বিজ্ঞাপন

এ সময় জ্বর হলে করোনার ভাবনাই ভাবতে হবে প্রথমে। এটা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থারও নির্দেশনা। তবে আতঙ্কিত হওয়ার দরকার নেই। নিজেকে পর্যবেক্ষণ করুন। সাধারণ জ্বর-কাশির সঙ্গে করোনার পার্থক্যও জানা চাই। যদিও করোনা নানা ধরনের উপসর্গ, কখনো মৃদু বা প্রায় উপসর্গ ছাড়াও হতে পারে। তবু সাধারণ কিছু বিষয় জানা থাকা ভালো। সময়মতো করোনা শনাক্ত না হলে জটিলতা বাড়তে পারে আর চিকিৎসা পেতে অনেক দেরি হয়ে যেতে পারে। আবার করোনার খুঁটিনাটি জানা না থাকলে মৃদু উপসর্গ নিয়ে রোগী পরিবারের সবাইকে আক্রান্ত করে ফেলতে পারেন।

করোনার লক্ষণ হিসেবে জ্বর-কাশি-গলাব্যথাকেই চিহ্নিত করা হয়ে থাকে সাধারণভাবে। শ্বাসকষ্ট একটি গুরুতর লক্ষণ, যা অন্যতম জটিলতার এক সংকেত। শ্বাসকষ্ট মানে যে কেবল শ্বাস নিতে বা ছাড়তে কষ্ট হওয়া, তা নয়। অল্পতেই হাঁপিয়ে ওঠার মানেও কিন্তু শ্বাসকষ্ট। করোনার জটিলতায় বুকে চাপ ধরে থাকা বা ক্রমাগত ব্যথা হওয়াও দেখা দিতে পারে গুরুতর লক্ষণ হিসেবে। এর বাইরেও কিছু লক্ষণ থাকে করোনা রোগীর। ঘ্রাণ কিংবা স্বাদের অনুভূতির পরিবর্তন অন্যতম। শরীরব্যথা, মাথাব্যথা, বমিভাব, বমি, পাতলা পায়খানা হতে পারে। রোগীর চৈতন্যের মাত্রায় পরিবর্তন আসতে পারে (রোগী এলোমেলো কথা বলতে পারেন বা অসংলগ্ন আচরণ করতে পারেন)। তবে হাঁচি, নাক বন্ধ ফ্লুতে যত দেখা যায়, করোনায় তত নয়। আবার ডেঙ্গু জ্বরে প্রচণ্ড মাথাব্যথা, শরীরব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, শরীরে ফুসকুড়ি হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা যায়। সাধারণ ফ্লুতে জ্বরের সঙ্গে নাক বন্ধ, নাক দিয়ে পানি পড়া, কাশি, গলাব্যথা, গলার গ্রন্থি ফুলে যাওয়া ইত্যাদি দেখা দেয়। লক্ষণ করোনার প্রায় কাছাকাছি। তাহলে কী করবেন?

default-image

জ্বর-কাশি হলে

জ্বর হলে কারণ জানার আগপর্যন্ত ঘরেই থাকুন। পরিবারের সবার থেকে আলাদা থাকা শুরু করা উচিত। করোনায় আক্রান্ত হলে কিংবা করোনা রোগীর সংস্পর্শে আসার ইতিহাস থাকলে ১৪ দিন আইসোলেশনে, অর্থাৎ আলাদা থাকতে হবে। তবে করোনার অন্য লক্ষণ দেখা না গেলে এবং দু-তিন দিনে জ্বর সেরে গেলে সাধারণ জ্বর হিসেবে ধরে নেওয়া যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে পূর্ণ ১৪ দিন আলাদা ঘরে না থাকলেও ক্ষতি নেই।

পরীক্ষায় করোনা ধরা না পড়লে করোনা নেই বলে নিশ্চিত হওয়া যায় না। আবার জ্বর মানেই করোনা নয়। তাই অবস্থা বুঝে করোনা পরীক্ষা। জ্বর আসার আগের ১৪ দিনের মধ্যে পূর্ণ সুরক্ষাব্যবস্থা ছাড়াই করোনারোগীর সংস্পর্শে এসেছেন বা কোনো জনসমাগম উৎসব অনুষ্ঠানে গেছেন, এমন ব্যক্তির করোনার সামান্য লক্ষণ দেখা দিলেও করোনা পরীক্ষা করতে হবে। এমনকি যাঁরা বিগত ১৪ দিনের মধ্যে অজানা মানুষের সংস্পর্শে এসেছেন, তাঁদের জন্যও এ নিয়ম প্রযোজ্য। গণপরিবহনে দূরত্ব বজায় না রেখে চলাফেরা করা ব্যক্তি কিংবা বাজারের মতো ভিড়প্রবণ এলাকায় যাঁদের যেতে হয়, তাঁরা রয়েছেন এ দলে। করোনা রোগী বা অজানা কারও সংস্পর্শে আসার ইতিহাস না থাকলেও যদি জ্বরের সঙ্গে করোনার অন্য লক্ষণ থাকে, তাহলে অবশ্যই লক্ষণের শুরুতেই নিকটস্থ স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্রে যোগাযোগ করুন। করোনা পরীক্ষার জন্য কী করতে হবে, তা জেনে নিন। কোনো রোগীর সাহচর্যে যাওয়ার ইতিহাস নেই তবু যাঁরা ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তি (যাঁদের বয়স বেশি, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি রোগ, হাঁপানি প্রভৃতিতে আক্রান্ত), তাঁদের ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। তিনি প্রয়োজনমতো পরীক্ষা-নিরীক্ষাগুলো করিয়ে নেবেন। যদি একই বাড়ির কয়েকজনের অল্প দিনের ব্যবধানে জ্বর বা ঠান্ডার লক্ষণ দেখা যায়, তাঁদেরও করোনা পরীক্ষা করিয়ে নিতে হবে।

পরীক্ষায় করোনা ধরা না পড়লেও, যদি অন্য লক্ষণ থাকে কিংবা জ্বর না সারে, সে ক্ষেত্রে চিকিৎসক আরও কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে দিয়ে থাকেন, যা দ্বারা করোনার সম্ভাব্যতা বোঝা যায়।

এ সময় সুস্থ থাকতে

জ্বর হলে কুসুম গরম পানিতে শরীর মুছে নিন। কুসুম গরম পানিতে গোসলও করতে পারেন। প্যারাসিটামল সেবন করা যেতে পারে। ঠান্ডা-কাশি হলে অ্যান্টিহিস্টামিন–জাতীয় ওষুধ খেতে পারেন। ঘরে গরম পানি, চা, স্যুপ খেলে আরাম পাবেন গলাব্যথার সমস্যায়। হাত-পায়ের ব্যথা বা অন্য যেকোনো ব্যথা হলেও প্যারাসিটামল ছাড়া কোনো ব্যথানাশক সেবন করা যাবে না। অ্যান্টিবায়োটিক এবং অন্যান্য ওষুধের যথেচ্ছ ব্যবহারও এড়িয়ে চলুন। মনে রাখবেন, করোনা, ডেঙ্গু, মৌসুমি জ্বর—সবই ভাইরাসজনিত রোগ। অ্যান্টিবায়োটিক এসব রোগের চিকিৎসা নয়। তবে ভাইরাসের পাশাপাশি ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের জন্য কিছু ক্ষেত্রে এসব রোগীকেও অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়, কিন্তু নিজে নিজে অ্যান্টিবায়োটিক বা অন্যান্য নানা ওষুধ সেবনের সিদ্ধান্ত নিলে হিতে বিপরীত হতে পারে।

সাধারণ লক্ষণ থাকলে দু-তিন দিন বাড়িতে নিজের লক্ষণগুলোকে পর্যবেক্ষণ করুন। লিখে রাখতে পারেন তাপমাত্রা। তবে শ্বাসকষ্ট, বুকব্যথা বা চাপ, রোগীর মুখ-হাত নীল হয়ে যাওয়া, চৈতন্য কমে যাওয়া—এসব জটিল লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসা নিতে দেরি করা যাবে না। বাড়িতে পালস অক্সিমিটার রাখুন, সেচুরেশন কমে যেতে দেখলে দ্রুত হাসপাতালে যান।

যাঁদের আগে করোনা হয়েছে

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তি (যাঁরা বাড়িতে থেকেই সুস্থ হয়ে গিয়েছেন বা হাসপাতাল থেকে অবস্থার উন্নতির পর বাসায় এসেছেন), তাঁদের পুনরায় সংক্রমণের ঝুঁকি নেই, এমনটা ভাবা যাবে না। তাঁদের জ্বর-কাশি প্রভৃতির ক্ষেত্রেও লক্ষণ ও ইতিহাস অনুযায়ী পরীক্ষা-নিরীক্ষা, আইসোলেশন ও চিকিৎসার ব্যবস্থা নিতে হবে। এমনিতেও করোনা থেকে সেরে ওঠার পর নিউমোনিয়াসহ কিছু জটিলতার আশঙ্কা থাকে, তাই কিছুদিন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত, সতর্ক থাকা উচিত।

প্র স্বাস্থ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন