আপনার প্রশ্ন, চিকিৎসকের পরামর্শ

বেশ কিছুদিন ধরে আমার পায়ে ঘা হয়েছে। আগে এক পায়ে ছিল। এখন দুই পায়েই ছড়িয়ে পড়েছে। পা খুব চুলকায়। চুলকালে চামড়া উঠে আসে। মনে হয় চামড়াগুলো মরে উঠে যাচ্ছে। লজ্জায় পা বাইরে রাখতে পারি না। —নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

আপনি সম্ভবত ক্রনিক একজিমা রোগে ভুগছেন। বংশগত একটা ধারা থাকতে পারে। সাবান একেবারে কম মাখবেন। প্রয়োজনে বিশেষ ধরনের সাবান (মেডিকেটেড ও সোপ ফ্রি) ব্যবহার করা যেতে পারে। স্টেরয়েড অয়েন্টমেন্ট চিকিৎসকের পরামর্শে দুই বেলা লাগাতে পারেন। রাতে ইমোলিয়েন্ট লোশন বা ক্রিম লাগাতে পারেন দুই মাস। চুলকানির জন্য অ্যান্টিহিস্টামিন। সঙ্গে সংক্রমণ বা কোনো রকম পুঁজ হলে অ্যান্টিবায়োটিক লাগতে পারেন। আক্রান্ত জায়গায় কোনো রকম অ্যান্টিসেপটিক লাগানো যাবে না। প্রয়োজনে রক্তের অ্যালার্জি পরীক্ষা করিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

পরামর্শ দিয়েছেন—ডা. জাহেদ পারভেজ, ডা. জাহেদ’স হেয়ার অ্যান্ড ক্লিনিক, পান্থপথ, ঢাকা।

বিজ্ঞাপন

আমার বয়স ২৫ বছর। দুই বছর ধরে নাকের সমস্যাই ভুগছি। ভালোভাবে শ্বাস নিতে পারি না। নাক বন্ধ হয়ে থাকে। গলায় কফ আটকে থাকে, যা গলা খাকারি দিয়ে বের করতে হয়। সঙ্গে মাথা ধরে সারাক্ষণ। চিকিৎসকের পরামর্শে এক্স-রে করিয়েছি। ওষুধও খেয়েছি। কিন্তু তেমন কাজ হয়নি। এখন বেশি অসুবিধা হচ্ছে। করণীয় কী?—জেসমিন, যশোর।

নাক বন্ধ থাকায় এ ধরনের লক্ষণ দেখা দেয়। তবে নাকের সামনের অংশ থেকে শুরু করে পেছনের যেকোনো অংশ বন্ধ থাকতে পারে। এক্স-রের মাধ্যমে তা না-ও বোঝা যেতে পারে। তাই সঠিকভাবে সমস্যার জায়গাটি নির্ণয় করতে অর্থাৎ নাক বন্ধের মূল কারণটি নির্ণয় করতে একজন নাক কান গলা বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হোন। কোনো কারণে চিকিৎসা শুরু করতে দেরি হলে সেই সময়ে কেবল সাধারণ স্যালাইন ড্রপ ব্যবহার করুন প্রয়োজনমতো। তবে অন্য কোনো ড্রপ, যেমন অ্যান্টাজল, রাইনোজল জাতীয় ড্রপ ব্যবহার আপনাকে সাময়িক স্বস্তি দিলেও এগুলো ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। এ ধরনের ড্রপ ব্যবহারে সমস্যা বাড়তে পারে।

পরামর্শ দিয়েছেন—অধ্যাপক ডা. এ এফ মহিউদ্দিন খান, সিনিয়র কনসালট্যান্ট, নাক কান গলা বিভাগ, জাপান–বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল, ঢাকা।

শিশু

আমার বোনের ছেলের বয়স ২ বছর। তার প্রায় সব কটি দাঁতই উঠে গেছে। কিন্তু এখনো সে কোনো খাবার চিবিয়ে খায় না। ওর এই সমস্যা নিয়ে সবাই চিন্তিত। এখন আমাদের করণীয় কী? জান্নাতুল এশা, চৌদ্দগ্রাম, কুমিল্লা

অল্প অল্প করে শক্ত খাবার শুরু করতে হবে। শুরুতে ব্লেন্ড করা বা তরল খাবার বেশি দিলে এমন সমস্যা হয়। পরিবারের সবার সঙ্গে বসিয়ে সবার জন্য যে খাবার রান্না হয়, তা দিয়ে ধীরে ধীরে অভ্যাস করতে হবে। মুখে কোনো ঘা বা জিবে কোনো সমস্যা না থাকলে মাকে কাউন্সেলিং করাতে হবে। প্রথম দিকে হয়তো খেতে চাইবে না, তখন প্রয়োজনে না খাইয়ে রাখতে হবে। না খাইয়ে রাখলে সে যখন কান্না করবে, বড়রা যেন তখন মাকে কিছু না বলেন। শিশু খিদে পেলে এমনিতেই খাবে।

পরামর্শ দিয়েছেন—ডা. আবু সাঈদ, শিশু বিশেষজ্ঞ, মুগদা মেডিকেল কলেজ ও জেনারেল হাসপাতাল

প্রশ্ন পাঠানোর ঠিকানা

ই–মেইল: proshastho@prothomalo.com

ফেসবুক: www.facebook.com/ProShastho

ডাকযোগে: প্র স্বাস্থ্য, প্রথম আলো, ১৯ কারওয়ার বাজার, ঢাকা ১২১৫

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0