বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

রাষ্ট্রপতির কলেজ

ইটনা উপজেলার ধনপুর ইউনিয়নের কাটৈর গ্রামের জমিদার ছিলেন গুরুদয়াল সরকার। ১৯৪৫ সালে তাঁর দেওয়া ৫০ হাজার টাকা অনুদানেই গড়ে উঠেছিল কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক এই শিক্ষাঙ্গন। দেখতে দেখতে ৭৬ বছর পেরিয়েছে। গত দিনগুলোতে বহু কৃতী শিক্ষার্থী পাস করে বেরিয়েছেন এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে।

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এই কলেজেরই ছাত্র ছিলেন। সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দীন আহমদও গুরুদয়াল কলেজে উচ্চমাধ্যমিক পড়েছেন। এ ছাড়া সাবেক প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেন, সাবেক মন্ত্রী ও সেনাপ্রধান লে. জেনারেল (অবঃ) নুরউদ্দীন খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আ মান্নান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আলাউদ্দিন আহমেদ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য দুর্গাদাস ভট্টাচার্য ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মো. সিরাজুল ইসলাম বীর বিক্রম এই কলেজেরই ছাত্র ছিলেন।

গুরুদয়াল কলেজের একটি তিনতলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এটিকে তিনতলা থেকে পাঁচতলা করা হচ্ছে। সাবেক কৃতী ছাত্র, রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের নামেই এই ভবনের নামকরণ করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি থেকে কলেজের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষকেও 'অ্যালামনাই' হিসেবে পেয়ে শিক্ষার্থীরা বড় স্বপ্ন দেখার সাহস পাচ্ছেন।

স্বপ্নরা ডানা মেলে

অধ্যক্ষ মো. জামালুর রহমান বলেন, শিক্ষক–কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ কলেজের সবার আন্তরিক প্রয়াসে কলেজটি উত্তরোত্তর সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে চলেছে। এবারও এ কলেজ থেকে প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থী দেশের বিভিন্ন সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। এ ছাড়া প্রতিবছর এই কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ছাত্রছাত্রী মেডিকেল, প্রকৌশল ও অন্যান্য স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে জায়গা করে নিচ্ছে। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর অনেক ছাত্রছাত্রী বিসিএস ক্যাডার সার্ভিসে, কেউ কেউ উচ্চতর গবেষণা কিংবা অন্যান্য চাকরিতে, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে স্বমহিমায় প্রতিষ্ঠিত হয়ে কলেজের সুনাম ছড়িয়ে দিচ্ছে।

কলেজের অর্থনীতি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্রী শায়লা শারমিন বলেন, 'নরসুন্দা নদীর গা–ঘেঁষা প্রিয় ক্যাম্পাসটি আমার! কৃষ্ণচূড়ার মৌসুমে পুরো ক্যাম্পাসে লেগে যায় ফুলের আগুন। এই ক্যাম্পাস আমার বড় ভালোবাসার জায়গা।'

তায়্যিবা আফরোজ, নুসরাত জাহান, আফজাল আহমেদ, তুষার ইমরান, সাইফুল ইসলামসহ কলেজের বেশ কজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা হলো। তাঁরা বলেন, 'করোনা মহামারি পরিস্থিতিতে প্রায় দেড় বছর ক্যাম্পাসে পা রাখা হয়নি। ক্লাস, বন্ধুদের সঙ্গে ক্যানটিনে বসে শিঙাড়া-চপ খাওয়া, আড্ডা দেওয়া, গান গাওয়া, মুক্তমঞ্চের সৌন্দর্য—সবকিছু থেকেই বঞ্চিত হয়েছি এ কদিন। জীবনের সুন্দর মুহূর্তগুলো আবার ফিরে পাওয়ার আশায় দিন গুনছিলাম। সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি মেনে দীর্ঘ দেড় বছর পর শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আমরা আবার নতুন করে নিজেদের আবিষ্কার করছি।'

প্র স্বপ্ন নিয়ে থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন