করোনাকালে চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের আক্রান্ত হওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে হাসপাতাল বা ক্লিনিকের ওয়ার্ড এবং এর আশপাশের জায়গা সঠিকভাবে জীবাণুমুক্ত না হওয়া। আবার স্বাস্থ্যকর্মীদের কাছ থেকে আক্রান্ত হতে পারেন সাধারণ রোগীরা।

নিম্নমানের সুরক্ষা সামগ্রী ছাড়াও হাসপাতাল থেকে করোনা সংক্রমণের একটি কারণ হলো বায়োসেফটি-সংক্রান্ত প্রশিক্ষণের অভাব। হাসপাতাল, আরটিপিসিআর ল্যাব ও নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেগেটিভ প্রেশার রুম ও সঠিকভাবে বায়ো হ্যাজার্ড রক্ষণাবেক্ষণ ও ডিসপোজাল না করায় এখানে নিয়োজিত ও দায়িত্বরত লোকজনের মধ্যে করোনার সংক্রমণ বাড়ছে।

বিজ্ঞাপন

হাসপাতাল ও ল্যাব জীবাণুমুক্ত রাখার বিষয়ে অণুজীববিজ্ঞানীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। আমাদের দেশের সব স্যানিটাইজারে অ্যালকোহল থাকে, যা করোনাভাইরাস ধ্বংসের জন্য কার্যকর। অ্যালকোহল থাকার কারণে তা শরীরের অভ্যন্তরীণ অংশ যেমন মুখ, নাক প্রভৃতির ভেতরে ব্যবহার করা সম্পূর্ণ নিষেধ।

স্যানিটাইজেশনের ক্ষেত্রে হাইপোক্লোরাস অ্যাসিড ব্যবহার করার প্রচলন শুরু করা উচিত। এতে অ্যালকোহল নেই বলে নাক ও মুখের ভেতরে ব্যবহারযোগ্য। হাইপোক্লোরাস অ্যাসিড মাত্র ২ মিনিটে ৯৯ দশমিক ৯২ শতাংশ করোনাভাইরাস ধ্বংস করতে পারে। এই অ্যাসিড শরীর, কোনো শাকসবজি, ফল, বাসা ও অফিসের ব্যবহার্য বস্তু জীবাণুমুক্ত করতে ব্যবহার করা যাবে।

লেখক: অধ্যাপক, অণুজীববিজ্ঞান বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, সাভার, ঢাকা

মন্তব্য করুন