বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

একেক বয়সে উপসর্গ একেক রকম

হাইপোথাইরয়েডিজম একেক বয়সে একেক রকমের উপসর্গ ও জটিলতা তৈরি করে। অনেক সময় উল্লেখযোগ্য কোনো উপসর্গ না থাকার কারণে এটি শনাক্তের বাইরে থেকে যায়। ফলে পরবর্তী সময়ে নানা ধরনের জটিলতা সৃষ্টি করে।

নবজাতকের হাইপোথাইরয়েডিজম হলে দৈহিক ও মস্তিষ্কের গঠন ও বিকাশ ব্যাহত হয়। নানা রকম শারীরিক জটিলতার পাশাপাশি বুদ্ধিপ্রতিবন্ধিতাও হতে পারে। কিশোর বয়সের কিছু আগে বা কিছু পরে অনেকেরই হাইপোথাইরয়েডিজম ধরা পড়ে। এদের ক্ষেত্রেও বিকাশজনিত সমস্যা, যেমন খর্বতা, কৈশোরপ্রাপ্তিতে বিলম্ব, কিশোরীদের মাসিকের সমস্যা, মানসিক ধীরতা, পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়া ইত্যাদি সমস্যা দেখা দেয়। শিশু-কিশোরদের স্থূলতার পেছনেও এর প্রভাব থাকতে পারে। এই বয়সে এ ধরনের অনেক উপসর্গকেই আমলে নেওয়া হয় না, আর সেই কিশোর-কিশোরী পরবর্তী সময়ে নানা জটিলতায় পড়ে, লেখাপড়া ও পেশাজীবনেও পিছিয়ে যেতে পারে। তাই অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে।

প্রজননক্ষম নারীদের হাইপোথাইরয়েডিজমের হার ও জটিলতা বেশি। এর ফলে হঠাৎ ওজন বাড়তে থাকা, অনিয়মিত মাসিক বা দীর্ঘদিন অতিরিক্ত মাসিক, সন্তান ধারণে অক্ষমতা, চুল ও ত্বকের সমস্যা, কোষ্ঠকাঠিন্য, শীত শীত ভাব বা জ্বর জ্বর লাগা, ক্লান্তি, অবসাদ, মনোযোগ কমে যাওয়া বা কাজকর্মে ধীর হয়ে যাওয়া ইত্যাদি নানা সমস্যা দেখা দেয়। কখনো দেখা যায়, মাসিকের সমস্যা বা সন্তান ধারণের জন্য নানা রকমের চিকিৎসা করা হচ্ছে কিন্তু থাইরয়েড হরমোনই পরীক্ষা করা হয়নি। এ অবস্থায় গর্ভধারণ করার পর গর্ভপাত হয়ে যাওয়ার প্রবণতা থাকে। আবার গর্ভস্থ সন্তানের মস্তিষ্কের বিকাশ ব্যাহত হয়। ফলে এর একটা সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব রয়ে যায়। তাই এ বয়সী নারীদের থাইরয়েডের রোগ সম্পর্কে ব্যাপক সচেতনতা দরকার।

বয়স্কদের সাধারণত স্থূলতা, শুষ্ক ত্বক, স্মৃতিভ্রংশ, হৃৎস্পন্দন জটিলতা, পা ফুলে যাওয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য ইত্যাদি উপসর্গ থাকে।

যথাযথ সময়ে হাইপোথাইরয়েডিজমের চিকিৎসা না করা হলে এর কারণে ওজন বৃদ্ধি, হৃদ্‌রোগ, রক্তের চর্বি বাড়া, হৃৎস্পন্দনের সমস্যা, বারবার গর্ভপাত, বন্ধ্যত্ব ইত্যাদি নানা জটিলতা হতে পারে।

উল্টো দিকে হাইপারথাইরয়েডিজমে ওজন কমা, গরম লাগা, অতিরিক্ত ঘাম, পাতলা পায়খানা, দ্রুত হৃৎস্পন্দনের মতো উপসর্গ প্রকট হয়ে ওঠায় এটি হাইপোথাইরয়েডিজমের তুলনায় আগে শনাক্ত করা সম্ভব হয়। প্রদাহ বা থাইরয়েডাইটিস হলে থাইরয়েড ফুলে যাওয়ার সঙ্গে ব্যথাও করে।

পর্যবেক্ষণ জরুরি

উপসর্গ দেখা দিলে বা অনেক সময় উপসর্গ ছাড়াই রুটিন পরীক্ষা হিসেবে রক্তে ফ্রি থাইরক্সিন এবং টিএসএইচ (থাইরয়েড-স্টিমুলেটিং হরমোন) পরীক্ষা করে রোগ শনাক্ত করা হয়। এর বাইরে থাইরয়েডের নানা অ্যান্টিবডি, গলার আলট্রাসনোগ্রাফি, দরকার হলে রেডিও-আয়োডিন আপটেক পরীক্ষাও করতে হতে পারে। ক্যানসার সন্দেহ করলে সুই দিয়ে গলা থেকে টিস্যু নিয়ে বা সার্জারি করে বায়োপসি করার দরকার হতে পারে।

তবে রোগ শনাক্ত করার পর চিকিৎসা শুরু করা হলে নিয়মিত বিরতিতে চিকিৎসকের পরামর্শে বারবার এই হরমোন পরীক্ষা করে ওষুধের মাত্রা ঠিক করে নিতে হয়। হাইপোথাইরয়েডিজমের ওষুধ হলো ঘাটতিতে থাকা থাইরক্সিন হরমোন রিপ্লেসমেন্ট—এটি সাধারণত সারা জীবন খেয়ে যেতে হয়, তবে বারবার পরীক্ষা করে মাত্রা ঠিক করার প্রয়োজন হয়। বিশেষ করে কেউ সন্তান চাইলে বা গর্ভধারণ করলে ঘন ঘন টেস্ট করা দরকার।

গলগণ্ড হলেই যে থাইরয়েড কেটে ফেলে দিতে হবে, তা কিন্তু নয়। খুব অল্প কিছু ক্ষেত্রেই থাইরয়েড অস্ত্রোপচার দরকার হয়। ক্যানসার সন্দেহ করা হলে, গ্রন্থি অতিরিক্ত বড় হয়ে যাওয়ার কারণে চাপ সৃষ্টি করলে বা সীমিত কিছু ক্ষেত্রে হাইপারথাইরয়েডিজমে ওষুধ কাজ না করলে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

নিজেই থাইরয়েডকে জানুন

২৫ মে অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাংলাদেশেও পালিত হয়েছে বিশ্ব থাইরয়েড দিবস। থাইরয়েড সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরি করা প্রয়োজন কারণ আগামী প্রজন্মের মেধা, প্রতিভার বিকাশে বর্তমানের মানুষদের, বিশেষ করে মেয়েদের থাইরয়েডের সুস্থতা দরকার। থাইরয়েডের সমস্যার নানামুখী উপসর্গ ও জটিলতার জন্য অনেক সময়ই রোগ শনাক্ত হতে দেরি হয়। প্রজননক্ষম নারীদের সন্তান নেওয়ার আগে আর গর্ভাবস্থায় তাই কোনো উপসর্গ না থাকলেও থাইরয়েড পরীক্ষা করতে হবে। সুস্থ ও সুন্দর জীবনের জন্য নিজের থাইরয়েডকে জানুন, এর উপসর্গ ও জটিলতা সম্পর্কে সচেতন হোন।

প্র স্বাস্থ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন