বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

একইভাবে সৈকতের আশপাশে ২০০ থেকে ৪০০ কোটি টাকা বিনিয়োগে গড়ে উঠেছে তারকা মানের হোটেল সিগাল, সায়মন বিচ রিসোর্ট, ওশান প্যারাডাইস, বেস্ট ওয়েস্টার্ন, লংবিচ হোটেল, রয়েল টিউলিপ, হোটেল কক্স টু ডেসহ আরও বেশ কয়েকটি হোটেল। নানা সংকটের কারণে এসব প্রতিষ্ঠানও লাভের মুখ দেখছে না বলে জানা গেছে।

সিগাল হোটেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইমরুল ছিদ্দিকী হাসান প্রথম আলোকে বলেন, দ্বিতীয় দফায় এ বছরের ১ এপ্রিল থেকে সৈকতে পর্যটকের সমাগম নিষিদ্ধ ছিল। এ কারণে তখন হোটেলও ফাঁকা পড়ে ছিল। ওই সময় থেকে হোটেল কর্মচারীদের বেতন, বিদ্যুৎ খরচসহ নানা খাতে দৈনিক লোকসান গুনতে হয়েছে তিন লাখ টাকা করে। এখন হোটেল খোলা হলেও অতিথি তেমন নেই। এ কারণে লাভের মুখ দেখা যাচ্ছে না।

বর্তমানে উখিয়া-টেকনাফে সাড়ে ১১ লাখ রোহিঙ্গার জন্য ৩৪টি আশ্রয়শিবির থাকায় দেড় শতাধিক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা, জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার অন্তত ৩০ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর অবস্থান কক্সবাজারে। দেশি-বিদেশি কর্মকর্তাদের একটি অংশ শহরের বড় হোটেলগুলোয় অবস্থান করে। কর্মকর্তাদের প্রায় সময় ঢাকায় যাতায়াত আকাশপথে। কক্সবাজারে ভ্রমণে আসা পর্যটকদের উল্লেখযোগ্য অংশ আকাশপথে আসা-যাওয়া করে। এর ফলে কক্সবাজার-ঢাকা রুটে বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, ইউএস-বাংলা ও নভোএয়ার দৈনিক ১৮ থেকে ২০টি ফ্লাইট চালায়।

জানতে চাইলে কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, ২ থেকে ১২ বছরে কক্সবাজার শহরের সৈকত এলাকায় পাঁচ শতাধিক হোটেল-মোটেল, গেস্টহাউস-কটেজ, সাত শতাধিক রেস্তোরাঁ, তিন হাজারের বেশি শুঁটকি ও শামুক-ঝিনুক দিয়ে তৈরি রকমারি জিনিসপত্র বিক্রির দোকানপাট গড়ে উঠেছে। এ জন্য অন্তত ১২ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হয়েছে। এই বিনিয়োগ হয়েছে লাভের আশায়। কিন্তু নানা সংকটের কারণে লাভের মুখ দেখছেন না উদ্যোক্তারা।

আবু মোর্শেদ চৌধুরী জানান, শুধু করোনাকালে পর্যটন খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকার ব্যবসায়িক ক্ষতি হয়েছে। এই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে উদ্যোক্তাদের এক থেকে দেড় বছর সময় লাগতে পারে, তাও যদি পরিবেশ অনুকূলে থাকে।

শুধু বড় বড় হোটেল-মোটেল নয়, ছোট ব্যবসাও জমছে না বলে এই খাতের সঙ্গে যুক্ত তিন লাখ মানুষের চেহারা এখন মলিন। করোনার কারণে হোটেল-মোটেল সব বন্ধ থাকায় অমানবিক জীবন কাটিয়েছেন অন্তত ৩০ হাজার কর্মজীবী।

কলাতলী সৈকতের কাছে প্রায় তিন কোটি টাকা খরচ করে একটি সাততলা হোটেল তৈরি করেন চট্টগ্রামের একজন ব্যবসায়ী। গত পাঁচ বছরে তিনি ২০ লাখ টাকাও আয় করতে পারেননি। করোনায় প্রায় দেড় বছর ব্যবসা বন্ধ থাকলেও ব্যাংকঋণ মওকুফ হয়নি। কক্সবাজারভিত্তিক পর্যটন খাতে বিনিয়োগ করে তিনি বিপাকে পড়েছেন।

প্র বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন