default-image

১৯৩০ সালে যখন লেবাননে চরম অর্থনৈতিক দুর্যোগ চলছে, আমার বাবা তখন জন্মেছিলেন। ভাগ্যিস, যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকার সুযোগ তাঁরা পেয়েছিলেন। কলম্বিয়ায় থিতু হওয়ার আগেই পরিবারের সব সদস্যকে এখানে নিয়ে এসেছিলেন।

আমার কাছে কলম্বিয়া বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর, সবচেয়ে বৈচিত্র্যপূর্ণ দেশ। কিন্তু এখানে অসমতা বড় প্রকট, সামাজিক সংহতির খুব অভাব। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রকে আমার কাছে মনে হয় সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরির আদর্শ জায়গা, যেখানে সফল হতে পারে যে কেউ। অথচ যে দেশ দাঁড়িয়েছে অভিবাসীদের কাঁধে, যেখানে পারিবারিক মূল্যবোধকে এত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়, তাদের অভিবাসননীতি কেমন করে এত অকল্পনীয় নিষ্ঠুর হয়? শিশুদের তাদের পরিবার থেকে আলাদা করাকে আপনি কোন যুক্তিতে সমর্থন করবেন? যেখানে যুক্তরাষ্ট্র সেই সব মানুষের জন্য আশার মশাল, যাদের মৌলিক চাহিদা বা নিরাপত্তার নিশ্চয়তা নেই?

বিজ্ঞাপন

যুক্তরাষ্ট্রকে বলা হয় ‘ল্যান্ড অব দ্য ফ্রি’। অথচ এ দেশেরই মেক্সিকো সীমান্তের কাছে এখন ৫৪৫ জন শিশু নো ম্যানস ল্যান্ডে আটকে আছে। বাবা–মাকে ছেড়ে বেড়ে ওঠার ঝুঁকিতে আছে তারা। ৫৪৫ জন শিশু যখন ঘুমাতে যায়, যেকোনো মুহূর্তে তাদের খারাপ কিছু হবে না, এই নিশ্চয়তা তাদের কেউ দেয় না। ৫৪৫ জন শিশু—ওরা কাউকে জড়িয়ে ধরে না, হাসে না, ভালোবাসার মানুষের সংস্পর্শ পায় না।

ধারণা করা হয়, এই শিশুদের মধ্যে ৬০ জনকে যখন বাবা–মায়ের কাছ থেকে আলাদা করা হয়েছিল, ওদের বয়স ছিল ৫ বছরের কম। মা হিসেবে আমি আমার ৫ বছরের সন্তানের কথা ভাবি। হাঁটু ছিলে গেলে ও যেভাবে আমার জন্য কাঁদে, আর ওকে সান্ত্বনা দিতে না পারলে আমার কী যে অস্বস্তি হয়, সেই অনুভূতির কথা আমি ভাবছি। মা–বাবা ছাড়া ওই শিশুরা যখন কাঁদে, কে সাড়া দেয়? আমার সন্তান কোথায় আছে, নিরাপদে আছে কি না, সেটা আমি জানি না, এই ব্যথার কথা আমি কল্পনাও করতে পারি না। এই শিশুরা কী ভয়ের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে, তাদের মনে কেমন ক্ষত তৈরি হচ্ছে, সেটা আমি ভাবতেও চাই না।

‘ফ্যামিলি সেপারেশন’–এর মতো নীতি তৈরি হয়েছে নিষ্ঠুরতা থেকে। প্রতিটি শিশুর তার মৌলিক চাহিদা পূরণ, শিক্ষা লাভ ও বড়দের ভালোবাসায় বেড়ে ওঠার অধিকার আছে। পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে এই শিশুরা যেই মানসিক অশান্তির মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছে, এই অশান্তি আজীবন তাদের সঙ্গী হয়ে থাকবে।

কেউ কেউ বলতে পারছেন, এই শিশুদের বাবা–মায়েরাই ওদের এই পরিণতির দিকে ঠেলে দিয়েছেন। কিন্তু অনেক পরিবারই সহিংসতা, দারিদ্র্য, নিপীড়ন, জলবায়ু বিপর্যয় থেকে বাঁচতে যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে আসে। বাড়ি ছাড়া কোনো সহজ সিদ্ধান্ত নয়। এটা রাজনীতির কোনো বিষয় নয়। এই নিষ্পাপ শিশুদের ক্ষতি করার পেছনে কোনো যুক্তি নেই এবং এই নিষ্ঠুর নীতি যারা তৈরি করেছে, তাদের এই দায় নিতে হবে।

আমাদের সমাজে অভিবাসীদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশের সবচেয়ে ভালো সময় এখনই। কারণ, এক মহামারি আমাদের কাছ থেকে অনেক কিছু কেড়ে নিয়েছে। অভিবাসীদের প্রায়ই সম্মুখ সারির যোদ্ধাদের মধ্যে পাওয়া যায়। আমাদের রোগমুক্ত ও নিরাপদে রাখতে তাঁরা অনেক কম পারিশ্রমিকে ও ভয়ংকর পরিবেশের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাজগুলো করে যাচ্ছেন। ভাঙা পরিবার জোড়া লাগার আনন্দ তাঁদের প্রাপ্য। (সংক্ষেপিত)

ইংরেজি থেকে অনুদিত

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0