বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আড়ম্বর কমিয়ে পূজা কমিটিকে জনহিতকর কাজে উদ্যোগ নিতে হবে। খোলামেলা মণ্ডপ করতে হবে, বাইরে থেকে প্রতিমা ও মণ্ডপ দর্শনের সুযোগ থাকতে হবে। পূজার নৈবেদ্য থেকে বিসর্জন—সবকিছুতেই কোভিড বিধি মানতে হবে। সন্ধিপূজা-সিঁদুর খেলায় শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।

অন্যদিকে পূজা শুরুই হয় কেনাকাটা দিয়ে। কেনাকাটা করতে হবে সীমিত পরিসরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে। এ ক্ষেত্রে অনলাইন কেনাকাটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এতে সময়ও বাঁচবে।

উৎসব আয়োজনের সূচনা থেকে বিভিন্ন পূজাস্থলে মণ্ডপ তৈরির কাজে নিয়োগ পান হাজার হাজার শিল্পী, কারিগর ও শ্রমিক। অন্যদিকে পূজা শুরুর বেশ কয়েক দিন আগে থেকেই ঢল নামে ঢাকিদের। এসব ঢাকিরা পূজার দিনগুলোকে ঢাকঢোল, কাঁসরঘণ্টার আওয়াজে মুখর করে রাখেন। দুর্গাপূজার সঙ্গে যুক্ত কমিটির কর্মকর্তা থেকে সদস্য, ঢাকি থেকে পুরোহিত—প্রত্যেককেই টিকা নিতে হবে।

মৌসুমি অসুখ-বিসুখ

শরতের এই সময়টা আবহাওয়া পরিবর্তনের। সারা দিন গরম আর শেষ রাতে ঠান্ডা। কোভিড ছাড়াও আবহাওয়ার তারতম্যের কারণে সর্দি-কাশি, জ্বর পূজার আনন্দে বিঘ্ন ঘটাতে পারে। তাই অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে গরমের ঘাম কিংবা বৃষ্টির পানি যেন শরীরে না জমে যায়, সে ক্ষেত্রে অবশ্যই ভেজা কাপড় দ্রুত পরিবর্তন করতে হবে, শরীর মুছে নিতে হবে। সারা দিন রোদে ঘুরে বাসায় ফিরেই হঠাৎ খুব ঠান্ডা পানি পান না করাই ভালো, এতে সর্দি বা ঠান্ডা লাগার ভয় থাকে। একটু বিশ্রাম নিয়ে, তারপর পানি পান করতে হবে।

আর যদি ঠান্ডা লেগেই যায়, তবে হালকা গরম পানি, লেবু-আদা দিয়ে লাল চা বারবার পান করলে কিছুটা উপশম হতে পারে। শরীরের অক্সিজেন দেখতে হবে নিয়মিত। কুসুম গরম জলে গড়গড়া করলে বা ভাপ নিলেও কিছুটা আরাম হতে পারে। দু-এক দিনের মধ্যে উন্নতি না হলে বা শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত কোভিড টেস্ট করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

পূজার হই–হুল্লোড়ের সময় পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে। পানিস্বল্পতা গরমের মধ্যে অবহেলা করলে তা মারাত্মক হয়ে যেতে পারে। প্রচণ্ড গরমে ঘোরাঘুরির ফলে শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দেয়, শরীর সহজেই দুর্বল হয়ে পড়ে। অবশ্যই সুপেয় ও বিশুদ্ধ পানি নিজেই বহন করবেন। এ ছাড়া ঘোরাঘুরির সময় বাইরের অস্বাস্থ্যকর খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। দূষিত পানি বা বাসি-পচা খাবার থেকে ডায়রিয়াসহ পানিবাহিত নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

অতিরিক্ত গরমে যেহেতু ঘামের সঙ্গে পানি ও লবণ দুই-ই বের হয়ে যায়, সেহেতু বিশুদ্ধ পানির পাশাপাশি খাওয়ার স্যালাইন, ডাবের পানি, লেবুর শরবত ইত্যাদি পান করলে শরীরের প্রয়োজনীয় পানি ও লবণের ঘাটতি পূরণ হবে।

খাবারদাবার

অষ্টমীর লুচি-ডাল-তরকারি, নানা পদের মিষ্টি, পায়েস আর নবমীর কচি পাঁঠার ঝোল—এসব কি না খেলে চলে! পূজার আনন্দ আর এসব ভালো খাওয়াদাওয়ায় শুধু নিজেদের নিয়ে মেতে থাকলে চলবে না, বাড়ির বয়োবৃদ্ধ এবং রোগীদের প্রতি সজাগ থাকতে হবে। যাঁরা বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি রোগ যেমন উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্‌রোগ, কিডনি রোগ কিংবা ডায়াবেটিসে ভুগছেন, তাঁদের এসব খাবার গ্রহণে সতর্ক থাকতে হবে। ভাজাপোড়া, অধিক তেল, মসলাজাতীয় খাবার যতটা পারা যায় কম খেতে হবে।

পূজার কেনাকাটা, পূজা দেখা কিংবা অনুষ্ঠান আয়োজনে যদি বয়োজ্যেষ্ঠরা যুক্ত থাকেন, তবে তাঁদের খাবার, খাবারের সময় ও বিশ্রামের প্রতি খেয়াল রাখা উচিত।

একটানা ছোটাছুটি না করে মাঝেমধ্যে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিতে হবে। এই দিনগুলোতে দীর্ঘক্ষণ উপবাস থাকা এবং অধিক ভোজন করার ফলে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা হতে পারে। বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগীদের এ সময়ে অনিয়মের ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা অনেক কমে বা বেড়ে যেতে পারে। ফলে মাথা ঘোরে, মাথা ঝিমঝিম করে, চোখে অন্ধকার লাগে, শরীর অস্থির লাগে, মেজাজ খিটমিটে হয় ও শ্বাসপ্রশ্বাস দ্রুত হতে পারে। এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত আক্রান্ত ব্যক্তিকে মিষ্টিজাতীয় খাবার খেতে দিতে হবে এবং রক্তের শর্করা দেখতে হবে। এ ছাড়া হার্ট, কিডনি, লিভারের রোগীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা উচিত।

শিশুদের প্রতি সচেতনতা

শিশুদের স্বাস্থ্য সব সময় সংবেদনশীল। অল্প ঘামেই পানিস্বল্পতা হতে পারে, একটু বৃষ্টির পানিতে ভিজলেই ঠান্ডা লেগে যেতে পারে। তাই শিশুদের যতটা সম্ভব কড়া রোদ-বৃষ্টি থেকে নিরাপদে
রাখতে হবে, বাড়ি থেকে ছোট বোতলে পানি নিতে হবে, যাতে তাদের একটু পরপর পানি পান
করানো যায়।

সারা দিনের ঘোরাফেরার পর বাড়ি ফিরেই বাইরের কাপড়ে বিছানায় শরীর এলিয়ে দিলে হবে না। বাইরে থেকে ফিরে হালকা গরম পানি দিয়ে গোসল করলে শরীরের পরিশ্রমজনিত ব্যথা ও ক্লান্তি অনেকটা দূর হয়ে যাবে। জীবাণুও দূর হবে। দিন শেষে নির্বিঘ্ন ঘুম হলে পূজার পরের দিনটিকে উপভোগ করা যাবে।

লেখক: রেজিস্ট্রার, ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিন বিভাগ, বারডেম জেনারেল হাসপাতাল, ঢাকা

প্র স্বাস্থ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন