রাহী এখন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীববিজ্ঞান বিভাগে পড়ছেন। ছোটবেলা থেকে গানের চর্চা না করলেও স্কুল-কলেজের নানা আয়োজনে নিয়মিতই গান গাইতেন। কবিতা লেখার অভ্যাসটা যদিও আরও আগে থেকেই ছিল। উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার পরের লম্বা ছুটিতে গিটারের প্রেমে পড়েন রাহী। গিটারের টুংটাং যখন একটু আয়ত্তে আসে, তখন নিজের লেখা কবিতাগুলোতে সুর দেওয়া শুরু করেন। এর পর থেকে নিজে লিরিক লেখা, সুর করা থেকে গাওয়া, সব করেছেন একাই। ‘অ্যাশট্রে’ শিরোনামের একটি গান দিয়ে এই যাত্রা শুরু হয় রাহীর। এর পর থেকে নিয়মিতই নতুন নতুন গান করছেন তিনি।

কিন্তু গান লেখা, সুর করা, গাওয়া, এত সব জটিল কাজ একাই করে একাডেমিক দিকটা কীভাবে সামলান? রাহী বলেন, ‘সত্যি বলতে গান আমার একাডেমিক জীবনে কোনো প্রভাব ফেলতে পারে না। কারণ, আমি মূলত অবসর সময়টাই গানকে দিই। একটা সুবিধা হলো, কোনো একটা গান নিয়ে একবার বসলে সেটা লেখা থেকে শুরু করে সুর করা, পুরোটা আমি এক বসায় শেষ করতে পারি।’

অ্যাশট্রে গান দিয়ে গানের ভুবনে পদচারণ শুরু হলেও রাহীর জীবনের টার্নিং পয়েন্ট মূলত টাইটেল: ১০১। তাঁর চতুর্থ গান। পেছনের গল্পটা বলছিলেন রাহী। ‘টাইটেল ১০১ গানটি করোনাকালে ভাইরাল হলেও এটা মূলত ২০১৮ সালে তৈরি। এরপর গানটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন আড্ডায় নানা সময়ে গাওয়া হয়েছে। আমাদের ক্যাম্পাসের ১১তম ব্যাচের থিম সং হিসেবে এটি প্রিমিয়ার হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে আর সম্ভব হয়নি। তারপর করোনাকালে ঘরবন্দী সময়ে যখন গানটির ভিডিও ফেসবুকে পোস্ট করলাম, তারপর থেকেই সবার কাছ থেকে অবিশ্বাস্য সাড়া পেয়ে নিজেও কিছুটা অবাক হয়েছি।’

টাইটেল ১০১ গানটি ইউটিউবে প্রায় ১ কোটি মানুষ দেখেছেন। ফেসবুকেও সাড়া ফেলেছে একই রকমভাবে। এত ‘ভিউ’ রাহীর জীবনে কী পরিবর্তন নিয়ে এল? বললেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমার জীবনে আসলে তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি। কিন্তু এখন কোথাও গেলে হয়তো মানুষ সহজেই আমাকে চিনতে পারে। আগের চেয়ে বেশি মানুষ আমাকে চেনে বলে আমার ভালো লাগে, ব্যাপারটি আসলে তেমন নয়। কিন্তু মানুষ যখন বলে আমার গানটা তাদের ভালো লেগেছে, সেটাই আমার আনন্দ। তখন মনে হয় হয়তো একজন মানুষের কথা হলেও আমি আমার সৃষ্টির মাধ্যমে বলতে পেরেছি।’

গানকেই ক্যারিয়ার হিসেবে নেওয়ার কথা ভাবছেন না রায়হান রাহী। তিনি বলেন, ‘আমি আসলে শখের বসে গান করি। যে বিষয় নিয়ে পড়ছি, সেদিকেই ক্যারিয়ার গড়ার ইচ্ছা আছে। তবে এটা ঠিক যে আমার মাথায় যত দিন পর্যন্ত শব্দ আসছে, তত দিন পর্যন্ত লিরিক লিখে যাব। যত দিন পর্যন্ত আমি গুনগুন করে সুর করতে পারছি, তত দিন পর্যন্ত গান করে যাব।’

প্র স্বপ্ন নিয়ে থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন