বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

জুতার দোকানে কাজ করতে করতে জুতা তৈরি সম্পর্কে খুব ভালো ধারণা ছিল জাভেদ ইকবালের। এ ছাড়া পাকিস্তান থেকে জুতার নকশা তৈরি সম্পর্কেও প্রশিক্ষণ নিয়েছেন তিনি। নিজে ব্যবসা শুরুর আগে ১৬ বছর বিভিন্ন জুতার দোকানে কাজ করেছেন। রাখীর শুরুতে প্রথম প্রথম দেশের বাইরে থেকে কাঁচামাল নিয়ে আসতেন। পরে দেশীয় কাঁচামাল দিয়েই জুতা তৈরি শুরু করেন। গফুর ম্যানশনে যে দোকানে প্রথম ব্যবসা শুরু করেন, সেটি খুব ছোট ছিল। বলা যায়, বসার মতো জায়গাও ছিল না। তবে ধীরে ধীরে সেই দোকান থেকে পাশের বড় দোকান কিনে নেন দুই ভাই। এভাবে ছোট রাখী বড় হতে থাকে। এখন পর্যন্ত দেশে রাখীর আর কোনো শাখা নেই।

প্রতি সপ্তাহেই নতুন ডিজাইনের জুতা দোকানে তোলেন জাভেদ ইকবাল। জুতা তৈরির ক্ষেত্রে ক্রেতার আরামের বিষয়টিকে খুব জোর দেওয়া হয়। এখন পর্যন্ত লাখের বেশি জুতা ডিজাইন করেছেন জাভেদ ও তাঁর কারিগরেরা। রাজধানীর লালবাগের নওয়াবগঞ্জে নিজেদের কারখানাতেই দেশি চামড়া ও কাঁচামাল দিয়ে হাতে তৈরি হয় তাঁদের জুতা। কোনো মেশিনের ব্যবহার হয় না। জাভেদ ইকবাল জানালেন, দেশের অনেক নামীদামি মানুষ তাঁদের কাছ থেকে অর্ডার দিয়ে জুতা বানিয়ে নিয়েছেন। রাজনীতিবিদ, অভিনেত্রী, সাংবাদিক, গায়িকা—সবাই আছেন সে তালিকায়। অথচ নিজের দোকান ও জুতার প্রচারের জন্য কখনো এক টাকার বিজ্ঞাপনও দেননি। তবু মুখে মুখে ছড়িয়েছে রাখীর নাম। যাঁরা একবার এই দোকান থেকে জুতা কিনেছেন, তাঁরাই বারবার এসেছেন। তাঁরাই রাখীর প্রচারে বড় ভূমিকা রেখেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ইডেন মহিলা কলেজের অসংখ্য ছাত্রী আসেন এ দোকানে।

মাত্র সাড়ে আট হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে ব্যবসা শুরু করেছিলেন দুই ভাই। এখন তাঁদের এই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সম্পদমূল্য দুই কোটি টাকার কাছাকাছি। কর্মী রয়েছেন ৩৫ জনের মতো। শুরু থেকেই একই গতিতে চলছে বিক্রি। দীর্ঘ পথপরিক্রমায় ব্যবসা না কমে, ক্রমেই বেড়েছে। রাখীর আয় দিয়েই চলে জাভেদ ও সাজ্জুর যৌথ পরিবার। ছেলেমেয়েরা পড়াশোনা করছেন ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে।

default-image

গত বছর করোনার কারণে সরকারি নির্দেশে দোকানপাট বন্ধ রাখতে হয়। ব্যবসা ধরে রাখতে ওই সময় শুরু করেন অনলাইনে জুতা বিক্রি। নিজেরাই মোটরসাইকেলে করে গিয়ে গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন জুতা। ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে তাঁদের পেজ আছে। জাভেদ ইকবাল বলেন, ‘ব্যবসার ক্ষেত্রে কয়েকটি নীতি আমরা খুব মেনে চলি। প্রথমটি পণ্যের মান, দ্বিতীয়টি হলো দাম। পণ্যের ভালো মান থাকলে আর দাম ঠিক রাখলে এমনিতেই ক্রেতা আসবেন। এখন দেখা যায়, কোনো কোম্পানির একটু নামডাক হলেই দাম বাড়িয়ে দেয়। এমন করলে দীর্ঘ সময় ব্যবসা টিকিয়ে রাখা যায় না। তৃতীয় যে বিষয়টি খুব গুরুত্বপূর্ণ তা হলো, ক্রেতার সঙ্গে ব্যবহার। যেকোনো ক্রেতাকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। ভালো ব্যবহারে বারবার ক্রেতা ফিরে আসেন।’

ঢাকা বাইরে সাভার, সিলেট, চট্টগ্রাম, টাঙ্গাইলসহ বিভিন্ন অঞ্চলে জুতা সরবরাহ করে রাখী শুজ। যেমন সাভারের মঞ্জু শুজ, টাঙ্গাইলের হাবিব বাজার, চট্টগ্রামের হাম্মাম শুজে জুতা সরবরাহ করে। ঢাকার মধ্যে ইয়েলো, স্টেপসহ বেশ কিছু নামকরা কোম্পানি তাদের জুতা সরবরাহ করার কথা বলেছিল। তবে জুতা একদম হাতে তৈরি হওয়ায় উৎপাদন কিছুটা ধীরে হয়, এ জন্য বেশি পরিমাণে পণ্য সরবরাহ করা সম্ভব হয় না রাখীর পক্ষে।

জাভেদ ইকবাল বলেন, ‘দেশে জুতার ব্যবসার প্রচুর সম্ভাবনা আছে। তবে নেতৃত্বের অভাব আছে। আমাদের নিজস্ব চামড়া আছে, নকশাও ভালো। শুধু নেতৃত্বের ব্যবধান কাটাতে পারলে এ খাত তৈরি পোশাকশিল্পের মতোই এগিয়ে যেত।’

প্র বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন