দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাস ও জীবনাচরণই পারে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে আনতে
দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাস ও জীবনাচরণই পারে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে আনতেফাইল ছবি

দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাস ও জীবনাচরণই পারে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে আনতে। কী ধরনের খাবার খেলে কিংবা কোন কোন অভ্যাসের কারণে মানুষ হৃদ্‌রোগের ঝুঁকিতে থাকে, সেগুলো সম্পর্কে সবারই সচেতনতা দরকার।

হৃদ্‌রোগের অন্যতম ঝুঁকি হলো উচ্চ রক্তচাপ, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস ও রক্তে চর্বির আধিক্য। এই সব কটি নিয়ন্ত্রণেই খাদ্যাভ্যাসের আছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। তাই হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি এড়াতে আপনার আহারের তালিকা থেকে বাদ দিতে হবে কিছু খাবার।

বাদ যেসব খাবার

কলিজা, মগজ, হাড়ের মজ্জা: কলিজা, মগজ, হাড়ের মজ্জা—এই অংশগুলোতে বেশি পরিমাণ কোলেস্টেরল থাকে। তাই হৃদ্‌রোগীর কলিজা, মগজ বা নেহারি–জাতীয় খাবার বর্জন করা উচিত।

চিংড়ি: হৃদ্‌রোগীদের জন্য আরেকটি বর্জনীয় খাবার হলো চিংড়ি। দেখা গেছে, ক্যালরি এবং ফ্যাট কম থাকলেও চিংড়িতে আছে প্রচুর পরিমাণে কোলেস্টেরল। সাড়ে তিন আউন্স ওজনের চিংড়ি মাছে পাওয়া যায় ১৮৯ মিলি গ্রাম কোলেস্টেরল।

মাছের মুড়ি ও ডিম: রক্তের লিপিড প্রোফাইল বাড়িয়ে দেয় যে উপাদানগুলো, সেই এলডিএল বা ক্ষতিকর কোলেস্টেরল এবং ট্রাইগ্লিসারাইডের উৎস হচ্ছে মাছের মুড়ি বা মাছের ডিম।

বিজ্ঞাপন
default-image

ফাস্ট ফুড: আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন জার্নালের একটি রিপোর্টে দেখা গেছে, প্রতি সপ্তাহে একবার নিয়মিতভাবে যারা ফাস্ট ফুড খায়, হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে তাদের মৃত্যুঝুঁকি অন্যদের চেয়ে ২০ শতাংশ বেশি। যারা একের বেশি, অর্থাৎ দুই কি তিনবার খায়, তাদের হার আরও বেশি—৫০ শতাংশ।

ঘি-মাখন-ডালডা: প্রাচ্যের অভিজাত খাবারের তালিকায় ঘি-মাখন এক অনিবার্য অনুষঙ্গ হলেও এতে আছে উচ্চমাত্রার স্যাচুরেটেড ফ্যাট। সেই সঙ্গে আছে পামিটিক অ্যাসিড, যা আর্টারি ব্লকের কারণ হতে পারে। এর বদলে অলিভ অয়েল, সান ফ্লাওয়ার অয়েল বা মার্জারিন ব্যবহার করা যেতে পারে।

নারকেল: হংকং আর সিঙ্গাপুরের দুটি পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে যত লোক হংকংয়ে মারা গেছে, তার অন্তত তিন গুণ বেশি মানুষ মারা গেছে সিঙ্গাপুরে। গবেষকদের মতে, এর একটি কারণ হলো, সিঙ্গাপুরের অধিবাসীদের খাবারে নারকেল ও পাম তেল ব্যবহারের প্রবণতা। নারকেল তেলের ৮৫ থেকে ৯০ ভাগই হলো স্যাচুরেটেড ফ্যাট, যা হৃদ্‌রোগীদের জন্য ক্ষতিকর।

বিজ্ঞাপন

অতিরিক্ত ভাজা ও তৈলাক্ত খাবার: ডিপ ফ্রাই খাবার মুখরোচক, তাতে সন্দেহ নেই। কিন্তু খাবার যত ভাজা হয়, তার খাদ্যমান তত কমতে থাকে, তত তাতে যুক্ত হতে থাকে ক্ষতিকারক ফ্যাট। এমনও দেখা গেছে, একটা পর্যায়ে খাবারে আর কোনো ক্যালরিই অবশিষ্ট থাকে না। যেমন মাংস বা কোনো কিছু ভাজার সময় দেখবেন, তেলের মধ্যে প্রচুর বুদ্‌বুদ উঠছে। এর কারণ হলো, খাবারটার ভেতরে যে পানিটা আছে, তেলে ছেড়ে দেওয়ার ফলে তা বেরিয়ে এসেছে এবং তেলের তাপ এবং চাপে তা শুকাতে শুরু করেছে। ডিপ ফ্রাই হতে হতে পানি যখন পুরোপুরি শুকিয়ে যায়, বুদ্‌বুদ ওঠাও তখন বন্ধ হয়ে যায়। খাবারের ভেতরে পানির বদলে তখন ঢুকে যায় তেল। তো এমনিতেই মাংস বা এই জাতীয় খাবারগুলোতে আছে স্যাচারেটেড ফ্যাট, তার ওপর তেল যুক্ত হয়ে তার চর্বির পরিমাণ বাড়ে আরও।

রেড মিট: অতিমাত্রায় রেড মিট হৃদ্‌রোগের কারণ। তবে সেটা যে কেবল রেড মিটের ফ্যাট বা কোলেস্টেরলের কারণে তা কিন্তু নয়, সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, রেড মিট ভেঙে কারনিটাইন নামের একটি যৌগ দেহে তৈরি হয়, যা ট্রিমাথাইলেমাইন এন অক্সাইড নিঃসরণ করে। আর এথেরোসক্লেরোসিস বা আর্টারিতে ব্লক সৃষ্টিতে এই ট্রিমাথাইলেমাইনের একটা সক্রিয় ভূমিকা আছে।

কেক, পেস্ট্রি, পুডিং, আইসক্রিম: এর প্রতিটি খাবারই চিনিযুক্ত। আর চিনি হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায়, এমনকি মানুষটি দেখতে মোটাসোটা না হলেও। চিনিযুক্ত পানীয় রক্তচাপ ও সুগার বাড়ায়, বাড়িয়ে দেয় যকৃতের কাজ, যা রক্তে ক্ষতিকর চর্বি নিঃসরণ করে। আর এ দুটি কারণেই হৃদ্‌রোগের নেপথ্য অনুঘটক।

খাবার খাওয়ার সময় একটা বিষয়ের দিকে খেয়াল রাখা ভীষণ জরুরি, আপনার খাবারের সিংহভাগটাই যেন আসে কম ক্যালরিযুক্ত খাবার থেকে আর ছোট অংশটা যেন আসে উচ্চ ক্যালরির খাদ্যবস্তু থেকে।

বিজ্ঞাপন
default-image

একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির হৃদয়বান্ধব খাদ্যতালিকা

সকালের নাশতা

হাতে বানানো লাল আটার রুটি ২–৩টি, পাঁচমিশালি সবজি ১ কাপ, ডিম সেদ্ধ ১টি, রং চা ১ কাপ

মধ্যদিনের খাবার

যেকোনো কম মিষ্টি ফল ১-২টি

দুপুরের খাবার

ভাত ২ কাপ, সবজি বা শাক ১ কাপ, মাছ ১ টুকরা (বড়) সপ্তাহে ১ দিন সামুদ্রিক মাছ, ডাল ১ কাপ, সালাদ আধা কাপ।

বিকেলের নাশতা

কাঠবাদাম ৫টি (আগে ভেজানো)

রাতের খাবার

ভাত ১ কাপ অথবা রুটি ২টি, সবজি ১ কাপ, মুরগির বুকের মাংস ১ টুকরা, ডাল ১ কাপ।

ঘুমানোর আগে

ঘুমাতে যাওয়ার আগে টক দই ১ কাপ ও কালিজিরা আধা চা–চামচ।

মন্তব্য পড়ুন 0