বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে টানা তিনবারের দাবায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন রুমানা ফেরদৌস। বেস্ট বোর্ড প্লেয়ার, বেস্ট ফিমেল প্লেয়ার, আন্তবিশ্ববিদ্যালয় দাবা প্রতিযোগিতায় ব্রোঞ্জ পদকসহ বহু পুরস্কার আছে তাঁর ঝুলিতে। ২০১৬ সালে পেয়েছেন আন্তর্জাতিক ফিদে রেটিং, ২০২০–এ এসে তাঁর স্ট্যান্ডার্ড ফিদে রেটিং ১৫৪০। তিনি জাতীয় পর্যায়ে দাবা খেলার একজন বিচারক (ন্যাশনাল আরবিটার)। বাংলাদেশের প্রথম নারী হিসেবে ফিদে আরবিটার খেতাবও শিগগিরই পাবেন বলে জানালেন। ফিদে আরবিটার পরীক্ষায় দুর্দান্ত ফল করেছেন তিনি, ১০০–তে পেয়েছেন ৯৫!

সাত বছর বয়সে বড় ভাই ফয়সালের কাছে দাবায় হাতেখড়ি হয়েছিল। প্রথম খেলায় স্বাভাবিকভাবেই হেরেছিলেন। কিন্তু এরপর আর স্বজনদের মধ্যে কেউ তাঁকে হারাতে পারেনি। ছোটবেলা থেকেই দাবায় তাঁর দক্ষতা সবাইকে অবাক করত। কিন্তু দীর্ঘ সময় দাবা থেকে দূরে থাকতে হয়েছিল রুমানাকে।

রুমানা তখন তৃতীয় বা চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী। বাংলাদেশ টেলিভিশনে দাবা খেলা দেখতেন। পত্রিকায় দাবা নিয়ে কোনো খবর থাকলে মনোযোগ দিয়ে পড়তেন। ববি ফিশার আর মিখাইল তাল তখন থেকেই তার প্রিয় দাবাড়ু। আর ওদিকে রুমানাদের রক্ষণশীল পরিবারে দাবা খেলাটাকে একরকম খারাপ চোখেই দেখা হতো। রুমানা তখন যতবার বাসায় বলেছেন তাঁকে ফেডারেশনে নিয়ে যেতে, তিনি দাবা খেলা শিখতে চান, ততবারই নিরুৎসাহিত করা হয়েছে তাঁকে। তারপরও দাবাই ছিল প্রিয় সঙ্গী। একবার বার্ষিক পরীক্ষার আগের দিনও দাবা নিয়ে বসে ছিলেন। অনেক দিন ধরে চলতে থাকা দ্বন্দ্বের চূড়ান্ত সমাধান হয়ে গেল সেদিন। রুমানার কাছ থেকে কেড়ে নিয়ে দাবা বোর্ড পুড়িয়ে ফেলা হলো, ফেলে দেওয়া হলো দাবার গুটিগুলো। সেদিন রুমানা ঠিক করেছিলেন, বড় হয়ে যদি নিজে ফেডারেশনে যেতে পারেন, তবেই খেলবেন দাবা।

সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন রুমানা। ঠিকই বিশ্ববিদ্যালয়ে ওঠার আগে আর দাবা খেলেননি। কিন্তু জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে গিয়ে দেখেন সেখানে কোনো ‘চেস ক্লাব’ নেই। ভালো ছাত্রী ছিলেন বলে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকেরা পছন্দ করতেন। সেই সুবাদে ক্যাম্পাসে চেস ক্লাবের যাত্রা শুরু হলো রুমানার হাত ধরে। দীর্ঘদিন চর্চা ছিল না, শুরুতে পেরে ওঠেননি প্রতিপক্ষের সঙ্গে। তাই রুমানা দাবা নিয়ে লেখা বই পড়তে শুরু করলেন। চলল ইন্টারনেটে বিভিন্ন ভিডিও দেখা, নিবন্ধ পড়া। ফেডারেশনেও তিনি একাই হাজির হয়েছিলেন নির্ভীক সৈন্যের মতো। তাই বোধ হয় দাবায় তাঁর সবচেয়ে প্রিয় গুটি সৈন্য।

একদিন গ্র্যান্ডমাস্টার হওয়ার স্বপ্ন রুমানা ফেরদৌসের। এই দীর্ঘ যাত্রায় কত কত পুরস্কার পেয়েছেন। কোন অর্জনটা সবচেয়ে প্রিয়? উত্তরে রুমানা বলেন, ‘এই যাত্রাই আমার বড় অর্জন। দাবা খেলে যে এই পর্যায়ে আসতে পারব—এমনটা ভাবার সাহসও হতো না এক সময়।’ নিজেই নিজেকে অনুপ্রেরণা দিয়ে এতটা পথ পাড়ি দিয়েছেন। এখন অবশ্য বন্ধু-স্বজনেরাও বুঝতে পেরেছেন, দাবায় রুমানার ভালো দখল আছে। তাই তাঁরাও অনুপ্রেরণা দেন রুমানাকে।

প্র স্বপ্ন নিয়ে থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন