খেলেই পাতলা পায়খানা হয়

অস্ত্রোপচার

আমার বয়স ২৬। মলদ্বার ফুলে তুলতুলে হয়েছে। তবে কোনো রক্ত আসে না। প্রথমে ছোট্ট ছিল, এখন হাতে ধরতে পারি। এখন পাইলসের সমস্যা নেই। কিন্তু আগে ছিল।—নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

ব্যথা ও রক্তক্ষরণ না থাকলে এটি রেক্টাল প্রোলাপস (মলদ্বার বেরিয়ে আসা) হয়ে থাকতে পারে। তবে পরীক্ষা না করে বলা যাবে না। তাই আপনার একজন শল্যচিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন। অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হতে পারে।

পরামর্শ দিয়েছেন—অধ্যাপক এ জেড এম মোস্তাক হোসেন, সার্জারি বিভাগ, আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা।

বিজ্ঞাপন

কোভিড-১৯

গত বছরের জুলাইয়ের প্রথম দিকে করোনায় আক্রান্ত হই। ২৭ জুলাই নমুনা পরীক্ষায় আমার রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। তখন থেকে এখন পর্যন্ত আমি কোনো ঘ্রাণ পাই না। খাবারের স্বাদ মোটামুটি পাই। একজন চিকিৎসকের পরামর্শে নিউরো-বি খাচ্ছি। কোনো উন্নতি বোধ করছি না। এখন আমার করণীয় কী?—আসিফ রহমান, ঢাকা

করোনার পর স্বাদহীনতা বা ঘ্রাণ সমস্যা কারও কারও ক্ষেত্রে ৩ থেকে ৬ মাস পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। অরুচিও তাই। এই সমস্যা ধীরে ধীরে সেরে যাবে। ভয়ের কিছু নেই। কখনো কখনো স্মেল ট্রেনিংয়ের কথা বলা হয়। অর্থাৎ দিনে কয়েকবার কিছু সুঘ্রাণযুক্ত বস্তু (পারফিউম, ফুল, ল্যাভেন্ডার) ২০ সেকেন্ড ধরে মনোযোগ দিয়ে শোঁকা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) পোস্টকরোনা বা করোনা–পরবর্তী সমস্যার জন্য পৃথক বহির্বিভাগ চালু করেছে (শনি ও মঙ্গলবার), চাইলে আপনি সেবা নিতে পারেন।

পরামর্শ দিয়েছেন—অধ্যাপক সোহেল মাহমুদ আরাফাত, চেয়ারম্যান, মেডিসিন, বিএসএমএমইউ।

মেডিসিন

আশৈশব সুগন্ধি, সাবান, শ্যাম্পু, ডিওডোরেন্ট, ডিটারজেন্ট, এয়ারফ্রেশনারের গন্ধ নাকের ভেতর, চোখের ভেতর অস্বস্তি তৈরি করে। শ্বাস নিতে কষ্ট, দাঁতের মাড়ি ফুলে যাওয়ার মতো সমস্যা হয়। ভেন্টোলিন আর অ্যান্টিহিস্টামিন নিলে কিছুটা উপশম হয়। কোনো স্থায়ী সমাধান আছে কি?—আ আ রহমান

এই সব জিনিসে ব্যবহৃত কোনো রাসায়নিক বা উপাদানে আপনার অ্যালার্জি আছে বলেই এমন হয়। যে বস্তুতে অ্যালার্জি আছে, সেসব এড়িয়ে চলা ভালো। ঘরের বাইরে মাস্ক পরলে এদের সংস্পর্শ এড়াতে পারবেন। আর উপসর্গ হলে অ্যান্টিহিস্টামিন গ্রহণ করতে হবে।

বিজ্ঞাপন

প্রায় আট বছর ধরে পাতলা পায়খানা ও পেট জ্বালাপোড়ার সমস্যায় ভুগছি। কোনো খাবার খেলেই পাতলা পায়খানা হয়, পেট প্রচণ্ড জ্বলে। খালি পেট কিংবা ভরা পেটে—সব সময় জ্বলে। কোলনোসকপি, এন্ডোসকপি, রক্ত ও মল পরীক্ষা করিয়েছি। চিকিৎসক আমাকে তিনটি ওষুধ লিখে দিয়েছেন, তা হলো মেভ, গ্যাভিসল সিরাপ, সার্জেল। এগুলো খেয়েও ভালো হয় না। মল শক্ত করার জন্য এমোডিস ওষুধ খাই, কিন্তু শরীর দুর্বল করে। আমি স্নাতক (সম্মান) চতুর্থ বর্ষে পড়ি, বয়স ২৫। এখন আমার কী করা উচিত?—নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

আপনার রোগটির নাম আইবিএস বা ইরিটেবল বাউয়েল সিনড্রোম। এটি বড় কোনো শারীরিক সমস্যা নয় বরং দুশ্চিন্তা, উদ্বেগ, অস্থিরতা ইত্যাদির সঙ্গে সম্পর্কিত। জীবনাচরণে ও খাদ্যাভ্যাসে কিছু পরিবর্তন আনতে হবে। দরকার হলে একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞর সঙ্গেও পরামর্শ করতে পারেন। আর এমোডিস একধরনের অ্যান্টিবায়োটিক, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক এভাবে সেবন করা উচিত নয়।

পরামর্শ দিয়েছেন—ডা. আ ফ ম হেলাল উদ্দিন, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ, ঢাকা।

প্রশ্ন পাঠানোর ঠিকানা

স্বাস্থ্য জিজ্ঞাসা

ই-মেইল: proshastho@prothomalo.com

ফেসবুক পেজ: fb.com/ProShastho

ডাকযোগে: প্র স্বাস্থ্য, প্রথম আলো, ১৯ কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫

মন্তব্য করুন