বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

ইনসুলিন

রক্তের শর্করা বা নিয়ন্ত্রণ করে এই হরমোন। আমরা শর্করা খেলে পরিপাক হয়, সব শেষে হয় গ্লুকোজ, এই গ্লুকোজ পরিপাক নল থেকে বেরিয়ে যায় রক্তে; আর সেখান থেকে ভ্রমণ করতে করতে যায় দেহের কোষে কোষে। কিন্তু কোষের দরজায় রয়েছে কড়া দ্বাররক্ষী এই ইনসুলিন। ইনসুলিন দ্বার খুলে দিলে তবেই গ্লুকোজ ঢুকতে পারে দেহের কোষে, এরপর হয় এর দহন; আর তখন তৈরি হয় শক্তি। এ–ই আমাদের কাজ করার শক্তি। ইনসুলিন আসে আমাদের অগ্ন্যাশয় থেকে, বিশেষ কোষ এটি নিঃসরণ করে। এর নাম বিটা সেল।

  • এমন যদি হয়, শরীর পর্যাপ্ত ইনসুলিন তৈরি করতে পারল না অথবা শরীরের কোষ ইনসুলিনের প্রতি সাড়া দিল না, তখন শরীর এই গ্লুকোজ মোকাবিলা করতে পারে না। তখন রক্তে বাড়তে থাকে গ্লুকোজ আর এই রোগের নাম ডায়াবেটিস।

  • শিশুদের হয় টাইপ–১ ডায়াবেটিস। একেবারে ইনসুলিন নিঃসরণ হয় না, তখন অবশ্য বাঁচার জন্য দিতে হয় ইনসুলিন ইঞ্জেকশন।

  • টাইপ–২ ডায়াবেটিস হয় বড়দের, যাঁরা স্থূল। এঁদের ইনসুলিন তৈরি হয় কম; কিন্তু কাজে লাগে না, শরীর এর প্রতি সাড়া দেয় না। তখন চিকিৎসক জীবনশৈলীতে পরিবর্তন, ডায়েট, ওষুধ দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করেন। মেনে চললে পূর্ণ জীবনযাপন সম্ভব।

  • একে অবহেলা করলে তৈরি হয় নানা জটিলতা। যেমন রক্তনালির ভেতরে চর্বির পলি পড়ে শক্ত হয়ে যায়। একে বলে এথারোস্ক্লেরসিস, হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, কিডনি বিকল, পায়ে হতে পারে গ্যাংগ্রিন, অন্ধত্ব, শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হয় খর্ব।

তাই সব সময় ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলবেন।

default-image

লেপটিন

আমরা আহারের পর একসময় ‘আর নয় খাওয়া পেট হয়েছে ভরাট’ এমন সংকেত আসে লেপটিন থেকে। একে বলা হয় তৃপ্তি হরমোন। তাই খেতে থাকলে লেপটিন মান বাড়তে থাকে আর ক্ষুধা কমতে থাকে। ওজন হ্রাস আর দেহের চর্বির পেছনে ইচ্ছাশক্তি কম ভূমিকা রাখে না। ব্যাপারটি জিন আর হরমোন দুটি মিলেই। সুস্থ দেহে লেপটিন মগজকে বলে দেয়, দেহে আছে যথেষ্ট মেদ, খিদে কমল। খাই খাই থাকবে না। অনেক স্থূলদেহী লেপটিনে সাড়া দেয় না, মগজ তাই লেপটিনের সংকেত ব্যাখ্যা করতে পারে না; আর স্থূল লোকটি খেতেই থাকেন।

কী কারণ? অনেকে বলেন এর পেছনে আছে জিন, ডায়েট আর প্রদাহ। জিন বাগে আনা না গেলেও বাকি দুটি সামাল দেওয়া যায়। প্রদাহ হওয়ার কারণ ত্রুটিপূর্ণ খাবার আর চাপ। প্রক্রিয়া করা খাবার বাদ দিন, তবে প্রোটিন যথেষ্ট খাবেন। সেই সঙ্গে ব্যায়াম আর সুনিদ্রা দরকার।

গ্লুকাগন

এটি হলো ইনসুলিনের বিরুদ্ধ হরমোন। ইনসুলিন রক্তের গ্লুকোজ কমিয়ে রাখতে চেষ্টা করে আর গ্লুকাগন চায় বাড়াতে। এই দুটি হরমোনের খেলায় স্থিতি থাকে রক্তের গ্লুকোজ। দুটিই নিঃসৃত হয় অগ্ন্যাশয় থেকে ক্রমে ভিন্ন কোষ থেকে, গ্লুকাগন নিঃসৃত হয় আলফা কোষ থেকে। অনেক সময় হাইপো হলে গ্লুকাগন এক ভরসা।

default-image

কোর্টিসল

অনেক সময় একে বলা হয় স্ট্রেস হরমোন, শারীরবৃত্তে এর অনেক ভূমিকা। খুব স্ট্রেস হলে রক্তের সুগার থাকে না সুস্থিত, কমে আসে তখন গ্লুকাগন একে বাড়াতে চেষ্টা করে আর সেই সঙ্গে কোর্টিসল। কোর্টিসল নিঃসৃত হয় এড্রিনাল গ্রন্থি থেকে; আর তখন শুরু হয় নব গ্লুকোজ জনন, বিজ্ঞানে বলে নিও গ্লুকো জিনেসিস। প্রোটিন থেকে তৈরি হয় গ্লুকোজ। স্ট্রেস হলে দরকার এনার্জি। এদিকে কোর্টিসল মেদ কোষকে নির্দেশ দেয় মেদ ভেঙে শক্তি জোগাতে। ক্ষণকালের জন্য কোর্টিসল ভরসা হলে, দীর্ঘদিনের মান বেড়ে হতে পারে নানা অসুখ।

ঘ্রেলিন

একে ‘ক্ষুধা হরমোন’ও বলে। এই হরমোন বলে দেয় খিদে লেগেছে। শক্তি নিয়ন্ত্রণে এর অনেক অবদান। ঘ্রেলিন নিঃসৃত হলো। পাকস্থলি খালি, দেহ তৈরি হলো খাওয়ার জন্য।

এই লেপটিন আর ঘ্রেলিন দুটি কাজ করে সমন্বিতভাবে; আর দেহের ওজন ও এনার্জি থাকে ঠিকঠাক।

টেসটোস্টেরন

টেসটোস্টেরনকে পুং হরমোন বলা হয়। পুং যৌন হরমোন। তবে উভয় লিঙ্গের জন্য আছে এর গুরুত্ব। অবশ্য পুরুষের ব্যবহার বেশি এই হরমোনের। যৌন কামনা, কাজকর্ম। পেশির গঠন, হাড়ের স্বাস্থ্য, পুরুষালি ভাব ও কেশ এই হরমোনের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।

আমাদের হরমোনের ভারসাম্য ঠিক থাকলে অনেক কিছু ঠিক থাকে; আর যদি মনে হয় ঠিক নেই, তাহলে ডাক্তার আছেন, ভয় কী!

প্র স্বাস্থ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন