বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

অধিকাংশ ক্ষেত্রে শারীরিক দুর্বলতার কারণ শারীরিক কোনো অসুস্থতা। পুষ্টি উপাদানের অভাবেই যে শরীর দুর্বল হয়, তা নয়। তাই হঠাৎ ওজন কমা বা দুর্বলতা, ক্লান্তি, মাথা ঘোরা ইত্যাদি উপসর্গের কারণ জানা জরুরি। কারণ অনুসন্ধানের চেষ্টা না করে ভিটামিন খেয়ে চললে মূল রোগটি শনাক্ত হবে না। ফলে রোগটি জটিল হয়ে ওঠার সুযোগ পাবে।

আবার পুষ্টি উপাদানের ঘাটতিজনিত দুর্বলতার ক্ষেত্রেও চিকিৎসকের তত্ত্বাবধান ছাড়া দীর্ঘ মেয়াদে এসব ওষুধ সেবন অনুচিত। এসব উপাদানের আধিক্য হলে ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে মাথাব্যথা, মাথা ঘোরানো, ক্ষুধামান্দ্য, বমি, পাতলা পায়খানা, কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে। এমনকি ওষুধের কারণেই হতে পারে দুর্বলতা, অনুভব করতে পারেন ক্লান্তি ও অবসন্নতা। শরীরের কর্মক্ষমতা কমে যেতে পারে। কিডনি ও লিভারের কর্মক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। পেটব্যথা, শরীরব্যথা, ওজন কমে যাওয়া, ঘুমের সমস্যা, অধিক পিপাসা, অধিক প্রস্রাব, দৃষ্টি ঘোলাটে হয়ে আসা, চুল পড়া, চুলকানি, ঠোঁট ফেটে যাওয়া প্রভৃতি হতে পারে স্বল্প কিংবা দীর্ঘ মেয়াদে ভিটামিন সেবনে।

শরীরব্যথার জন্য অনেকেই দিনের পর দিন ক্যালসিয়াম সেবন করতে থাকেন। কিন্তু শরীরে ক্যালসিয়ামের মাত্রা বেড়ে গেলে শরীরের অভ্যন্তরে কোথাও জমা হতে পারে এই বাড়তি ক্যালসিয়াম। পিত্তথলি কিংবা কিডনিতে পাথর হতে পারে।

পুষ্টি উপাদানের ঘাটতিই যদি দুর্বলতার কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়, তখন চিকিৎসক পরিমিত মাত্রায় নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সাপ্লিমেন্ট বা পরিপূরক সেবন করার পরামর্শ দিতে পারেন। পুষ্টি উপাদান ঘাটতির পেছনেও কিন্তু নানা কারণ থাকে। সেই কারণ খুঁজে বের করা না হলে ঘাটতি রয়েই যাবে।

আয়রন–সমাচার

গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী নারীর জন্য সাধারণত আয়রন ট্যাবলেটের প্রয়োজন পড়ে। তবে রক্তশূন্যতা হলেই যে আয়রন বড়ি খেলে লাভ হবে, তা নয়। রক্তশূন্যতার নানা ধরন থাকে। সব ধরনের রক্তশূন্যতা আয়রনের অভাবে হয় না। তাই আয়রন সেবন করলে সব রক্তশূন্যতার উপশমও হয় না। তার ওপর আয়রনের অভাবজনিত রক্তশূন্যতার কারণটি খুঁজে বের না করতে পারলে পরে অবস্থা জটিল হতে পারে।

আয়রন সেবনের বিধিবিধানও রয়েছে। আয়রন ট্যাবলেটের সঙ্গে টকজাতীয় খাবার গ্রহণ করলে আয়রন ভালোভাবে শরীরে পরিশোষণ হয়। অন্যান্য কিছু খাবারের সঙ্গে আয়রন খেলে আবার ঘটে উল্টোটা। তা ছাড়া অন্য কিছু ওষুধের সঙ্গে আয়রন গ্রহণ করা হলে ওষুধের কার্যক্ষমতা কমে যেতে পারে। তাই আয়রন সেবনের সিদ্ধান্ত কখনোই নিজে নিজে নেওয়া উচিত নয়।

ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি

কিছু ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে ভিটামিন ডি বা ক্যালসিয়াম সেবন করার প্রয়োজন হতে পারে কারও কারও। যেমন বয়স্ক ব্যক্তি, মেনোপজ–পরবর্তী নারী, দীর্ঘমেয়াদি হাড়ক্ষয়ে আক্রান্ত ব্যক্তি। তা–ও আবার চিকিৎসকেরা সাধারণত একটা নির্দিষ্ট ডোজ বা মাত্রা ঠিক করে দেন।

প্রতিটি ভিটামিন সেবনেরই মাত্রা ও মেয়াদ আছে। যেমন অনেকেই মাসের পর মাস ভিটামিন ডি খান। কিন্তু কখনোই রক্তে ডির মাত্রা পরীক্ষা করে দেখেননি। তাই কত ইউনিট কত দিন খাবেন, না জেনেই খাচ্ছেন। ফলে ভিটামিন ডি টক্সিকোসিস হতে পারে। আবার ক্যালসিয়ামের ক্ষেত্রেও একই কথা। অতিরিক্ত ক্যালসিয়াম জমে গেলে বিপত্তি।

চাই সুষম খাদ্যাভ্যাস

সুস্থ থাকতে সুষম খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা বেশি জরুরি। রোজই প্রয়োজনীয় সব পুষ্টি উপাদান গ্রহণ করতে হবে প্রয়োজনীয় পরিমাণে। বিশেষ খেয়াল রাখুন পরিবারের শিশু, নারী ও বয়স্ক ব্যক্তির প্রতি। শিশুরা অনেক সময় পছন্দমতো খাবার না পেলে খেতে চায় না। বয়স্ক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও এ রকম হতে পারে। পরিবারের নারী সদস্যরা আবার সবার পুষ্টি নিশ্চিত করতে গিয়ে নিজেদের দিকে খেয়াল রাখেন না। কেউ দীর্ঘমেয়াদি রোগে ভুগলেও অপুষ্টির শিকার হতে পারেন।

সবার সুষম পুষ্টি ও খাদ্যাভ্যাস নিশ্চিত করতে পারলে ভিটামিন বা অন্যান্য পুষ্টি উপাদান ওষুধ হিসেবে সেবন করার প্রয়োজনই পড়ে না। তা ছাড়া যাঁরা অন্যান্য রোগের কারণে নানা রকম ওষুধ সেবন করেন, এসব ভিটামিন কিনতে গিয়ে অযথা ব্যয় করা তাঁদের জন্য কষ্টকর।

প্র স্বাস্থ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন