default-image

গ্রিন ইউনিভার্সিটি কালচারাল ক্লাব

প্রতিবছর পয়লা বৈশাখ গ্রিন ইউনিভার্সিটি কালচারাল ক্লাবের কাছে মহাব্যস্ততার দিন। কিন্তু করোনার প্রকোপে এ বছর অনলাইনে আয়োজন করা হয়েছিল ‘সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা’। সদস্যরা নিজের বাড়ি থেকেই গিটার-হারমোনিয়াম নিয়ে হাজির হন এই আয়োজনে। চলে হইহুল্লোড়।

অনলাইনকে বিকল্প হিসেবে নিয়ে সাংস্কৃতিক সংগঠনটি অবশ্য আরও আগে থেকেই কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। করোনাকালের একদম শুরু থেকে ক্লাবটির আয়োজনে শুরু হয় হেলথ ক্যাম্প, যেন শিক্ষার্থীদের সচেতন করার পাশাপাশি প্রতিনিয়ত দেওয়া যায় অনুপ্রেরণা। এ ছাড়া শোক দিবসসহ বিভিন্ন জাতীয় দিবসে ছিল কবিতা আবৃত্তিসহ নানা আয়োজন।

‘শিক্ষার্থীরা একে তো করোনার কারণে মানসিক অবসাদে ভুগছিল, একই সঙ্গে অনলাইন ক্লাসের চাপ তো ছিলই। সব মিলিয়ে শুরুর দিকে তারা বেশ হতাশার মধ্যেই পড়ে গিয়েছিল। সাংস্কৃতিক সংগঠন থেকে আমরা অনলাইন ক্যাম্পিং এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজনের মধ্য দিয়ে সদস্যদের অবসাদ থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করেছি, ’ বলছিলেন ক্লাবটির মডারেটর ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আব্দুল্লাহ-আল-মাসুম।

কালচারাল ক্লাবের সদস্যরা এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন তাঁদের বিজয় দিবসের আয়োজন নিয়ে। অনলাইনেই অনুষ্ঠিত হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও কুইজ প্রতিযোগিতা। তা নিয়ে পরিকল্পনার শেষ নেই সদস্যদের। কারা অতিথি হবেন, কী কী থাকবে সাংস্কৃতিক আয়োজনে—চলছে আলাপ-আলোচনা।

বিজ্ঞাপন
default-image

গ্রিন ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং ক্লাব

গ্রিন ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং ক্লাবের সদস্যরা সপ্তাহে দুই দিন বসতেন পাঠচক্রে। তার ফাঁকেই চলত বিতর্ক অনুশীলন। কিন্তু করোনাকালে এখন প্রতিদিন বসছে পাঠচক্র। নিজেদের পড়া বই নিয়ে অনলাইনে আলোচনার পাশাপাশি সাম্প্রতিক নানা ইস্যু নিয়ে নিজেদের জানাশোনা ঝালাই করে নিচ্ছেন সদস্যরা। আর ‘এই সংসদ এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের অটো পাস সমর্থন করে’ কিংবা ‘করোনার পর বাংলাদেশ আর সস্তা শ্রমের দেশ থাকবে না’—এমন সব বিষয়ে যুক্তির ঝড় তুলছেন সপ্তাহে অন্তত তিন দিন।

‘সবাই ক্লাবরুমে এলে যে ভালো লাগা কাজ করত, তা তো আর অনলাইনে পাওয়া সম্ভব না। তবে এর মধ্য দিয়েও অনলাইনের সুফলটা আমরা নেওয়ার চেষ্টা করছি। তাতে আমাদের সদস্যরা ক্লাবের সঙ্গে থাকছে, ব্যস্ত থাকছে, একই সঙ্গে আমরা প্রচুর বিতর্কচর্চার সুযোগ পেয়েছি,’ বলছিলেন ক্লাবের সভাপতি সাইয়্যেদিস সালেহীন।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে জাতীয় পর্যায়ে ক্লাবটি আয়োজন করেছে চারটি বিতর্ক প্রতিযোগিতা। সে অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে গ্রিন ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং ক্লাব আরেকটি বড় আয়োজন করতে যাচ্ছে অনলাইনে। এ মাসের ১০ তারিখ থেকে দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হবে ‘নবম ডিবেটার হান্ট ২০২০’। যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়টির নতুন শিক্ষার্থীরা, যাঁরা করোনাকালে ভর্তি হয়েছেন, তাঁরা অংশ নেবেন। ডিবেটিং ক্লাব মনে করছে, বাসায় বসেই যাঁরা অন্তত দুই সেমিস্টার শেষ করে ফেললেন, কিন্তু ক্যাম্পাসের কোনো ‘স্বাদ’ পেলেন না, তাঁদের জন্য ডিবেটার হান্ট উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করবে।

মন্তব্য পড়ুন 0