বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

করোনার টিকা নেওয়া থাকলেও তাহলে অমিক্রনের ক্ষেত্রে নিশ্চিন্ত থাকা যাচ্ছে না? তাহলে বুস্টার ডোজেরই–বা প্রয়োজনীয়তা কতটুকু?

এ বি এম আবদুল্লাহ: সম্প্রতি যুক্তরাজ্য একটি গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করেছে। ফাইজারের দুটি ডোজ সম্পন্ন করেছেন, এমন ব্যক্তির দেহে ২৫ সপ্তাহ পরে অমিক্রনকে প্রতিরোধ করার কার্যকারিতা ৪০ শতাংশে নেমে আসে, ডেলটার ক্ষেত্রে যা ছিল ৬০ শতাংশ। তার মানে অমিক্রনের বিপরীতে টিকার দুটি ডোজের কার্যকারিতা যথেষ্ট কম। এর আগে ইসরায়েলের বিজ্ঞানীরা ৪৮ লাখ মানুষের ওপর করা একটি গবেষণা করে দেখিয়েছেন যে দুটি ডোজ সম্পন্ন করার চার মাস পর প্রতি হাজারে ১ দশমিক ৭ জন পুনরায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকেন, কিন্তু ৬ মাস পর এই হার দ্বিগুণ—প্রতি হাজারে ৩ দশমিক ৩। ইসরায়েলের বিজ্ঞানীরা ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তি যাঁরা ফাইজারের দুটি ডোজ পেয়েছেন, তাঁদের বুস্টার ডোজ দেওয়ার ফলে পুনরায় কোভিড হওয়ার হার আর জটিলতার হার অনেক কমে বলে গবেষণায় প্রকাশ করেছেন। মার্কিন বিজ্ঞানীরা বলছেন, বুস্টার নেওয়ার পর প্রতিরোধ কার্যকারিতা ৭৫ থেকে ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব।

এই সব গবেষণার আলোকে বলা যায় যে অমিক্রনের বিপরীতে করোনার টিকা পুরোপুরি কার্যকর নয়। তাই টিকা দেওয়া থাকলেই নিশ্চিন্ত হওয়া যাচ্ছে না। সে কারণেই বুস্টার ডোজের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। যেহেতু বুস্টার ডোজ আরও আগেই অনেক দেশে চালু হয়েছে এবং নিরাপদ ও কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে, সেহেতু সরকারের এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই।

default-image

বুস্টার ডোজ কে নিতে পারবেন?

এ বি এম আবদুল্লাহ: দুই ডোজ টিকা গ্রহণের পর ছয় মাস বা এক বছর পার হয়েছে, এমন ব্যক্তিরা বুস্টার নিতে পারবেন। তবে কিছু মানুষকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, যেমন প্রথমে ষাটোর্ধ্ব আর জটিল শারীরিক রোগ (ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি রোগ, হৃদ্‌রোগ, ক্যানসার, শ্বাসতন্ত্রের রোগ ইত্যাদি) আছে এমন ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী এবং সব সম্মুখসারির মানুষ (চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সাংবাদিক)। এরপর টিকার প্রাপ্যতা অনুযায়ী হয়তো পর্যায়ক্রমে অন্যরাও পাবেন।

যেকোনো ধরনের করোনার টিকা গ্রহণকারী বুস্টার ডোজ নিতে পারবেন?

এ বি এম আবদুল্লাহ: হ্যাঁ, যেকোনো ধরনের করোনার টিকা গ্রহণকারীই বুস্টার ডোজ নিতে পারবেন। বুস্টারে একই ধরনের বা অন্য যেকোনো ধরনের টিকা গ্রহণ করা যাবে। তবে অনেক বিজ্ঞানী ভিন্ন ধরনেরটাই গ্রহণ করতে পরামর্শ দিচ্ছেন। একে ‘মিক্স অ্যান্ড ম্যাচ’ বলা হয়। এতে নিউট্রালাইজিং অ্যান্টিবডি বেশি তৈরি হয় বলে ধারণা করা হয়।

default-image

বুস্টার ডোজ গ্রহণে কি বাড়তি কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হওয়ার ঝুঁকি আছে?

এ বি এম আবদুল্লাহ: প্রথম বা দ্বিতীয় ডোজে যে ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে, যেমন অবসাদ, ক্লান্তি, মৃদু জ্বর, শরীর বা মাংসপেশি ব্যথা, মাথাব্যথা—সেগুলো বুস্টার ডোজেও হতে পারে। জটিল কোনো প্রতিক্রিয়ার রেকর্ড এখনো পাওয়া যায়নি। তবে যাঁদের প্রথম ডোজগুলোতে জটিল অ্যালার্জি বা হাইপারসেনসিটিভিটি হয়েছে, তাঁরা বুস্টার নেওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন।

বুস্টার ডোজ গ্রহণ করলে কি অমিক্রন বা আরও নতুন ধরন মোকাবিলা করা সম্ভব? নাকি প্রতিবছরই এ রকম বুস্টার গ্রহণ করতে হবে?

এ বি এম আবদুল্লাহ: সে কথা বলার সময় এখনো আসেনি। করোনার টিকা আসার পর থেকে বিশ্বজুড়ে করোনায় জটিলতা ও মৃত্যুহার যে কমেছে, এ বিষয়ে তো কোনো সন্দেহ নেই। বুস্টার নেওয়ার পর করোনা আর হবে না, তা নিশ্চিত করে বলা যায় না, তবে জটিলতা ও মৃত্যুহার কমবে। স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর চাপ কমবে। বিধিনিষেধ করে অর্থনৈতিক ক্ষতির ঝুঁকিতে পড়তে হবে না।

তবে মনে রাখা দরকার, করোনার বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অস্ত্র কিন্তু স্বাস্থ্যবিধি পালন। মাস্ক পরা, হাত ধোয়া ও ভিড় এড়িয়ে চলা করোনা প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়, তা যেন আমরা ভুলে না যাই। বিশ্বজুড়ে অমিক্রন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে, আমরাও তাই ঝুঁকির বাইরে নই। এখনই সচেতন হতে হবে। যেভাবে আমরা মাস্ক ছাড়া ঘুরছি, প্রচুর জনসমাগম আর উৎসব অনুষ্ঠান করছি, ভ্রমণ করছি, তাতে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ আনতে হবে। সীমান্ত ও বন্দরগুলোকে সতর্ক অবস্থায় থাকতে হবে। বিদেশ থেকে আসা মানুষের ওপর নজরদারি বাড়াতে হবে। করোনার উপসর্গ অনেক সময় ফ্লুর মতো মৃদু হচ্ছে তাই যেকোনো ধরনের জ্বর হলেই আইসোলেশনে থাকতে হবে। অসুস্থ ব্যক্তি যেন জনসমাগম, উৎসব অনুষ্ঠানে বা ভ্রমণে না যান, সে বিষয়ে সতর্ক থাকবেন। সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে বিলম্ব হওয়ার কারণে যেন পরিতাপ না করতে হয়।

প্র স্বাস্থ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন