বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

চাই সচেতনতা

প্রথমত, জানতে হবে যে স্ট্রোক একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ। সঠিক জীবনযাত্রা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার মাধ্যমে স্ট্রোক প্রতিরোধ করা সম্ভব। সঠিক ওজন, রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের নিয়ন্ত্রণ, চর্বিযুক্ত খাবার পরিহার, ধূমপান পরিহার করা এবং নিয়মিত শরীরচর্চার মাধ্যমে স্ট্রোকের ঝুঁকি কমিয়ে আনা সম্ভব।

এসবের পাশাপাশি প্রয়োজন স্ট্রোকের চিকিৎসা নিয়ে সচেতন হওয়া। স্ট্রোকের রোগীরা প্রায়ই অনেক দেরি করে হাসপাতালে পৌঁছান। ততক্ষণে রোগীকে সঠিক চিকিৎসা দেওয়ার আর সময় থাকে না। অথচ সময়মতো চিকিৎসা নিলে ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা যায়।

তাই স্ট্রোকের লক্ষণ নিয়ে ব্যাপক প্রচারণা ও সচেতনতা প্রয়োজন। রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে আনা সম্ভব হলে স্ট্রোকের ধরন অনুযায়ী রোগীর ত্বরিত চিকিৎসা করে তাঁকে সুস্থ করে তোলা সম্ভব।

দ্রুত করুন

স্ট্রোকের লক্ষণ সহজে চেনার জন্য বিশ্বব্যাপী ‘বি ফাস্ট বা দ্রুত করুন’ বাক্যবন্ধ ব্যবহার করা হয়। এ কারণে এবারের বিশ্ব স্ট্রোক দিবসের স্লোগান হলো—প্রিসিয়াস টাইম বা প্রতিটি মুহূর্ত মূল্যবান। ইংরেজি বি ফাস্ট শব্দবন্ধ দিয়েই স্ট্রোকের লক্ষণ বা উপসর্গ মনে রাখা সম্ভব।

  • বি অর্থ ব্যালেন্স বা ভারসাম্য। হঠাৎ করে ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যাওয়া।

  • ই অর্থ আই বা দৃষ্টি। হঠাৎ চোখে দেখতে সমস্যা।

  • এফ অর্থ ফেস বা মুখমণ্ডল। হঠাৎ মুখের একদিক বাঁকা হয়ে যাওয়া।

  • এ অর্থ আর্ম বা বাহু। হঠাৎ করে এক হাত দুর্বল হয়ে যাওয়া।

  • এস অর্থ স্পিচ বা হঠাৎ কথা জড়িয়ে আসা।

  • টি অর্থ টাইম বা সময়। এসব লক্ষণ দেখামাত্রই যত দ্রুত সম্ভব রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে আসার চেষ্টা করা।

স্ট্রোকের রোগীর পরিচর্যা

বাড়িতে স্ট্রোকের রোগীর পরিচর্যা নিয়ে সচেতনতার প্রয়োজন আছে। একজন স্ট্রোক রোগী কিছুদিনের মধ্যেই আবার স্ট্রোকের শিকার হতে পারেন, যা আগের চেয়ে ভয়াবহ হয়ে থাকে। তাই রোগীর পরিচর্যার পাশাপাশি পুনরায় স্ট্রোক যেন না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকা উচিত।

এ ছাড়া স্ট্রোকের রোগীরা প্রায়ই ঠিকমতো খাবার খেতে বা গিলতে পারেন না, ফলে অপুষ্টির শিকার হন। তাঁদের জন্য বিশেষভাবে খাদ্য গ্রহণের ব্যবস্থা করতে হতে পারে। কারও কারও এমনকি নাকে নল দিয়ে তরল খাবার দিতে হতে পারে। জোর করে খাবার গেলাতে গেলে ফুসফুসে খাবারের কণা চলে গিয়ে মারাত্মক অ্যাসপিরেশন নিউমোনিয়া হতে পারে।

দীর্ঘদিন শয্যাশায়ী থাকার কারণে বেড সোর (চাপজনিত ঘা) যাতে না হয়, সে জন্য বিশেষ বিছানা, বারবার অবস্থান পরিবর্তন করা দরকার। এ ছাড়া পায়ের ধমনিতে রক্ত জমা বা ডিভিটি হয় কি না, সেদিকে লক্ষ লাখতে হবে। অনেকে আবার প্রস্রাব-পায়খানার নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলতে পারেন। সে ক্ষেত্রে তাঁদের পরিচ্ছন্নতার দিকে নজর দিতে হবে। কারও কারও ক্যাথেটার ব্যবহার করতে হয়।

পক্ষাঘাতগ্রস্ত হাত–পায়ের শক্তি ফিরিয়ে আনতে ফিজিওথেরাপি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই বাড়িতে নিয়মিত ফিজিওথেরাপি করতে হবে। সন্ধির জড়তা কাটাতেও নিয়মিত ব্যায়াম দরকার। স্ট্রোকের পর পরিচর্যার অন্যতম লক্ষ্য হলো রোগীকে স্বাবলম্বী করে তোলা। সেই লক্ষ্যে কাজ করে যেতে হবে। কথার জড়তা কাটাতেও ফিজিওথেরাপি গুরুত্বপূর্ণ।

চিকিৎসা চাই দ্রুত

স্ট্রোকের চিকিৎসা নির্ভর করে এর প্রকারভেদের ওপর। স্ট্রোক মূলত দুই ধরনের হয়ে থাকে। মস্তিষ্কের রক্তনালিতে রক্ত জমাট বেঁধে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়ে যে স্ট্রোক হয়, তাকে ইসকেমিক স্ট্রোক বলা হয়। আর মস্তিষ্কের কোনো রক্তনালি ছিঁড়ে গিয়ে রক্ত মস্তিষ্কের ভেতর জমলে যে স্ট্রোক হয়, তাকে হেমোরেজিক স্ট্রোক বলা হয়। এই দুই ধরনের স্ট্রোকেরই আধুনিক চিকিৎসা এখন বাংলাদেশে পাওয়া যায়।

মস্তিষ্কের কোনো অংশে রক্ত জমাট বেঁধে যে স্ট্রোক হয়, তার চিকিৎসায় বিশ্বব্যাপী স্ট্রোক থ্রম্বোলাইসিস আধুনিক ও জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসা। এই প্রক্রিয়ায় একটি ওষুধ ব্যবহার করে মস্তিষ্কের জমাটবদ্ধ রক্ত গলিয়ে রক্ত চলাচল আবার স্বাভাবিক করা হয়। তবে এই চিকিৎসার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে সময়। স্ট্রোকের লক্ষণ দেখা যাওয়ার ৪ ঘণ্টা ৩০ মিনিটের মধ্যে রোগীকে এই চিকিৎসা দিতে হয়। তার কারণ হলো মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বেঁধে রক্ত চলাচল ব্যাহত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মস্তিষ্কের কোষগুলো নষ্ট হতে শুরু করে। তাই সময়মতো রক্ত চলাচল স্বাভাবিক না করা গেলে রোগীর মস্তিষ্কের গুরুত্বপূর্ণ কোষগুলোকে বাঁচানোর সম্ভাবনা কমে যায়।

রোগীকে দ্রুততম সময়ে হাসপাতালে নিয়ে এলেও প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা, বিশেষত সিটি স্ক্যান ছাড়া চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব হয় না। তাই এই সময়টুকুও গুরুত্বপূর্ণ। এমন একটি হাসপাতালে নিতে হবে, যেখানে এই ধরনের পরীক্ষা ও চিকিৎসার সুব্যবস্থা আছে।

প্র স্বাস্থ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন