বিজ্ঞাপন

প্রণোদনা ঋণের আবেদনের জন্য যে শর্তব্যাংক জুড়ে দেওয়া হয়েছে, তাতে মনে হয়েছে এ প্রণোদনা কেবল মাঝারি ও বড় শিল্পমালিকদের জন্য। তাই আমাদের মতো ছোট ও নতুন উদ্যোক্তাদের পক্ষে এ প্রণোদনা ঋণ পাওয়া কঠিন। আমাদের মতো নতুন গ্রাহককে ব্যাংক ঋণ দিতে চাচ্ছিল না। ব্যাংকের সঙ্গে আমার কখনো ঋণের সম্পর্ক ছিল না। ফলে ঋণ পাওয়ার প্রথম শর্তই আমরা পূরণ করতে পারিনি।

এ দেশের অর্থনীতিতে ছোট ব্যবসায়ী বা উদ্যোক্তাদের ভূমিকা কম নয়। তাই বাজেটে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের নিয়ে আলাদাভাবে ভাবতে হবে। আমি মনে করি, ব্যবসার যথাযথ শ্রেণিবিভাগ করা উচিত। পাশাপাশি সরকারের কাছে ব্যবসায়ীদের একটি হালনাগাদ তথ্যভান্ডারও থাকা দরকার। করোনার কারণে কোন ধরনের ব্যবসা ও ব্যবসায়ী বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, এ নিয়ে একটি জরিপ করতে পারে সরকার। এর মাধ্যমে ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে প্রণোদনার ব্যবস্থা করতে হবে।

উদ্যোক্তা হিসেবে আমার প্রত্যাশা, মানুষের যার যা প্রয়োজন, তার বন্দোবস্ত বাজেটে থাকতে হবে। বাজেটের কারণে যাতে কেউ নতুন করে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সেটি নিশ্চিত করতে হবে। বড় ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি ছোট ও নতুন উদ্যোক্তাদের প্রণোদনাসুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।

করোনায় ছোট ছোট ব্যবসা ও উদ্যোগগুলো টিকিয়ে রাখতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। কোনো কোনো দেশে থোক বরাদ্দের ব্যবস্থা করা হয়েছে, কোনো কোনো দেশে করসুবিধা দেওয়া হয়েছে। আবার কোনো কোনো দেশ পরিচালন ব্যয়ের ক্ষেত্রে নানা ধরনের ছাড় দিয়েছে। আমাদের বাজেটেও সরকার এ ধরনের কোনো একটা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। এ বছরও যদি ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের কাছে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া যায়, তাহলে অনেকে টিকে যাবেন।

করোনার ধাক্কা সামাল দিতে না পেরে যেসব ব্যবসায়ী বা উদ্যোক্তা এরই মধ্যে ছিটকে পড়েছেন, তাদের ব্যবসায় ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগ থাকতে হবে আগামী বাজেটে। যদি সেটি না হয়, তাহলে বাজেট সবার হবে না। করোনার কারণে এখন অনেকে সব হারিয়ে অনলাইনে ব্যবসা শুরু করেছেন। এতে কিছু আয় হয়তো হচ্ছে। কিন্তু সেই আয় দিয়ে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীরাই এখন ঋণ পেতে হিমশিম খাচ্ছেন। সেখানে অনলাইন ব্যবসায়ীদের পক্ষে সরকারের প্রণোদনার সহায়তা পাওয়া বলতে গেলে প্রায় অসম্ভব। তাই অনলাইনে এখন যাঁরা ব্যবসায় টিকে থাকার চেষ্টা করছেন, তাঁদের কথাও বাজেটে ভাবতে হবে।

সরকার প্রণোদনার পুরো বিষয়টি ব্যাংকের হাতে ছেড়ে দিয়েছে। এ কারণে ব্যাংক তার পরিচিত গণ্ডির বাইরে নতুন করে কাউকে ঋণ দেয়নি বা দেওয়ার আগ্রহ দেখায়নি। এ কারণে সবচেয়ে প্রয়োজনের সময়ে সরকারি প্রণোদনার ঋণের অর্থ পাননি অনেক উদ্যোক্তা। যদি সময়মতো এ সহায়তা পাওয়া যেত, তাহলে হয়তো অনেক উদ্যোক্তা ব্যবসায় টিকে থাকতেন।

প্র বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন