রোগ

অজান্তেই প্রকৃতির ডাকে সাড়া

বিজ্ঞাপন
default-image

একটা নির্দিষ্ট বয়সের পর ‘প্রকৃতির ডাকে সাড়া’ দেওয়ার ব্যাপারটি অনিয়ন্ত্রণে চলে গেলে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। নিজের অজান্তে বা ইচ্ছার বিরুদ্ধে প্রস্রাব-পায়খানা হয়ে যাওয়ার এমন সমস্যায় ব্যক্তি যেমন মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন, তেমনি নানা সামাজিক ও শারীরিক সমস্যার সম্মুখীনও হতে পারেন। বয়স্ক পুরুষদের এটি একটি পরিচিত সমস্যা। এমন সমস্যায় পড়লে সংকোচ ভেঙে চিকিৎসকের সাহায্য নিতে হবে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

কেন হয়?

প্রস্রাবের নিয়ন্ত্রণের জন্য মূত্রথলি ও মূত্রপথের (স্ফিংকটার) কার্যক্ষমতা যেমন স্বাভাবিক থাকা প্রয়োজন, তেমনি মস্তিষ্ক ও স্নায়ুর কার্যক্ষমতাও ঠিক থাকতে হবে। এগুলোর যেকোনো একটির সমস্যা হলেই প্রস্রাবের নিয়ন্ত্রণ হারাতে হতে পারে। প্রায় ৫ শতাংশ পুরুষ এমন অস্বস্তির মুখোমুখি হয়ে থাকেন।

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ ধরনের সমস্যা বেশি হয়। কোনো কারণে মূত্রথলি ছোট হয়ে এলে (যেমন ফাইব্রোসিস কিংবা অস্ত্রোপচার বা রেডিওথেরাপির কারণে) প্রস্রাব ধরে রাখতে সমস্যা হতে পারে। আবার সম্পূর্ণভাবে মূত্রথলি খালি করতে না পারার কারণেও প্রস্রাব জমে থাকে আর যখন-তখন প্রস্রাব বের হয়ে যেতে পারে। পুরুষের প্রোস্টেট গ্রন্থি বড় হয়ে যাওয়া কিংবা মূত্রনালিতে স্ট্রিকচার, অর্থাৎ মূত্রনালি সংকীর্ণ হয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা হিসেবে এমনটা হতে পারে। তলপেটের দিককার হাড় ভেঙে যাওয়া (পেলভিক ফ্র্যাকচার), স্ট্রোক বা মেরুদণ্ডে আঘাত, মূত্রনালিতে আঘাত, মূত্রতন্ত্রের অস্ত্রোপচার, মূত্রনালিতে জীবাণুর সংক্রমণ—এমন নানান কারণেই প্রস্রাব ধরে রাখতে অসুবিধা হতে পারে।

এ ছাড়া ডিমেনশিয়া বা মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তির স্থান-কাল বিবেচনা বোধ স্বাভাবিক না-ও থাকতে পারে, ফলে তিনি যেকোনো স্থানে প্রস্রাব করে ফেলতে পারেন। রাতে বাথরুম যাওয়ার আগেই বিছানা ভিজিয়ে ফেলতে পারেন।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

করণীয়

এ ধরনের সমস্যায় বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়ার বিকল্প নেই। কারণ অনুযায়ী করাতে হবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা, সেই মতোই ঠিক করা যাবে চিকিৎসাব্যবস্থা। অনেক ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে, তাই ইউরোলজিস্ট বা মূত্রতন্ত্রের শল্যচিকিৎসাবিদের কাছে যাওয়া উচিত। চিকিৎসা নিলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এমন সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

কিছু কিছু ক্ষেত্রে অন্য কোনো উপায়ে সমস্যার সমাধান না হলে ক্যাথেটার করিয়ে নিতে হয় বা ডায়াপার পরে থাকার মতো সমাধান বেছে নিতে হয়। ক্যাথেটারেরও বিভিন্ন ধরন আছে, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বেছে নিতে হবে। তবে এগুলো এ ধরনের সমস্যার মূল সমাধান নয়। তাই বাড়িতে নিজে থেকে এ ধরনের উপায়ে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা ঠিক নয়। ডায়াপারের ব্যবস্থাপনা সঠিক না হলে সেখান থেকে জীবাণুর সংক্রমণ হতে পারে। প্রশিক্ষণবিহীন ব্যক্তি ক্যাথেটার করতে গেলে মূত্রনালিতে আঘাত লাগতে পারে, তাতে জটিলতা বাড়ে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আছে উপায় প্রতিরোধের

বারবার মূত্রনালির সংক্রমণ যেহেতু এমন সমস্যার একটি বড় কারণ, তাই সংক্রমণ প্রতিরোধের চেষ্টা অবশ্যই করতে হবে। প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে, তবে প্রোস্টেট গ্রন্থি বড় হয়ে যাওয়ার কারণে যাঁদের রাতে ঘুম ভেঙে প্রস্রাব করতে হয়, তাঁদের ক্ষেত্রে সন্ধ্যার পর বেশি পানি পান না করাই ভালো। প্রস্রাব আটকে রাখা উচিত নয়। হাইজিন বা পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা আবশ্যক।

৪০ বা ৫০ বছরের পর থেকেই প্রোস্টেট গ্রন্থিতেও সমস্যা একটু একটু দেখা দিতে পারে। শুরুতে চিকিৎসা নিলে অস্ত্রোপচারের দরকার পড়ে না আর বিষয়টা বেশি জটিল হয় না। বাড়িতে বয়স্ক ব্যক্তিটির এই বিব্রতকর সমস্যা সহানুভূতির সঙ্গে দেখতে হবে ও নিয়মিত চিকিৎসার আওতায় আনতে হবে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

জটিলতাও আছে

অনিয়ন্ত্রিতভাবে প্রস্রাব বের হতে থাকলে মূত্রনালির আশপাশের চামড়ায় একসময় ক্ষত হয়ে যেতে পারে। দাম্পত্যজীবনের স্বাভাবিকতা নষ্ট হতে পারে। অফিসে কর্মক্ষেত্রে বা সামাজিক অনুষ্ঠানে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। আত্মসম্মান ও আত্মবিশ্বাসে আঘাত লাগতে পারে, জীবনকে দুর্বিষহ মনে হতে পারে। এ ছাড়া জীবাণুর সংক্রমণের ক্ষেত্রে কিডনি–বৈকল্য পর্যন্ত হতে পারে। তাই সমস্যার শুরু থেকেই চিকিৎসা নেওয়াটা জরুরি।

অনুলিখন: রাফিয়া আলম

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন