default-image

দেশে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে টিকা দেওয়া শুরু হয়েছে। টিকা গ্রহণে আগ্রহীদের মনে নানা প্রশ্ন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগছেন ক্যানসারে আক্রান্ত রোগী ও তাঁদের পরিবার। ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীরা টিকা নিতে পারবেন কি না, এ নিয়ে কিছু ভুল ধারণা রয়েছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা অবশ্য ক্যানসার রোগীদের টিকা নিতে উদ্বুদ্ধ করেছে এবং এরই মধ্যে নির্দেশিকাও তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে বহুল প্রচলিত ন্যাশনাল কম্প্রিহেনশিভ ক্যানসার নেটওয়ার্ক (এনসিসিএন) এবং ইউরোপিয়ান সোসাইটি অব মেডিকেল অনকোলজির (ইএসএমও) দেওয়া নির্দেশিকা জেনে নেওয়া যাক—

  • স্তন ক্যানসার, ফুসফুস ক্যানসার, কিডনি ক্যানসার, যকৃৎ ক্যানসার, অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারসহ সব ধরনের ক্যানসারে আক্রান্ত রোগী চিকিৎসার যেকোনো সময়েই টিকা নিতে পারবেন।

বিজ্ঞাপন
  • ব্লাড ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে যাঁদের কেমোথেরাপি চলছে, তাঁদের রক্তে শ্বেতকণিকার পরিমাণ ঠিক থাকলে টিকা নিতে পারবেন।

  • যেসব ক্যানসার রোগীর অস্ত্রোপচার দরকার হচ্ছে, তাঁরা অস্ত্রোপচারের পর কিছুদিন অপেক্ষা করেই টিকা নিতে পারবেন।

  • যাঁদের অস্থিমজ্জা (বোন ম্যারো) প্রতিস্থাপন হয়েছে বা সেলুলার থেরাপি চলছে, তাঁরা প্রতিস্থাপন বা সেলুলার থেরাপির তিন মাস (এনসিসিএনের মতে) বা ছয় মাস (ইএসএমওর মতে) পরেই টিকা নিতে পারবেন।

এখন পর্যন্ত বলা হচ্ছে, কোভিড-১৯–এর টিকা নিরাপদ। তবে টিকা নেওয়ার পর কারও কারও টিকা প্রয়োগের জায়গায় ফুলে যাওয়া, সামান্য জ্বর হওয়া, বমি বমি ভাব, মাথা ও শরীরের ব্যথাসহ ক্লান্তি হতে পারে। প্রতি দশ জনের মধ্যে একজনের এই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। তবে এগুলোকে শরীরের সঙ্গে টিকা মানিয়ে যাওয়ার পদ্ধতি বলেই ধরা হয়।

মনে রাখতে হবে, ক্যানসার রোগীর রোগ প্রতিরোধক্ষমতা অন্যদের চেয়ে অনেক কম থাকে। ফলে তাঁরা অল্পেই নানা ধরনের সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। করোনার উচ্চতম ঝুঁকিতে আছেন তাঁরা। তাই ক্যানসার রোগীদের দ্রুত অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কোভিড-১৯ টিকা নেওয়া উচিত।

তবে কে এবং কোন পর্যায়ের রোগী টিকা নেবেন, তা সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে নেওয়াই ভালো। নিবন্ধন ফরম পূরণ করার সময় অবশ্যই ক্যানসার–বিষয়ক তথ্য দেবেন। টিকাকেন্দ্রেও জানিয়ে রাখা উচিত, যাতে কোনো সমস্যা হলে ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

প্র স্বাস্থ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন