বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

কিন্তু বেশির ভাগ রোগীই এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কমবেশি ব্যর্থ। বাংলাদেশের বেলায় তা আরও হতাশাব্যঞ্জক। গবেষণা বলছে, বাংলাদেশের ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ ডায়াবেটিস রোগীর নিয়ন্ত্রণ লক্ষ্যমাত্রার বাইরে। অথচ সবাই সমান সুযোগ পেলে বা সচেতন হলে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব। বাংলাদেশের একটি বড়সংখ্যক ডায়াবেটিস রোগী আর্থসামাজিক কারণে ও সচেতনতার অভাবে নিয়ন্ত্রণের বাইরে রয়ে যাচ্ছেন। সে জন্যই সবার জন্য বা সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার কথা জোর দিয়ে বলা হচ্ছে।

ডায়াবেটিস এমন একটি রোগ, যেটিকে প্রতিরোধ করার যথেষ্ট সুযোগ আছে (প্রতি দুজনে একজনের ক্ষেত্রে)। কিন্তু একবার ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হলে বাকি জীবন ডায়াবেটিস নিয়েই কাটাতে হবে এবং আতঙ্কের সঙ্গে প্রহর গুনতে হবে যে কখন ডায়াবেটিস–সংক্রান্ত জটিলতাগুলো দেখা দেয়। তাই সর্বস্তরের মানুষকে জেনে বুঝে সচেতনভাবে ডায়াবেটিস প্রতিরোধের কর্মযজ্ঞে নিজের সামর্থ্য অনুসারে অংশগ্রহণ করতে হবে। ডায়াবেটিস নিয়ে নিরন্তর গবেষণা চলছে, নতুন নতুন ওষুধ যেমন আবিষ্কৃত হয়েছে, তেমনই প্রতিরোধ ব্যবস্থাপনার কৌশলও পরিবর্তিত হচ্ছে। কিন্তু সব কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রে আছে বর্তমানে ডায়াবেটিসের রোগী ও ভবিষ্যতে যাদের ডায়াবেটিস হওয়ার আশঙ্কা আছে।

বাংলাদেশের মতো মধ্যম আয়ের দেশে ডায়াবেটিস চিকিৎসা যেমন জরুরি, তার চেয়ে বেশি জরুরি ডায়াবেটিস প্রতিরোধের সর্বাত্মক সুগভীর কর্মকাণ্ড। রাষ্ট্রকে ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে নিয়ে এ কাজে নেতৃত্ব দিতে হবে, যাতে সর্বস্তরের মানুষকে যুক্ত করা সম্ভব হয়। পাঠ্যসূচি থেকে শুরু করে নগর-পরিকল্পনা, বিদ্যালয় স্থাপনসহ সব ক্ষেত্রে ডায়াবেটিস প্রতিরোধসহ মেটাবলিক রোগগুলো নিয়ন্ত্রণের কাঠামোগত উন্নতি করতে হবে।

আপনি কি ডায়াবেটিসের ঝুঁকিতে আছেন

আপনার ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি কতটুকু, তা জানতে আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশনের ওয়েবসাইটে (www.diabetes.org>risk ) গিয়ে কিছু ব্যক্তিগত তথ্য দিলেই তার জবাব পাবেন। যে বিষয়গুলো আপনার ঝুঁকি বাড়ায়, তা হলো—

  • বয়স ৪০ বছরের বেশি

  • পরিবারে মা-বাবা বা নিকটাত্মীয়র ডায়াবেটিসের ইতিহাস

  • ওজনাধিক্য বা স্থূলতা, বিশেষ করে শরীরের মধ্যভাগে চর্বির পরিমাণ বেশি (অ্যাবডোমিনাল ওবেসিটি)

  • নারীদের গর্ভকালীন ডায়াবেটিসের ইতিহাস

  • কায়িক শ্রমের অভাব বা অলস জীবনযাপন

  • প্রি ডায়াবেটিস বা বর্ডার লাইন ডায়াবেটিসের ইতিহাস

  • রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইড বেশি, এইচডিএল কম যাদের

  • যাঁদের উচ্চ রক্তচাপ আছে

ডায়াবেটিস কি প্রতিরোধ করা যায়

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সচেষ্ট ও সচেতন হলে টাইপ ২ ডায়াবেটিস প্রায় ৫০ শতাংশ ক্ষেত্রে প্রতিরোধ করা সম্ভব। কীভাবে তা করবেন?

  • সুষম স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ করুন

  • নিয়মিত ব্যায়াম করুন ও শারীরিকভাবে সচল থাকুন

  • আদর্শ ওজন বজায় রাখুন

  • যাঁদের পারিবারিক ইতিহাস বা অন্যান্য ঝুঁকি আছে, তাঁরা নিয়মিত রক্তের শর্করা মাপুন

লেখক: সহযোগী অধ্যাপক, এন্ডোক্রাইনোলজি ও মেটাবলিজম বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা এবং সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটি

প্র স্বাস্থ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন