বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সতর্কবার্তা

২০২০ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী আমাদের দেশে নারীদের ক্যানসারের ১৯ শতাংশই হলো স্তন ক্যানসার, মানে ১ নম্বরে। নারী–পুরুষ মিলিয়ে আক্রান্তের সংখ্যার দিক থেকে ৩ নম্বরে, মানে মোট ক্যানসারের ৮ দশমিক ৩ শতাংশ। দেশে ১৩ থেকে ১৫ হাজার রোগী নতুন করে বছরে স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হচ্ছেন। আরও ভয়াবহ বিষয় হলো, তাঁদের মধে৵ বেশির ভাগের বয়স ১৫ থেকে ৪৫ বছর। মানে কর্মক্ষম নারীগোষ্ঠীর একটি বিরাট অংশ এই রোগের ঝুঁকিতে রয়েছে। আরেকটি পরিসংখ্যান বলছে, দেশে ১৫ থেকে ৪৫ বছর বয়স্ক নারীর অকালমৃত্যুর ২১ শতাংশ হচ্ছে স্তন ক্যানসারের কারণে।

২০১৭ সালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একটি গবেষণায় দেখা যায়, অধিকাংশ শনাক্ত রোগীর বয়স ২৫ থেকে ৫০ বছর। এক–তৃতীয়াংশ রোগী রোগের চতুর্থ পর্যায়ে এসে শনাক্ত হয়েছেন। আর স্তন ক্যানসারের সবচেয়ে খারাপ ধরন টিএনবিসি মোট ক্যানসারের প্রায় ২০ শতাংশের বেশি, যা আন্তর্জাতিক পরিমাপের তুলনায় বেশি। তার মানে আমাদের দেশে অপেক্ষাকৃত কম বয়সে বেশি জটিল ধরনের স্তন ক্যানসার রোগী বেশি পাওয়া যাচ্ছে, যা এভাবে বাড়তে থাকলে সামাল দেওয়া মুশকিল হবে।

কতটুকু জানেন?

বাংলাদেশে পরিচালিত জরিপ বলছে, মাত্র এক–তৃতীয়াংশ নারী স্তন ক্যানসার বিষয়ে আগে থেকে কিছুটা জানেন। ২০ শতাংশ নারীর এই ক্যানসার সম্পর্কে কোনো ধারণাই নেই। ৭০ শতাংশ নারী জানেন না স্তন ক্যানসারের ঝুঁকিগুলো কী। ১০ শতাংশ নারীর ধারণা তাদের স্তন ক্যানসার হয়েছে আগের কোনো পাপের কারণে। মাত্র ৬ শতাংশ নারী ম্যামোগ্রাফির নাম জানেন। ৩০ শতাংশ নারী স্তন ক্যানসার নিরীক্ষণ (স্ক্রিনিং) সম্পর্কে শুনেছেন; কিন্তু কীভাবে করাতে হয় তা জানেন না।

এখনই সময়

একটি গণমুখী জাতীয় স্তন ক্যানসার নীতিমালা প্রণয়ন জরুরি হয়ে পড়েছে। এর লক্ষ্য হবে—

  • স্তন ক্যানসারকে একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ হিসেবে আখ্যায়িত করে সচেতনতা বাড়ানো;

  • ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীকে চিহ্নিত করা;

  • ঝুঁকিপূর্ণ রোগীকে ব্যাপক গণ–স্ক্রিনিংয়ের আওতায় নিয়ে আসা;

  • সামাজিক ও পারিবারিক কুসংস্কারের মোকবিলায় গণসচেতনতা বাড়ানো;

  • চিকিৎসা ও মানসম্মত প্যাথলজি পরীক্ষার সুযোগ সহজলভ্য করা।

আমাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থা প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত। এ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে জনসচেতনতা বাড়াতে পারলে স্তন ক্যানসারের রোগীর সংখ্যা এক–তৃতীয়াংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব হবে।

লেখক: সহকারী অধ্যাপক, অনকোলজি ও রেডিওথেরাপি বিভাগ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল

প্র স্বাস্থ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন