বিজ্ঞাপন

বেজোসের নতুন একটি আত্মজীবনীতে এই তথ্যের উল্লেখ করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এটির দাম পড়বে ৫০ কোটি মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশের প্রায় ৪ হাজার ২৫০ কোটি টাকার সমান (প্রতি ডলার ৮৫ টাকা ধরে)। প্রায় ৪০০ কর্মী ও ডিজাইনার বা নকশাকার মিলে ইয়টটি তৈরি করছেন। আর এটি চালাতে ৬০ জনের মতো নাবিকের দরকার হবে।

একই সঙ্গে বেজোস মোটর বা যন্ত্রচালিত একটি ছোট ইয়টও কিনছেন, যেটিতে হেলিকপ্টার অবতরণ করতে পারবে। এ ছাড়া প্রাইভেট কার, দামি স্পিডবোট এমনকি একটি সাবমেরিনও থাকতে পারে। তবে মূল ইয়টের ওপরের পাটাতনে তিনটি মাস্তুল থাকার কারণে হেলিপ্যাড রাখা যাবে না। এটি সরবরাহ করা হবে আগামী মাসে। ওসানকো এর আগে ব্ল্যাট পার্ল নামে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পাল তোলা ইয়ট তৈরি করেছিল।

কারা কিনছেন সুপার ইয়ট

সচরাচর বড় বড় কোম্পানিগুলোই ইয়ট কিনে থাকে। কেনার পর কোম্পানিগুলোর মালিকেরা এসব ইয়ট ভাড়া নিয়ে প্রমোদ ভ্রমণে সমুদ্রে ভাসেন। কোনো কোনো অতি ধনী অবশ্য সরাসরি ইয়ট কিনে থাকেন। তবে কোনটি কার ইয়ট বা কে কোনটির মালিক তা প্রকাশ করা হয় না। যেমন, মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস একজন স্বচ্ছ ভাবমূর্তির মানুষ হলেও নিজের ইয়ট থাকা না থাকা নিয়ে মুখ খোলেননি। ফেসবুকের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক জাকারবার্গেরও ইয়ট রয়েছে বলে গুজব রয়েছে। সে জন্য ইয়ট শিল্পকে একটি ‘অস্বচ্ছ শিল্প’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ভেসেলস ভ্যালুর সুপার ইয়ট গবেষণা শাখার প্রধান স্যাম তাকার। তিনি বলেন, অতি ধনীরা হয়তো গোপনীয়তা রক্ষা ও নিরাপত্তার প্রশ্নে ইয়ট কেনার তথ্য গোপন করে থাকতে পারেন।

সুপার ইয়ট কী

বৃহৎ আকারের ও বিলাসবহুল প্রমোদতরিকে বলা হয় সুপার ইয়ট। সাধারণত এই ধরনের প্রমোদতরি ৭৪ ফুটের বেশি লম্বা হয়। কেউ কেউ অবশ্য ২০০ ফুটের বেশি লম্বা, আবার কেউবা ৩০০ ফুটের বেশি দৈর্ঘ্যের জাহাজকে ‘গিগা ইয়ট’ বা সুপার ইয়ট মনে করেন। এসব ব্যাখ্যাকে প্রমোদতরি বিপণনের কৌশল হিসেবে দেখেন ফোর্বস ম্যাগাজিনের প্রতিবেদক বিল স্প্রিঙ্গার।

একটি সুপার ইয়ট তৈরিতে সাধারণত বছরখানেক সময় লাগে। তবে আকারে একটু বড় হলে আরও বেশি লাগে। এই তথ্যও অবশ্য গোপন রাখা হয়। এ নিয়ে ক্রেতার সঙ্গে নির্মাতার চুক্তি হয়ে থাকে, যাতে তথ্যটি প্রকাশ না পায়।

করোনাকালে ইয়ট শিল্পের বিকাশ

বিশ্বে বিলিয়নিয়ার বা অতি ধনীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার সুবাদেই মূলত গত ২০ বছরে সুপার ইয়ট বা বৃহৎ ও বিলাসবহুল প্রমোদতরির ব্যবসা দ্রুত জমে ওঠে ও বিকশিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল মেরিন ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ইউএস-এনএমএমএ) তথ্য অনুযায়ী গত ১৩ বছরের মধ্যে করোনার প্রথম বছরেই অর্থাৎ ২০২০ সালে সর্বাধিক ইয়ট বিক্রি হয়েছে। লকডাউনের পরিস্থিতিতে করোনার ঝুঁকি এড়িয়ে নিরাপদ থাকতে অতি ধনীরা সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে স্থলভাগ ছেড়ে ইয়টে গিয়ে ঠাঁই নেন। ভেসেলস ভ্যালুর স্যাম তাকার বলেন, ইয়টের বাজার দ্রুত বিকশিত হচ্ছে। তিনি জানান, বর্তমানে বিশ্বব্যাপী সমুদ্রগুলোতে ৬৫ ফুটের বেশি লম্বা এমন ৯ হাজার ৩৫৭টি ইয়ট ভাসছে।

সুপার ইয়টের ৮৫ শতাংশ হলো মোটর বা যন্ত্রচালিত। বাকি ১৫ শতাংশ হচ্ছে সেইলিং ইয়ট বা পাল তোলা প্রমোদতরি। করোনা শুরু হওয়ার প্রথম কয়েক সপ্তাহে ইয়ট বিক্রি কমলেও পরে তা দ্রুত বৃদ্ধি পায়, যা এখনো অব্যাহত রয়েছে। এমন তথ্য দেন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডাভিত্তিক ইয়ট বিক্রির দালাল বব ডেনিসন, যিনি ২০০১ সাল থেকে এই কাজ করে আসছেন। তিনি বলেন, ‘ইয়টের চাহিদা দুই-তিন গুণ বেড়েছে, যা আমি আগে কখনো দেখিনি।’

গত বছর তাঁর কোম্পানির ইয়ট বিক্রি আগের বছরের চেয়ে ৩৫ শতাংশ বেড়েছে এবং চলতি ২০২১ সালে গত বছরের তুলনায় ৩০ শতাংশ বাড়বে বলে আশা তাঁদের। নতুন ইয়টের পাশাপাশি পুরোনো ইয়টও বিক্রি হয়ে থাকে।
স্যাম তাকার বলেন, করোনাভাইরাসের প্রকোপ ও লকডাউন জারি থাকলে আগামী বছরগুলোতেও ইয়টের চাহিদা বাড়বে।

ইয়ট কেন এত দামি

ফোর্বস-এর লেখক বিল স্প্রিঙ্গার বলেন, ‘সত্যিকার অর্থেই কিছু বিশেষত্বের কারণে ইয়টের দাম বেশি হয়ে থাকে। ইয়ট দেখতে সবচেয়ে সুন্দর হয়ে থাকে। এগুলোর ভেতরকার শৈল্পিক কাজগুলো অত্যন্ত নিখুঁত হয়। “আমি সত্যি সত্যি খুব ধনী, তাই আমি এটা কিনেছি”—এ ধরনের মনোভাবও কাজ করে ইয়টের ক্রেতাদের মাথায়।’ সুপার ইয়টগুলো তৈরি করা হয় ক্রেতাদের পছন্দ ও ফরমাশ অনুযায়ী। ইয়ট তৈরিতে নান্দনিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি আভিজাত্য ফুটিয়ে তোলার ওপরও জোর দেওয়া হয়। সে জন্য অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জায় সোনাসহ নানা ধরনের মূল্যবান ধাতু ব্যবহার করা হয়। অতি ধনীরা ইয়টে চড়ে গোপনে মোনাকোর মতো দৃষ্টিনন্দন বন্দরসহ বিদেশি আলো ঝলমল বন্দর–শহর কিংবা অ্যান্টার্কটিকা ও পাপুয়া নিউগিনি—এ ধরনের জায়গাগুলোয় যেতে পছন্দ করেন।

ইয়টের পেছনে প্রচুর খরচ হয়। স্যাম তাকার জানান, একটি ইয়ট পরিচালনায় বছরে যে পরিমাণ খরচ পড়ে, তা এর ক্রয়মূল্যের ১০ শতাংশের মতো।

সূত্র: বিবিসি

প্র বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন