোটে জিততে আপনারা ৩৫ জনের প্যানেল দিয়েছেন। সম্মিলিত পরিষদের প্যানেলে যাঁরা স্থান পেয়েছেন তাঁরা কতটা যোগ্য?

আমরা প্রথম থেকেই প্যানেলে তৈরি পোশাকের ব্যবসায় সফল, অভিজ্ঞ ও তারুণ্যের একটি সমন্বয় করতে চেয়েছি। শেষ পর্যন্ত আমাদের প্যানেলে কয়েকজন আছেন যাঁরা ব্যবসার পাশাপাশি ২০-২৫ বছর ধরে বিজিএমইএর সঙ্গে কাজে অভিজ্ঞ। তাঁরা নীতিসহায়তাসহ বিভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনায় দক্ষ। প্যানেলে বেশ কয়েকজন সফল ব্যবসায়ীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাঁরা এত দিন নিজেদের ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। ব্যবসা থেকে অনেক কিছু পেয়েছেনও। মানুষজন তাদের চেনেন। আগামী দিনে তাঁরা বিজিএমইএতে সময় দেওয়ার প্রতিজ্ঞা করেছেন। এ ছাড়া প্যানেলে উচ্চশিক্ষিত নবীন ও দ্বিতীয় প্রজন্মের ব্যবসায়ী আছেন কয়েকজন। তাঁরা ইতিমধ্যে ব্যবসায় ভালো করছেন।

বিজ্ঞাপন

জয়ের ব্যাপারে আপনারা কতটা আশাবাদী?

একটি ক্রিকেট টিমে যেমন ভালো ব্যাটসম্যান, পেসার, স্পিনার, অলরাউন্ডার ও উইকেটকিপার লাগে, তেমনি তৈরি পোশাকশিল্পের ব্যবসাকে এগিয়ে নিতে অনেকগুলো জায়গায় যোগ্য ও দক্ষ নেতা দরকার হয়। সেসব বিবেচনায় নিয়ে আমরা প্যানেল করার চেষ্টা করেছি। তা ছাড়া সম্মিলিত পরিষদের আগেও অনেক অর্জন আছে। আশা করছি, ভোটাররা বিচার-বিবেচনা করে আমাদের পক্ষে রায় দেবেন।

ভোটাররা কি ভয়ডরহীনভাবে ভোট দিতে পারবেন?

অবশ্যই। বিজিএমইএর নির্বাচনে কখনই ভয়ডর নিয়ে ভোট দিতে হয়নি। এবারের নির্বাচনেও সেটি অক্ষুণ্ন থাকবে।

গত কয়েক মেয়াদে আমরা দেখেছি, বিজিএমইএর পরিচালক হওয়ার কয়েক দিন পরই তাঁরা সক্রিয় থাকেন না। সভাপতি আর সহসভাপতিরাই সংগঠনটির কার্যক্রম চালিয়ে নিয়ে যান। নির্বাচনে জয়ী হলে এই জায়গায় কোনো পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা আছে?

নির্বাচন না হওয়ার কারণে পরিচালকদের মধ্যে দায়িত্ববোধ ছিল না। তবে আগামী মেয়াদে সেটি হবে না। আমাদের প্যানেলের প্রার্থীদের মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার আগে ও পরে বলা হয়েছে, নির্বাচিত হলে সবাইকে নিরলসভাবে কাজ করতে হবে। কেউ যদি সময় না দেন তাহলে বোর্ড থেকে তাঁকে বাদ দেওয়া হবে। প্রার্থীদের একই কথা আমিও বলেছি। পোশাক খাতে সব সময়ই চ্যালেঞ্জ থাকে। করোনার কারণে সেটি আরও বেড়েছে। নির্বাচনে বিজয়ী হলে পরিচালনা পর্ষদের পাশাপাশি যোগ্য ব্যবসায়ীদের দিয়ে স্ট্যান্ডিং কমিটি করে কাজ করব।

নির্বাচনে ইশতেহারে আপনারা ৮১টি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বিজয়ী হলে সেগুলো বাস্তবায়নে আপনারা দুই বছর সময় পাবেন। এই অল্প সময়ে কাজগুলো শেষ করা কি সম্ভব?

ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে পরিচালনা পর্ষদের প্রত্যেক সদস্য ও যে জায়গায় যাঁরা অভিজ্ঞ তাঁদের কাজে লাগানো হবে। তা ছাড়া বর্তমান পর্ষদের কাজগুলোকেও আমরা এগিয়ে নেব। ইশতেহারে দেওয়া সব কাজ শেষ করা সম্ভব না হলেও আমরা অবশ্যই শুরু করব।

সুযোগ পেলে বিজিএমইএর দায়িত্ব নিয়ে কোন কাজকে বিশেষ গুরুত্ব দেবেন?

সম্মিলিত পরিষদের গত পর্ষদ ২০১৯ সালে যখন দায়িত্ব হস্তান্তর করে তখন তৈরি পোশাকের রপ্তানি ছিল ৩ হাজার ৪১৩ কোটি ডলার। গত অর্থবছর সেটি কমে ২ হাজার ৭৯৪ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। ফলে হারানো রপ্তানি আয় ফেরানোই হবে আমাদের প্রথম কাজ। তা ছাড়া পোশাক খাতের ভাবমূর্তি ইতিবাচক করতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে চাই। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে সুতা ও কাপড়ের বাজার অস্থির। সুতা ও কাপড়ের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে কারখানা মালিকেরা ক্রয়াদেশ নিয়েও কাজ করতে পারছেন না। এই জায়গাতেও আমরা কাজ করব। দুনিয়াজুড়ে কৃত্রিম তন্তুর পোশাকের চাহিদা বাড়ছে। এসব পোশাকের রপ্তানি আয় বাড়াতে নীতিসহায়তা আদায়েও বিশেষ জোর দেব। গতানুগতিক নগদ সহায়তায় রপ্তানি বৃদ্ধি পায় না। কিন্তু কৃত্রিম তন্তুর পোশাক রপ্তানিতে ১০ শতাংশ সহায়তা দেওয়া হলে দেশ ব্যাপকভাবে লাভবান হবে।

মহামারি করোনার মধ্যে তৈরি পোশাকের ব্যবসা কেমন যাচ্ছে?

ব্যবসা খুব চ্যালেঞ্জের মধ্যে আছে। সেই চ্যালেঞ্জ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে তুলা ও সুতার দাম। তা ছাড়া জাহাজ ভাড়া বৃদ্ধির কারণেও চাপ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে করোনার সংক্রমণ আবার বাড়ছে। এ কারণে বিদেশে ব্র্যান্ডের বিক্রয়কেন্দ্রে বিক্রি বাড়েনি। অনলাইনে কিছুটা বিক্রি হওয়ায় আমরা মোটামুটি রপ্তানি করতে পারছি। সব মিলিয়ে তৈরি পোশাকের ব্যবসা ভালো অবস্থানে নেই। ব্যবসায় টিকিয়ে রাখতে চলতি বছর সরকার, ব্যাংক ও বিদেশি ক্রেতাদের সহায়তা লাগবে। এ সহায়তা পেলে আগামী বছর থেকে আমরা ঘুরে দাঁড়াতে পারব বলে আশা করছি।

আবার ভোটের কথায় ফেরা যাক। নির্বাচনের শুরুর দিকে দুই প্যানেলের নেতারাই একে অন্যের বিরুদ্ধে কাদা–ছুড়োছুড়ি করেছেন। শেষ পর্যন্ত ভোট কি উৎসবমুখর হবে?

নিঃসন্দেহে নির্বাচন উৎসবমুখর পরিবেশে হবে। যারা জয়ী হবে তারাই বিজিএমইএর দায়িত্ব নেবে।

ধন্যবাদ।

আপনাকেও ধন্যবাদ।

বিজ্ঞাপন
প্র বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন