default-image

দেশের অন্যতম সঞ্চয়পত্রের নাম পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র। ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী যেকোনো শ্রেণি-পেশার মানুষ একক বা যুগ্ম নামে এ সঞ্চয়পত্র কিনতে পারেন। এ সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করা অর্থ পুনর্বিনিয়োগ করা যায়।

জাতীয় সঞ্চয় ব্যুরো, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ তফসিলি ব্যাংক এবং ডাকঘর থেকে এ সঞ্চয়পত্র কেনা যায়, আবার একই জায়গা থেকে নগদায়নও করা যায়। বিনিয়োগটা পাঁচ বছর পর্যন্ত রাখলে মুনাফা পাওয়া যায় ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ হারে। ২০১৫ সালের ২৩ মে থেকে এ হার কার্যকর।

তবে মেয়াদ পূর্তির আগে ভাঙিয়ে ফেললে ১ম বছর শেষে ৯ দশমিক ৩৫ শতাংশ, ২য় বছর শেষে ৯ দশমিক ৮০ শতাংশ, ৩য় বছর শেষে ১০ দশমিক ২৫ শতাংশ এবং ৪র্থ বছর শেষে ১০ দশমিক ৭৫ শতাংশ হারে মুনাফা পাওয়া যায়।

এ সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করলে এক মেয়াদের জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুনর্বিনিয়োগ করা যায়। অর্থাৎ, কেউ যদি পাঁচ বছরের জন্য ১০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেন, তাহলে পাঁচ বছর পর ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ হারে মুনাফাসহ যে অর্থ আসবে, তা তুলে না নিয়ে গেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুনর্বিনিয়োগ বলে গণ্য হবে।

স্বয়ংক্রিয় বিনিয়োগের পদ্ধতি চালু হয় ২০০৫ সালের ১০ আগস্ট থেকে। মাঝখানে ২০১০ সালের ১ জুলাই থেকে ২০১১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত পুনর্বিনিয়োগ পদ্ধতি বন্ধ রাখে সরকার। পরে তা ২০১১ সালের ১ জুলাই থেকে আবার চালু করা হয়।

বিজ্ঞাপন

বর্তমানে একজন গ্রাহক একক নামে ৫০ লাখ টাকার পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র কিনতে পারেন। একক নামে কেউ না কিনতে চাইলে যৌথ নামে কিনতে পারেন ১ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র। নমিনি নিয়োগ, পরিবর্তন এবং বাতিল করারও সুযোগ রয়েছে।

অন্য তিন সঞ্চয়পত্র হচ্ছে তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র, পরিবার সঞ্চয়পত্র এবং পেনশনার সঞ্চয়পত্র। পেনশনার সঞ্চয়পত্রে শুধু পেনশনধারীদের বিনিয়োগের সুযোগ থাকে। ফলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র এবং পরিবার সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করেও পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করতে পারেন।

তবে সব মিলিয়ে বিনিয়োগ একক নামে ৫০ লাখ বা যৌথ নামে ১ কোটি টাকার বেশি হতে পারবে না। তবে ব্যক্তির পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও এ সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করতে পারে।

আর কারা বিনিয়োগ করতে পারেন—এমন প্রশ্নের জবাবে জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) জানান, আয়কর বিধিমালা ১৯৮৪ (অংশ ২)-এর বিধি ৪৯-এর উপবিধি (২)-এ সংজ্ঞায়িত স্বীকৃত ভবিষ্য তহবিল এবং ভবিষ্য তহবিল আইন, ১৯২৫ অনুযায়ী পরিচালিত ভবিষ্য তহবিলের টাকা এ সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ হতে পারে।
এ ছাড়া ১৯৮৪ সালের আয়কর অধ্যাদেশের ষষ্ঠ তফসিলের অংশ এ-এর অনুচ্ছেদ ৩৪ অনুযায়ী মৎস্য খামার, হাঁস-মুরগির খামার, বীজ উৎপাদন, দুগ্ধ খামার, গবাদিপশুর খামার ইত্যাদি থেকে অর্জিত আয়ও এ সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করার সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট উপ-কর কমিশনার আয়ের টাকা প্রত্যয়ন করে দেবেন।

১৯৭৭ সাল থেকে দেশে এই সঞ্চয়পত্র চালু। ১০, ৫০, ১০০, ৫০০, ১,০০০, ৫,০০০, ১০,০০০, ২৫,০০০, ৫০,০০০, ১,০০,০০০, ৫,০০,০০০ এবং ১০,০০,০০০ টাকা মূল্যমানের সঞ্চয়পত্র এটি। কম টাকার সংগতিসম্পন্ন ব্যক্তিরা কম মূল্যমানের সঞ্চয়পত্র কিনেও যাতে বিনিয়োগ করতে পারেন, সে কারণে এই পদ্ধতি রাখা হয়েছে।

জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের ২০১৯-২০ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রের হার মোট বিক্রির ১৩ শতাংশ। ব্যাংক, সঞ্চয় ব্যুরো ও ডাকঘরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি এ সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয় ব্যাংকের মাধ্যমে। সঞ্চয় ব্যুরোর তুলনায় ব্যাংকের মাধ্যমে বিক্রি হয় অন্তত ছয় গুণ বেশি।

এ সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করলে যে মুনাফা পাওয়া যায়, ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মুনাফার ওপর উৎসে কর ৫ শতাংশ। তবে বিনিয়োগ ৫ লাখ টাকার বেশি হলেই মুনাফার ওপর উৎসে কর ১০ শতাংশ।

বিজ্ঞাপন
প্র বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন