default-image

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে গত ১৭ মার্চ অনেকটা আকস্মিকভাবেই বন্ধ হয়ে যায় দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো ঐতিহ্যবাহী ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরাও বিপাকে পড়ে গিয়েছিল। বিকল্প উপায়ে কীভাবে পড়াশোনা চালু রাখা যায়, কলেজের অধ্যক্ষ নেহাল আহমেদের সঙ্গে তা নিয়ে কথা বলেন কয়েকজন শিক্ষক। তাঁরাই অনলাইনে ক্লাস চালুর প্রস্তাব দেন। অধ্যক্ষের উৎসাহে ঢাকা কলেজের নামে ফেসবুকে পেজ খুলে শুরু হয় সীমিত পরিসরের অনলাইনে ক্লাস।

প্রচুর সাড়া পেয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ এই উদ্যোগকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির সঙ্গে ফোনে কথা বলেন কলেজের অধ্যক্ষ। মন্ত্রীও উৎসাহ দেন। এরপর মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পেয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কলেজের দোতলায় স্থাপিত শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য ফেসবুক লাইভে (সরাসরি) বিষয়ভিত্তিক ক্লাস নেওয়া শুরু করেন শিক্ষকেরা।

ফেসবুক পেজটি যেহেতু উন্মুক্ত রাখা হয়েছিল, তাই অন্যান্য কলেজের শিক্ষার্থীরাও ক্লাসে অংশ নিত। দেখা গেল, কোনো কোনো ক্লাসের ‘ভিউ’ লাখ ছাড়িয়ে যায়। অধ্যক্ষ নেহাল আহমেদ বলেন, ‘১ এপ্রিল প্রথমে উচ্চমাধ্যমিক দিয়ে শুরু করলেও পরে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর স্তরেও অনলাইনে ক্লাস শুরু করি আমরা। কলেজপর্যায়ে আমরাই প্রথম অনলাইনে ক্লাস শুরু করেছিলাম।’

বিজ্ঞাপন

এরপরে অন্যান্য কলেজও একইভাবে অনলাইনে ক্লাস নিতে শুরু করে। তখন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর অন্যান্য কলেজেও অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার জন্য আদেশ জারি করে। ঢাকা কলেজে এখন মোট শিক্ষার্থী সাড়ে ১৫ হাজার। এর মধ্যে উচ্চমাধ্যমিকে পড়ে প্রায় ২ হাজার ৪০০ জন। মোট ১৯টি বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর রয়েছে।

কলেজের ইংরেজি বিভাগের একজন ও পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের দুজন শিক্ষক জানালেন, একপর্যায় তাঁরা অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়ার কথা ভাবলেন। তখন সিদ্ধান্ত হয়, নির্ধারিত সফটওয়্যার ব্যবহার করে কলেজের উচ্চমাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেওয়া হবে। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বহু নির্বাচনী প্রশ্নে (এমসিকিউ) অনলাইনে পরীক্ষা নিয়ে কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের দ্বাদশ শ্রেণিতে উত্তীর্ণ করা হয়। অনলাইনে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির ব্যবস্থাও রাখা হয়। প্রথমবার যারা উত্তীর্ণ হতে পারেনি, পরে তারা আবার পরীক্ষার সুযোগ পায়।

ঢাকা কলেজের পদার্থবিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক মো. ওবায়দুল করিম বলেন, সময়সূচি ঠিক করে পাঠ্যক্রম অনুযায়ী তাঁরা ক্লাস নেন। আগেই এই সময়সূচি জানিয়ে দেওয়া হয়। মন্তব্যের ঘরে গিয়ে শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন করার সুযোগও পাচ্ছে। প্রশ্নের জবাব দেন শিক্ষকেরা।

default-image

পটুয়াখালী এগিয়ে

পটুয়াখালীর তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মার্চের শেষ দিকে অনলাইনে ক্লাস নেওয়া শুরু করে, যাতে মহামারির কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেলেও শিক্ষর্থীরা পিছিয়ে না পড়ে। এই তিনটি প্রতিষ্ঠান হলো পটুয়াখালীর শহরের পটুয়াখালী কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মির্জাগঞ্জ উপজেলার ঝাটিবুনিয়া জে আর নিম্নমাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় এবং গলাচিপা উপজেলার সুহরী মাধ্যমিক বিদ্যালয়।

সবার আগে ২৪ মার্চ থেকে ফেসবুক পেজ খুলে অনলাইনে পাঠ দেওয়া শুরু করে ঝাটিবুনিয়া জে আর বালিকা বিদ্যালয়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নাসির উদ্দিন জানান, ‘আমরা মোবাইল ফোনে অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে এই কার্যক্রম শুরু করি।’

২৭ মার্চ পটুয়াখালী কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং সুহরী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ও ফেসবুক পেজের মাধ্যমে অনলাইন ক্লাস শুরু করে। সুহরী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দায়িত্ব প্রতিটি শ্রেণির জন্য ২ জন শিক্ষককে দেওয়া হয়। যাঁরা প্রতিনিয়ত মুঠোফোনে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। স্কুলের প্রধান শিক্ষক রাজা মিয়া জানান, ফেসবুক পেজে প্রতি সপ্তাহের জন্য নির্ধারিত করে রুটিন দেওয়া হয়। এই পেজে প্রতিদিন শিক্ষকেরা ৩–৪টি করে ক্লাস আপলোড করেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0