বিজ্ঞাপন

অর্থনীতির চাকা সচল রাখা বা বিপর্যয় থেকে রক্ষার উপাদান এ বাজেটে প্রত্যাশিত। অতিমারির ধাক্কা সবার ক্ষেত্রে সমান ছিল না বা থাকবে না। এবারের বাজেট প্রণয়নে সেই বিষয় বিবেচনায় আনতে হবে। যেমন করোনায় ওষুধ কোম্পানিগুলো তেমন সমস্যার সম্মুখীন হওয়ার কথা নয়। অন্যদিকে পর্যটন, হোটেল–রেস্তোরাঁ, কিছু ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা, ছোট ছোট আসবাবের ব্যবসা অনেক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই ঢালাওভাবে ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বৃহৎ শিল্প হিসেবে ভাগ না করে যেসব খাত বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের টার্গেট করে সে অনুযায়ী আর্থিক সহায়তা বা ঋণসহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।

করোনার কারণে দেশে নতুন করে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বেড়ে গেছে, তাই সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি অনেক জোরদার করতে হবে। সবাইকে হয়তো সরাসরি সাহায্যের আওতায় আনা যাবে না। কিন্তু সহজ শর্তে ঋণের আওতায় আনা যেতে পারে।

কয়েক বছর ধরে মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে চমক থাকলেও কর্মসংস্থান তৈরির ক্ষেত্রে ছিল ব্যাপক হতাশা। অতিমারির কারণে তা আরও চরম রূপ ধারণ করেছে। তাই বেসরকারি খাতের জন্য ব্যবসাবান্ধব কর ও বিনিয়োগ নীতি তৈরি করতে হবে। বাজেটে শুধু বরাদ্দ থাকলেই হবে না, যে সমস্যাগুলোর কথা বলা হয়েছে, তার সমাধানের সুস্পষ্ট ইঙ্গিত থাকা বাঞ্ছনীয়।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ এখনো আমাদের দেশের ভারতের মতো এতটা খারাপ হয়নি, তবে শঙ্কা রয়েছে। আমাদের ‘প্রজেকশন মডেল’ও সেটিই ইঙ্গিত করছে। যেহেতু আমরা সহসা বিপুল জনগোষ্ঠীকে টিকার আওতায় আনতে পারব না, তাই করোনা পরিস্থিতি খুব খারাপ হতে পারে, সেটা মাথায় রেখেই পরিকল্পনা করতে হবে। দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার পাশাপাশি করোনার কারণে নতুনভাবে উদ্ভূত সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ করা দরকার। তা ছাড়া টিকা ক্রয়ের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখতে হবে। যাতে বেশি দাম দিয়েও টিকা কেনা যায়। পাশাপাশি টিকার ব্যাপারে যাতে মানুষকে উৎসাহিত করা যায়, তার জন্যও পর্যাপ্ত বরাদ্দ থাকা বাঞ্ছনীয়।

করোনা আমাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থার দৈন্যদশা ফুটিয়ে তুলেছে। তাই এবারের বাজেটের মাধ্যমে শুধু কোভিড মোকাবিলা নয়, স্বাস্থ্যব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার সমাধান জরুরি। স্বাস্থ্য ব্যয়ের কারণে বাংলাদেশে লাখো মানুষ প্রতিবছর নতুন করে দরিদ্র হয়, তার মানে হলো সরকার স্বাস্থ্য খাতে পর্যাপ্ত ব্যয় করছে না। একটি পৃথক স্বাস্থ্য কমিশন অনেক সমস্যার সমাধান করতে পারে।

বাজেটের আকার বৃদ্ধির পাশাপাশি অর্থের সংস্থান নিয়েও সরকারকে ভাবতে হয়। যেহেতু অর্থনীতি চাপে আছে, তাই কর আদায় আশানুরূপ হবে না। সে জন্য বিকল্প উৎসের সন্ধান করতে হবে। তামাকের ওপর কর বাড়ানো একটি অত্যন্ত সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত হতে পারে। এটি কর আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি তামাকের ব্যবহার কমাতে বড় ধরনের ভূমিকা রাখতে পারে।

প্র বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন