করোনায় আক্রান্তের মাসখানেক পরও শারীরিক দুর্বলতা কাটছে না কেন?

কোভিড ১৯

গত মাসে আমি করোনায় আক্রান্ত হই। দুই দিন জ্বর-মাথাব্যথা ছাড়া তেমন শারীরিক জটিলতা ছিল না। পরে নমুনা পরীক্ষায় নেগেটিভ আসে। কিন্তু মাসখানেক পরও শারীরিক দুর্বলতা কাটছে না। এখন অফিস করতে হচ্ছে। দিনের শেষ ভাগে ভীষণ ক্লান্ত বোধ করি। খাওয়াদাওয়ার কোনো সমস্যা নেই। ঘুমও ভালো হচ্ছে। কী করা উচিত?—রেজাউল করিম, ঢাকা

কোভিড থেকে সেরে ওঠার পরও দীর্ঘদিন ক্লান্তি, অবসাদ, দুর্বলতা রয়ে যেতে পারে। এটি কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। একে লং কোভিড সিনড্রোম বলা হয়। আপনি যথেষ্ট পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করুন। ভিটামিন ও খনিজযুক্ত খাবার, বেশি করে আমিষ এবং প্রচুর পানি পান করুন। হালকা ব্যায়াম দিয়ে শুরু করে ধীরে ধীরে ফিটনেস বাড়ান। শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়ামগুলোও করুন। যথেষ্ট ঘুম ও বিশ্রাম দরকার।

পরামর্শ দিয়েছেন—অধ্যাপক সোহেল মাহমুদ আরাফাত, চেয়ারম্যান, মেডিসিন বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়।

বিজ্ঞাপন

আমার আগে কখনো ডায়াবেটিস ছিল না। কিন্তু কোভিড হওয়ার পর হাসপাতালে প্রথম রক্তে সুগার ধরা পড়ে। চিকিৎসক বলেছিলেন, এটা স্টেরয়েড ইনজেকশনের জন্য বেড়েছে। কিন্তু বাসায় আসার প্রায় এক মাস পরও খালি পেটে সুগার সাত থেকে আট মিলিমোল থাকছে। আমার কি ডায়াবেটিস হয়ে গেছে?—কামরুন নাহার, নারায়ণগঞ্জ

গবেষণায় দেখা গেছে, উল্লেখযোগ্যসংখ্যক কোভিড আক্রান্ত রোগীর নতুন করে ডায়াবেটিস দেখা দিয়েছে। এঁদের মধ্যে কারও হয়তো আগে প্রি-ডায়াবেটিস বা বর্ডার লাইন ডায়াবেটিস ছিল যা তিনি জানতেন না আর স্ট্রেসের কারণে বেড়ে গেছে। কারও স্টেরয়েড দীর্ঘ সময় ধরে পাওয়ার কারণে সুগার বেড়েছে আর কখনো ভালো হয়নি (জেনে রাখবেন উচ্চমাত্রার স্টেরয়েড সেবন থেকে সেকেন্ডারি ডায়াবেটিস হতে পারে)। আবার করোনাভাইরাস নিজেই প্যানক্রিয়াসের বিটা কোষের ক্ষতি করে ইনসুলিন নিঃসরণ কমিয়ে দিতে পারে, এতে ডায়াবেটিস হতে পারে। যে কারণেই হোক, আপনি এখন খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ ও নিয়মিত হাঁটাহাঁটি করে সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করুন। নিয়মিত ডায়াবেটিস চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখুন।

পরামর্শ দিয়েছেন—ডা. ইন্দ্রজিত প্রসাদ, সহযোগী অধ্যাপক, এন্ডোক্রাইনলজি বিভাগ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ।

কোভিড থেকে সেরে উঠেছি প্রায় তিন সপ্তাহ হলো। কোভিডের শুরু থেকেই আমার রাতে ঘুম হয় না। দিনেও ঘুমাই না। সারা রাত জেগে থাকি। আমি কি ঘুমের ওষুধ খেতে পারব?—জুলকারনাইন, শ্যামলী, ঢাকা

কোভিড বা কোনো দীর্ঘমেয়াদি রোগ থেকে সুস্থ হওয়ার পর অনেকেরই ঘুমের সমস্যা হতে পারে এবং তিন সপ্তাহ থেকে দেড় মাস বা দুই মাস পর্যন্ত স্থায়ী থাকতে পারে। এ সময় কিছু নিয়মকানুন মেনে চলা জরুরি, যাকে বলা হয় স্লিপ হাইজিন। দিনের বেলা সক্রিয় থাকবেন। প্রতিদিন নিয়ম করে নির্দিষ্ট সময় বিছানায় যেতে হবে এবং সকালবেলা ঘুম থেকে ওঠার চেষ্টা করতে হবে। দিনে বিছানায় শুয়ে থাকা যাবে না। বিছানায় বসে পত্রিকা পড়া, টিভি দেখা, বই পড়া অথবা ল্যাপটপ, মোবাইল ব্যবহার করা যাবে না। দুপুরে প্রয়োজন হলে অল্প সময় বিশ্রাম নিতে পারেন। সন্ধ্যার পর চা-কফি পান বা খুব বেশি শারীরিক ব্যায়াম করা চলবে না। ঘুমের কমপক্ষে দুই ঘণ্টা আগে থেকে মোবাইল, ল্যাপটপ অথবা টিভি দেখা থেকে বিরত থাকবেন। এরপরও যদি ঘুমের সমস্যার সমাধান না হয়, তবে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে স্বল্প মেয়াদে চিকিৎসকের নির্দেশমতো ঘুমের ওষুধ খেতে পারেন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজে নিজে দোকান থেকে ঘুমের ওষুধ কিনে খাওয়া চলবে না। চিকিৎসক যত দিন ওষুধ খেতে বলবেন, তার চেয়ে বেশি দিনও নয়। কখনো কখনো ঘুমের সমস্যা উদ্বিগ্নতা ও বিষণ্নতা রোগের লক্ষণ হতে পারে। তাই সমস্যা দীর্ঘায়িত হলে মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞর পরামর্শ নিন।

পরামর্শ দিয়েছেন—ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ, সহযোগী অধ্যাপক, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট, ঢাকা।

বিজ্ঞাপন

প্রশ্ন পাঠানোর ঠিকানা

স্বাস্থ্য জিজ্ঞাসা

ই-মেইল: proshastho@prothomalo.com

ফেসবুক পেজ: fb.com/ProShastho

ডাকযোগে: প্র স্বাস্থ্য, প্রথম আলো, ১৯ কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫

মন্তব্য করুন